বিজ্ঞাপন
তার মেধা, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কেউ নেই। তাকে যারা চেনেন, জানেন; তারা সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম শীর্ষ কর্তা হওয়ার সব রকম গুণাবলী আছে রাবিদ ইমামের। বিসিবির জেনারেল ম্যানেজার হওয়ার যোগ্যতা রাখেন রাবিদ ইমাম। জিএম বিসিবি কেন, তাকে যদি বিসিবির সিইও করা হয়, সেটাকেও বাড়াবাড়ি বলবেন না কেউ। যথেষ্ট লেখাপড়া জানা মানুষ। বুদ্ধিমান, স্মার্ট।
উপস্থাপন ও ব্যবস্থাপনা ক্ষমতাকে মানদণ্ড ধরলে বিসিবির সিইও হওয়ার সব যোগ্যতাই আছে তার। কিন্তু সিইও, জিএম বহুদূরে। এতকাল রাবিদ ইমাম মিডিয়ার সিনিয়র ম্যানেজারের চৌহদ্দিই পেরোতে পারেননি। এমনকি এজিএমও হতে পারেননি।
এমন নয়, রাবিদ ইমামের প্রমোশন হয়নি। হয়েছে। মিডিয়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার, হেড অব মিডিয়াও হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগেই। অবশেষে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এজিএম হয়েছেন। তাকে অল্প কিছুদিন আগে বিসিবির অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কেন তিনি এতকাল জিএম কিংবা এজিএম হতে পারেননি? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, ওপরে সিইও ছাড়া বিসিবিতে জিএম, এজিএম পদে কেউ নেই। এমন নয় সেটা ইদানীং নেই। কখনোই ছিল না। বিসিবিতে সিইও ছাড়া জিএম আর এজিএম পদে কাউকে কখনো নিয়োগই দেওয়া হয়নি।
অবশেষে রাবিদ ইমামকে এজিএম করা হলো। তবে তিনি এজিএম হলেও জিএম পদও কিন্তু শূন্য। সে পদে কেউ নেই।
ধারণা করা হচ্ছে, রাবিদ ইমামই হতে পারেন বিসিবির ভবিষ্যৎ জিএম। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়ানো হাতে গোনা কজন মানুষের একজন তিনি। বিসিবির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রায় ২ যুগের। সেই ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মেধাবী রাবিদ ছিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির ছাত্র। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়, বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রিকেট প্রশিক্ষক মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের সঙ্গে বিকেএসপির প্রথম ব্যাচের ছাত্র রাবিদ।
বিকেএসপি থেকে পাশ করে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন কয়েক বছর। তারপর সাংবাদিকতা করেন। দেশ প্রসিদ্ধ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের হয়ে ক্রীড়া সাংবাদিকতা করেন বেশ কয়েক বছর। তারপর ২০০৫ সালে যোগ দেন বিসিবিতে।
অল্প সময়ের মধ্যেই বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার বনে যান। তারপর নিজ কর্মদক্ষতায় ২১ বছর বিসিবির মিডিয়া ডিপার্টমেন্টকে আগলে রেখেছেন নিপাট ভদ্রলোক রাবিদ। অবশেষে দীর্ঘদিন পর মিডিয়া ছেড়ে বিসিবির অন্যতম শীর্ষ কর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
আজ ২৬ আগস্ট জাগো নিউজের সাথে আলাপে রাবিদ জানান, ‘হ্যাঁ, এই অতি সম্প্রতি আমি বিসিবির এজিএম পদে নিয়োগ পেয়েছি। খুব শিগগিরই আমি এজিএম হিসেবে কাজ শুরু করবো। তখন আপনা-আপনি মিডিয়া ছেড়ে দিতে হবে।’
বিসিবির এজিএম পদে নিয়োগ পেলেও রাবিদ ইমামের কাজের ক্ষেত্র হবে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির কাজটাই তদারক করবেন রাবিদ।
বলে রাখা ভালো, বিসিবির অন্যতম পরিচালক শানিয়ান তানিম হচ্ছে বিসিবি হাই পারফরম্যান্স ইউনিট ‘এইচপি’র চেয়ারম্যান।
জাতীয় দলের সাবেক প্রধান সহকারী প্রশিক্ষক মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এইচপির চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার কাম কোচের দায়িত্ব পালন করবেন।
রাবিদ সেই পুরো এইচপির কার্যক্রম তদারক, ব্যবস্থাপনায় থাকবেন। এইচপির পুরো প্রোগ্রামটির সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক থাকবেন রাবিদ ইমাম।
রাবিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতি শিগগিরই বিসিবি একাডেমি ভবনে এইচপির নতুন অফিস হবে। এখন তার নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে বিসিবি মিডিয়া রুম ছেড়ে রাবিদ বসবেন একাডেমি ভবনে।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে বসে রাবিদের নতুন কর্মক্ষেত্র এবং কর্মপরিধি নিয়ে কথা হবে বলে জানা গেছে।
এআরবি/এমএমআর
বিজ্ঞাপন