বিজ্ঞাপন
কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেত্রী ডলি পার্টন আর নেই। ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে মারা গেছেন তিনি। মঙ্গলবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
আরও পড়ুন
‘এক রাতের জন্য কত নেবেন?’, কুপ্রস্তাবে অতিষ্ঠ অভিনেত্রী
প্রায় ছয় দশকের ক্যারিয়ারে গান, অভিনয়, টেলিভিশন, ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন ডলি পার্টন। তার গাওয়া ‘জোলিন’, ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’, ‘নাইন টু ফাইভ’ ও ‘কোট অব মেনি কালারস’-এর মতো গান বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ন্যাশভিলে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডলি। তার মৃত্যুর কারণ প্রথমে প্রকাশ করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে তার জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, তিনি ক্যানসারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের লড়াইয়ের পর মারা গেছেন।
ডলি পার্টন ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সফল নারী সংগীতশিল্পী। তার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ১০ কোটিরও বেশি। ক্যারিয়ারে পেয়েছেন ১১টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, যার মধ্যে রয়েছে আজীবন সম্মাননাও।
গান লেখার ক্ষেত্রেও তার অসাধারণ দক্ষতা ছিল। প্রায় ৩ হাজার গান লিখেছেন তিনি।
শৈশব থেকেই সংগীতের সঙ্গে১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে জন্ম ডলি পার্টনের। ১২ সন্তানের পরিবারে বেড়ে ওঠা ডলির শৈশব ছিল দারিদ্র্যপীড়িত। মাত্র ছয় বছর বয়সেই নিজের প্রথম গান লেখেন তিনি।
আট বছর বয়সে প্রথম গিটার পান ডলি। ১১ বছর বয়সে স্থানীয় রেডিওতে গান গাওয়া শুরু করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওলে অপ্রি-তে গান পরিবেশন করেন। পরে উচ্চশিক্ষা শেষ করে সংগীতের ক্যারিয়ার গড়তে ন্যাশভিলে পাড়ি জমান।
কান্ট্রি সংগীতশিল্পী পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেন ডলি। তার সঙ্গে বিচ্ছেদের সময়ই বিদায়ী গান হিসেবে লেখেন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। পরে গানটি হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে নতুন করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।
সংগীতের বাইরেও সাফল্যশুধু সংগীত নয়, অভিনয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ডলি পার্টন। ১৯৮০ সালের ‘নাইন টু ফাইভ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই সিনেমার গান তাকে অস্কার মনোনয়নও এনে দেয়। পরবর্তীতে ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’, ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’, ‘রাইনস্টোন’ ও ‘স্ট্রেইট টক’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন।
এ ছাড়া নিজের নামে ডলিউড থিম পার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি, যা টেনেসির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠে।
মানবিক কাজেও অনন্যডলি পার্টনের পরিচয় শুধু একজন তারকা হিসেবে নয়, একজন মানবহিতৈষী হিসেবেও। শিশুদের বই পড়ার সুযোগ তৈরি করতে তার ইমাজিনেশন লাইব্রেরি কর্মসূচি চালু হয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের জন্য বই সরবরাহ করেছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভ্যাকসিন গবেষণায় ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন তিনি। মডার্নার ভ্যাকসিন উন্নয়নেও ওই গবেষণা অর্থায়নের ভূমিকা ছিল।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন হয়ে উঠেছিলেন মার্কিন সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত মুখ। ২০২২ সালে তাকে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন
‘আমি বেঁচে আছি’, ২৩ বছর পর ভিডিও প্রকাশ করে বললেন অভিনেত্রী
তার মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। টেলর সুইফটসহ বহু তারকা কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এলআইএ
বিজ্ঞাপন