জাতীয়

আয়কর রিটার্নে তথ্য গোপন করলে শাস্তি কী জানেন?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চলছে ২০২৬-২০২৭ আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া। অনেকেই নিজে নিজে কাজটি করছেন, অনেকে আবার কাউকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আয়, সম্পত্তি, দায় কিংবা ব্যয়ের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া মোটেও সাধারণ ভুল হিসেবে দেখা হয় না। বরং কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা হলে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত আয়কর আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। যে ধরনের তথ্য গোপন করলে সমস্যা হতে পারে রিটার্নে শুধু আয় কম দেখানোই নয়, করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে সম্পত্তি, দায় বা ব্যয় সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে অসত্য তথ্য দেওয়াও আইনের আওতায় পড়তে পারে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩১২-তে কর পরিহারের চেষ্টার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এনবিআরের প্রকাশিত আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করদায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং আয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, তাহলে সেটি কর পরিহারের চেষ্টার মধ্যে পড়তে পারে। একইভাবে সম্পত্তি, দায় ও ব্যয় সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়াও এর আওতাভুক্ত। অর্থাৎ রিটার্নে প্রকৃত আয় বা সম্পদের তথ্য না দেখিয়ে কর কমানোর চেষ্টা করলে সেটি পরে ধরা পড়লে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড আয়কর আইন, ২০২৩-এর ৩১২ ও ৩১৩ ধারা অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন বা মিথ্যা/শূন্য রিটার্ন দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আইনে কারাদণ্ডের ন্যূনতম মেয়াদও ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। একই ধারায় অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধরন, প্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। তাই ‘ভুল করে একটি তথ্য বাদ পড়া’ এবং ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কর কমানোর জন্য তথ্য গোপন করা’ দুই বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক নয়। সম্পত্তির তথ্যেও সতর্ক থাকতে হবে অনেকেই মনে করেন, আয় কম দেখালেই বিষয়টি শেষ। কিন্তু করদায়ের পরিমাণ কমানোর উদ্দেশ্যে সম্পত্তি, দায় বা ব্যয়ের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল দেখালেও আইনি ব্যবস্থা হতে পারে। এনবিআরের প্রকাশিত আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পত্তি, দায় ও ব্যয় সম্পর্কে অসত্য বিবরণ দেওয়া কর পরিহারের চেষ্টার মধ্যে পড়তে পারে। তাই রিটার্নে বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, বিনিয়োগ বা অন্যান্য সম্পদের তথ্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। হিসাব বা নথিতে মিথ্যা তথ্য দিলেও বিপদ শুধু রিটার্ন ফরমেই নয়, আয় বা নিয়ন্ত্রণাধীন হিসাব, দলিল বা সংশ্লিষ্ট বিবরণীতে অসত্য তথ্য দেওয়াও আইনের আওতায় আসতে পারে। এমনকি কোনো হিসাব বা বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি তৈরি করা বা করানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলার বিষয়টিও ধারা ৩১২-তে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে করদাতা বা তার পক্ষে রিটার্ন প্রস্তুতকারী ব্যক্তিকে তথ্য দেওয়ার সময়ও যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। আরও পড়ুন অন্যান্য বছরের থেকে এবারে আয়করের কী কী পার্থক্য, জেনে রাখুন মিথ্যা বিবৃতির জন্যও আলাদা শাস্তি আয়কর আইনের ধারা ৩১৩-তেও মিথ্যা বিবৃতির বিষয়ে শাস্তির বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি এমন হিসাব বা বিবৃতি দিলে, যা তিনি মিথ্যা বলে জানেন বা বিশ্বাস করেন, কিংবা সত্য বলে বিশ্বাস করেন না, তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এখানেও ন্যূনতম ছয় মাসের কারাদণ্ডের কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ রিটার্নে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে জেনে-শুনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। শুধু ‘জিরো’ হলেই দায় শেষ নয় করদায় নেই বা আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে এমন পরিস্থিতি আর ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত আয়-সম্পদ গোপন করে সবকিছু শূন্য দেখানো এক বিষয় নয়। রিটার্ন দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতার প্রকৃত তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করাই গুরুত্বপূর্ণ। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩-এ নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তির জন্য রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তাই নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না এবং কী কী তথ্য দিতে হবে, তা আইন ও প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করা উচিত। আরও পড়ুন লোকসান হলেও টার্নওভার ট্যাক্স! চাপে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা রিটার্ন দেওয়ার সময় কী করবেন? প্রথমত, আয়, সম্পত্তি, দায়, বিনিয়োগ ও ব্যয়ের তথ্য হাতে থাকা নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে অনুমান করে সংখ্যা বসানোর বদলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা ভালো। এছাড়া করদায়ের পরিমাণ কমানোর উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে আয়কর বিষয়ে অভিজ্ঞ পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কর কম দেওয়ার জন্য তথ্য গোপন করা আর প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে আইনসম্মত কর সুবিধা নেওয়া এক নয়। তাই রিটার্নে তথ্য দেওয়ার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই নিরাপদ পথ। সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আয়কর আইন, ২০২৩ কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>