ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পিছিয়ে রাবি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ ও অ্যাকাডেমিক মানদণ্ড মূল্যায়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এই সূচকে দেশের অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। সামগ্রিক চিত্রের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ও বিভাগভেদেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে মাঝে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৪টি বিভাগে ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। ‘স্বায়ত্তশাসিত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। সে তুলনায় রাবিতে প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক’ টাইমস হায়ার এডুকেশন ও কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংসের মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতকে শিক্ষার পরিবেশ মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা ও বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাম্য অনুপাত প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক। সর্বোচ্চ সহনীয় সীমা প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক ধরা হয়। সেই হিসেবেও রাবির ৩৪টি ইনস্টিটিউট ও বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত সহনীয় সীমার চেয়ে অনেক বেশি। ইউজিসির ২০২৫ সালে প্রকাশিত ৫০তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, স্বায়ত্তশাসিত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। সে তুলনায় রাবিতে প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী শিক্ষকের অনুপাত আরও কম। হিসাব অনুযায়ী, রাবিতে বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। শিক্ষক রয়েছেন এক হাজার ২০০ জনের মতো। এ হিসেবে বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত দাঁড়ায় একজন শিক্ষকের বিপরীতে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ গড়ে একজন শিক্ষককে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে হচ্ছে। ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত শিক্ষার মান ও পাঠদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রভাব ফেলে। অনুপাত ঠিক না থাকলে একজন শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর চাপ বেড়ে যায়। ফলে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষার্থীকে কার্যকরভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে’—আইকিউএসি পরিচালক ইউজিসি প্রকাশিত সবশেষ পাঁচটি বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের কিছুটা উন্নতি হলেও তা ধারাবাহিক নয়। ৪৬তম প্রতিবেদনে প্রতি ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকলেও ৪৭তম প্রতিবেদনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ জনে। এরপর ৪৮তম প্রতিবেদনে ২৪, ৪৯তম প্রতিবেদনে ২০ এবং সবশেষ ৫০তম প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি ২১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। ৩৪ বিভাগে নেই আন্তর্জাতিক মান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ। সেখানে প্রতি ৫৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক। ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সে প্রতি ৪৬ জনের জন্য একজন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে প্রতি ৪১ জনের বিপরীতে একজন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রতি ৪০ জনের বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। সংস্কৃত বিভাগে প্রতি ৩৮ জনের জন্য একজন; চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র এবং অর্থনীতি বিভাগে প্রতি ৩৫ জনের জন্য একজন, আইবিএতে প্রতি ৩৪ জনের জন্য একজন এবং চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানে প্রতি ৩৩ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। মার্কেটিং বিভাগে প্রতি ৩২ জনের জন্য একজন, ইতিহাসে প্রতি ৩১ জনের জন্য একজন; আইন ও ভূমি প্রশাসন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ইংরেজি বিভাগে প্রতি ৩০ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। ‘কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে না পারা অবশ্যই আমাদের জন্য একটি নেতিবাচক দিক। শিক্ষক সংকট কমিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত উন্নত করার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে’—উপ-উপাচার্য দর্শনে প্রতি ২৯ জনের জন্য একজন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে প্রতি ২৮ জনের জন্য একজন, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, ইসলামিক স্টাডিজ ও ফাইন্যান্সে প্রতি ২৭ জনের জন্য একজন এবং আইন ও ফলিত গণিতে প্রতি ২৬ জনের বিপরীতে রয়েছেন একজন শিক্ষক। সমাজবিজ্ঞান, গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রতি ২৫ জনের জন্য একজন; মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায় প্রতি ২৪ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা এবং নৃবিজ্ঞানে প্রতি ২৩ জনের জন্য একজন, ফারসি ও ভাষা সাহিত্যে প্রতি ২২ জনের জন্য একজন এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানে প্রতি ২১ জনের বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। একই অনুপাতে শিক্ষক রয়েছে বাংলা, প্রাণিবিদ্যা এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগে। এগিয়ে ১৭ বিভাগ বেশিরভাগ বিভাগে যখন এই অবস্থা, তখন ১৭টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাম্য সীমার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে। বিভাগটিতে প্রতি সাতজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি আটজনের জন্য রয়েছে একজন শিক্ষক। নাট্যকলায় প্রতি ৯ জনের জন্য একজন, ফার্মেসিতে প্রতি ১০ জনের জন্য একজন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেসে প্রতি ১১ জনের জন্য একজন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পদার্থবিজ্ঞানে প্রতি ১২ জনের জন্য একজন এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রতি ১৩ জনের জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রসায়ন ও ফিশারিজে প্রতি ১৪ জনের জন্য একজন; সমাজকর্ম, উদ্ভিদবিজ্ঞান, লোক প্রশাসন ও গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বিপরীতে শিক্ষকের এমন অনুপাতের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। আবার শিক্ষকদের পক্ষে সজ শিক্ষার্থীর কাছে যথাযথভাবে পাঠ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে উভয় সংখ্যার অনুপাতের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। শিক্ষকের অনুপাত কম হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ পাচ্ছেন না উল্লেখ করে রাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার বানু বলেন, ‌‘শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের প্রভাব অনেক বেশি। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যত বেশি হয়, একজন শিক্ষকের পক্ষে পুরো শ্রেণিকক্ষ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে পাঠটি যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া তত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ সব শিক্ষার্থী একইভাবে বা একই গতিতে বিষয় বুঝতে পারে না। কারও দ্রুত বোঝার সক্ষমতা থাকে, আবার কারও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কম থাকলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও সমস্যাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।’ আরও পড়ুন ভিপি জাহিদ / রাকসুর এক টাকাও আমাদের পকেটে ঢোকেনি, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে লাভ নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ভারসাম্যের গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি। সে তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা কম। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও বেশি। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রভাব শিক্ষা থেকে শুরু করে জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই পড়ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষকের সংখ্যার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা খুবই জরুরি।’ আরও পড়ুন অনার্সের অর্ধেক রাবিতে, বাকি দুই বছর জাপানে করার সুযোগ পাঠদানের ওপর প্রভাব নিয়ে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত শিক্ষার মান ও পাঠদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রভাব ফেলে। অনুপাত ঠিক না থাকলে একজন শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর চাপ বেড়ে যায়। ফলে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষার্থীকে কার্যকরভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একটি বিভাগে যদি শিক্ষার্থীসংখ্যা বেশি থাকে কিন্তু শিক্ষক কয়েকজন থাকেন, তাহলে প্রত্যেক শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত অ্যাকাডেমিক চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।’ আরও পড়ুন সালাউদ্দিন আম্মার / আমাকে দেওয়া অ্যালিগেশনের কয়েকগুণ টাকা শিক্ষার্থীদের দিয়ে চেয়ার ছাড়ব তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত মোটামুটি মানসম্মত ও আদর্শ পর্যায়ে রয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ক্লাসের শিক্ষার্থীসংখ্যা সাধারণত ৪০ জনের মধ্যে রাখার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন কোটা বিবেচনার পরও প্রতি ব্যাচে শিক্ষার্থীসংখ্যা সাধারণত ৩৫ থেকে ৩৭ জনের মধ্যে থাকে। এছাড়া বিভাগটি বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়ায় প্রতি বর্ষে ব্যবহারিক ক্লাস, প্রকল্প ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম রয়েছে। ফলে এসব বিষয় বিবেচনায় এখানে বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতটি মোটামুটি আদর্শ পর্যায়ে রয়েছে।’ আরও পড়ুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় / ছয় দশকেও গ্রন্থাগারে প্রবেশের সুযোগ মেলেনি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে আইকিউএসির এই পরিচালক বলেন, ‘মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মতো কিছু বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত একেবারেই সন্তোষজনক নয়। আবার কিছু বিভাগে অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেসব পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হয়নি। ইংরেজি ও ইতিহাসসহ কয়েকটি বিভাগে এ ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। ফলে এসব বিভাগেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ঠিক নেই। অনুমোদিত পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা গেলে অন্তত এসব বিভাগের শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।’ আরও পড়ুন পরীক্ষায় নকল করার দায়ে রাবির সিনেট সদস্যকে বহিষ্কার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘রাবিতে দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ অনুপাত আরও বেড়ে গেছে। এমনিতেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কিছুটা বেশি। এর ওপর দীর্ঘ সময় নিয়োগ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে।’ আরও পড়ুন সমালোচনার মুখে সেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ চিত্রকর্মটি সরিয়ে নিল রাবি প্রশাসন সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে গত ১৮ থেকে ২০ মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন বিভিন্ন বিভাগে যেসব পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামনে নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা হবে।’ আরও পড়ুন রাকসুর ব্যানারে ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, ‘জুলাই জিয়াফত’ নিয়ে বিতর্ক শিক্ষক সংকটের বিষয়ে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘আমার জানামতে, অনেক বিভাগই শিক্ষক সংকটের কারণে কষ্ট করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত অনুপাতও ঠিক থাকছে না। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক সংকটসহ যেসব বিভাগে শূন্য পদ রয়েছে, সেগুলোতে নিয়োগের বিষয়েও আমরা কাজ করছি। তবে এসব পদে নিয়োগের জন্য ইউজিসির অনুমোদন প্রয়োজন। বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। তারা তাদের শূন্য পদগুলোর কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।’ আরও পড়ুন রাবির হলের গণরুমে স্ক্যাবিসে আক্রান্ত ছাত্রী, আতঙ্কে বাকিরা তিনি আরও বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে না পারা অবশ্যই আমাদের জন্য একটি নেতিবাচক দিক। শিক্ষক সংকট কমিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত উন্নত করার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।’ এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>