বিজ্ঞাপন
কেটলিতে ফুটছে গরম চা, টেবিলে সাজানো বাহারি রঙের পান। অপেক্ষা করছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূর দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। এ চিত্র বাগেরহাট খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন অন্তত ৩০ টি দোকানের। বিকাল পড়তেই ভিড় জমতে শুরু করে এই দোকান গুলোতে। রাত বাড়লেই বাড়ে বেচাকেনা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
একটি টি স্টোরের মালিক মোহাম্মদ তুহিন (৩৫) বলেন, ‘খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজারে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসে। এখানের দুধ চা আর বাহারি পান স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয়। প্রতিদিন এখানে দুধ চা ও বাহারি রকমের পান খেতে হাজার হাজার লোক আসে। আমি এখানে প্রতিদিন ৬শ কাপের মতো দুধ চা ও ২শ থেকে ৩শ কাপের মতো রং চা বিক্রি করি। এখানে রং চায়ের চেয়ে দুধ চা বেশি বিক্রি হয়। এছাড়া ৫শ থেকে ৬শ পান বিক্রি করি।’
ঢাকায় কর্মরত কর আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুই ঈদ ও পূজার ছুটিতে বাগেরহাট আসলে আমরা বন্ধুরা এখানে চায়ের আড্ডা দিই। এ আড্ডা ছাড়া আমাদের ছুটি জমে না। এখানকার দুধ চা আমার খুব প্রিয়। দোকানদাররা পরম যত্নে দুধ চা বানিয়ে দেন।’
শহর থেকে একটু দূরে ডেমা এলাকার তাফসিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় এখানে দুধ চা খেতে আসি। মাজারের এই চায়ের স্বাদ অতুলনীয়। আমরা বাইরের জেলার কোনো অতিথি আসলে তাদের আপ্যায়ন করতে এখানে নিয়ে আসি। আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী চা পান খাওয়ায় দিই।’
পান প্রেমী হোসেন শেখ বলেন, ‘মাজারে আসলে এখানকার পান আমার খেতেই হবে। এখানকার পানের স্বাদ অন্যান্য জায়গার থেকে আলাদা। দোকানদাররা রং বেরঙের বিভিন্ন মসলা দিয়ে খুব সুন্দর করে পান বানিয়ে দেয়। অনেক সময় শুধুমাত্র পান খেতেই গ্রাম থেকে মাজারে আসি।
আসাদ শেখ নামের আরেক দোকানদার বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রচুর দুধ চা আর স্পেশাল এই পান বিক্রি হয়। স্থানীয় লোকজনের থেকে বাইরের কাস্টমার বেশি আসে। শুধু চা পান খেতে আর আড্ডা দিতে অনেক দূর থেকে মানুষ আসে। এইটা আমাদের মত দোকানদারদের জন্য সৌভাগ্য। আমরাও আমাদের সাধ্যমত সেরা দুধ চা আর হরেক রকম মসলা দিয়ে পান বানিয়ে খাওয়ায়।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার এবং ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আসেন। এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে মাজারে বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনোদনের জায়গা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে এখানের পান ও দুধ চা প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে খুব জনপ্রিয়। অনেকে পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেয়, দুধ চা খায়, পান খায়। আমরা তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখভাল করি। স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকরা ভালো নিরাপত্তা, মনোরম পরিবেশ পেয়ে এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতে পারে।
এনএফজেডআই/কেএসকে
বিজ্ঞাপন