বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। ফলে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিম কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
এ ছাড়া প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৭৫ টাকায়। বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ না থাকায় মুরগির মৃত্যু, পোল্ট্রি ফিডের চড়া দামসহ নানা কারণের কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
আর ক্রেতারা বলছেন, ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালায়। সেই সময় দামও ঠিক থাকে। এর পর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে ডিমের দাম।
আরও পড়ুন
ডিমের ডজন ১৫০ টাকা, সবজিও এখনো চড়া
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, রাইয়ানখোলা, মহাখালী, মিরপুর, আগারগাঁও ও কল্যাণপুরের একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মিরপুর-৬ নম্বর বাজারের ডিম বিক্রেতা সোহাগ ইসলাম বলেন, ‘এখন পাইকারিতেই চড়া দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে ১০০টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১২০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ছে ১১ টাকা ২০ পয়সা। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। প্রতি পিসের দাম পড়ছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা।’
কাওসার নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। পোল্ট্রি ফিডের দামও চড়া। এ কারণে মুরগি লালন-পালন একটু খরুচে হয়ে পড়েছে। ডিমের দামও বেড়েছে।’
আরও পড়ুন
আটা-তেল-চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী, সবজি-ডিমেরও বাজার চড়া
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ছয় মাসের ব্যবধানে ডিমের হালিতে দাম বেড়েছে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। গত দুই মাস ধরে প্রতি হালি ডিম ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডিমের হালি ছিল ৩৪ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ সেই সময়ে প্রতি পিস ডিমের দাম ছিল ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন প্রতি পিস ডিমের দাম ৪ থেকে সাড়ে ৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা।
মিরপুর-১১ নম্বর কাঁচাবাজারে কথা হয় চাকরিজীবী সিরাজ আহমেদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘ডিম প্রত্যেক পরিবারেই লাগে। ১ টাকা, ২ টাকা করে যেভাবে বাড়ছে, এই বাড়তি দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে জানি না। আয় না বাড়লেও বাজার খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাবে।’
এসএম/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন