ব্রেকিং নিউজ
রেললাইনের পাত ভেঙে রাজশাহী ও নাটোরে আটকে ছিল ৬ ট্রেন কোটি কোটি টাকা খরচ, তবু বর্ষায় ঢাকার সড়কে গর্ত-ভাঙন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র, যেকোনো সহায়তায় প্রস্তুত: সারাহ আলড্রিচ ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি, গ্রিসের নিশানায় তুরস্ক? ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে নিয়োগ, বেতন ২ লাখ ২৫ হাজার নতুন পে-স্কেলে বদলে যাচ্ছে চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নাটোরে ভাঙা রেললাইন মেরামত, ধীরগতিতে চলছে ট্রেন হৃদয়-জাকেরের ব্যাটিংয়ে দ. আফ্রিকায় স্বস্তিতে বাংলাদেশ জিয়া উদ্যানে তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ জিয়াউর রহমান হত্যায় ফের তদন্ত শুরু, পাওয়া গেছে নতুন তথ্য
জাতীয়

লোডশেডিংয়ে চাঙা চার্জার ফ্যানের বাজার, দামে অস্বস্তি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের কারণে বিক্রি বেড়েছে সব ধরনের চার্জার ফ্যানের। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও। চার্জার ফ্যানের ব্যাটারির দামও বেড়েছে। ক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও পরিবারের কথা চিন্তা করে বাধ্য হচ্ছেন কিনতে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা, বিক্রেতা ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। দাম বেড়েছে ২শ থেকে ৬শ টাকা রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটের নাসির ইলেক্ট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী নাসির হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিডিয়া ব্র্যান্ডের হাফ স্ট্যান্ডের চার্জার ফ্যান এখন ছয় হাজার টাকা। আর ফুল স্ট্যান্ডের চার্জার ফ্যান ছয় হাজার ৫শ টাকা। শীতের মৌসুমে যে ফ্যান সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি হয়, গরমের সময় সেটির দাম বেড়ে সাড়ে পাঁচ হাজারও হয়ে যায়।’ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চার্জার ফ্যান গত দু-এক মাসের মধ্যে প্রতিটি ফ্যানের দাম ৫শ থেকে ৬শ টাকা বেড়েছে জানিয়ে বলেন, ‘মূলত গরমের সময় আমদানিকারকরা ফ্যানের দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’ স্টেডিয়াম মার্কেটে কথা হলে ওয়ালটন শোরুমের বিক্রয়কর্মী শংকর বলেন, ‘রিমোট ছাড়া ১৭ ইঞ্চি ওয়ালটনের চার্জার ফ্যানের দাম ছয় হাজার ৪৯০ টাকা। আর রিমোটসহ সাত হাজার ১৯০ টাকা। বছরখানেক আগে প্রতিটি ফ্যানের দাম অন্তত ৫শ টাকা কম ছিল। আরও পড়ুন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল মানুষ, বাড়ছে ক্ষোভ   বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন বিক্রি ভালো। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেকেই চার্জার ফ্যান কিনছেন।’ স্টেডিয়াম মার্কেটে একটি ফ্যানের দোকানের বিক্রয়কর্মী হাসিব বলেন, ‘গরমের মৌসুম প্রায় শেষ হতে চলছে, ‘যদিও এখনো দু-এক মাস বাকি। তাই এখন দাম একটু কম। মৌসুমের শুরুতে দাম বেশি ছিল। এখন ১৬ ইঞ্চি ডিফেন্ডার পাঁচ হাজার ৫শ টাকা। বড় ফ্যান সাত হাজার টাকাও বিক্রি করেছি। এখন দাম কম। আর স্ট্যান্ড ছাড়া ডিফেন্ডার ফ্যান এখন সাড়ে চার হাজার টাকা।’ তিনি বলেন, ‘চার্জার ফ্যানের দাম সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়। বাজারের বেশিরভাগ ফ্যান চীন থেকে আসে। আমদানিকারকের কাছ থেকে আমরা যে দামে পণ্য পাই, সে অনুযায়ী বিক্রি করতে হয়।’ রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কথা হলে খান ইলেক্ট্রনিক্সের বিক্রয়কর্মী জাবেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিফেন্ডার ও কেনেডি চার্জার ফ্যানের দাম ২শ টাকার মতো বেড়েছে। এখন ১২ ইঞ্চি ডিফেন্ডার চার্জার ফ্যান সাড়ে তিন হাজার টাকা ও ১৬ ইঞ্চি সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি করছি।’ আরও পড়ুন ঢাকায় চরম লোডশেডিং, দিনে ও রাতে একাধিকবার থাকছে না বিদ্যুৎ তবে লোডশেডিংয়ে চার্জার ফ্যানের চাহিদা বাড়ার কথা শোনা গেলেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি বলে দাবি তার। দাম বেড়েছে হাজার টাকা, দাবি ক্রেতার কেরানীগঞ্জ থেকে রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটে চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছেন প্রেমানন্দ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে কথা হলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে, তাতে নাজেহাল অবস্থা। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সংসার করতে গেলে বিদ্যুৎ যদি দুই-তিন ঘণ্টা না থাকে, জীবনে অস্থিরতা চলে আসে। যতই কষ্ট হোক, ফ্যান কিনতেই হবে। অভিভাবক হিসেবে বাচ্চার কষ্ট তো দেখা যায় না। তাই কিনতে এসেছি।’ দাম বাড়ায় অখুশি ক্রেতা ফ্যানের দাম বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দামটা তো এক-দেড় হাজার টাকা অলরেডি বেড়েই গেছে। যারা বাজার রেট জানে না, তারাই বলবে কম বেড়েছে। আমরা যারা অনলাইনে সব সময় কম-বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করি, তারা তো জানি।’ ফার্মগেটে কথা হলে চার্জার ফ্যান কিনতে আনা গৃহিণী ফাহমিদা বলেন, ‘ঢাকায় এখন প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে। বাসার চার্জার ফ্যানটিও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আগে যে ফ্যান চার হাজার টাকায় কেনা যেত, এখন তা পাঁচ হাজার টাকার মতো। চার্জার ফ্যানের দাম অনেক বেড়েছে।’ আরও পড়ুন সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং ময়মনসিংহে, কম ঢাকায় উত্তরার বাসিন্দা মাহমুদুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘চার্জার ফ্যানের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা পরিবর্তন করতে হয়েছে। সেনকো ব্র্যান্ডের দুটি ব্যাটারি পরিবর্তন করতে ১২শ টাকা লেগেছে, যা আগে ৮শ থেকে ৯শ টাকার মধ্যে ছিল।’ চার্জার ফ্যানের বাজার প্রায় হাজার কোটি টাকার দেশে চার্জার ফ্যানের বাজারের আকার নিয়ে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। দেশীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার্জার ফ্যানের বাজারের আকার ৫শ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার। এই বাজারের প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। গরম ও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা বেড়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্যাননাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ালটনের এক কর্মকর্তা জানান, দেশে চার্জার ফ্যানের বাজার ৪শ থেকে ৫শ কোটি টাকার। সাধারণত এই বাজারের প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। তবে হিট ওয়েভ বা মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং দেখা দিলে চাহিদা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কাঁচামালের দাম ও লোডশেডিংয়ের কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। তবে আমরা এখনো পণ্যের দাম বাড়াইনি। সামনে বাড়াতে পারে। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সংকট সামলাতে হিমশিম, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আরএফএল ইলেকট্রনিক্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার সনজিত দেবনাথ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ চার্জার ফ্যান বিক্রি হয়। প্রতিটি ফ্যানের গড় দাম চার হাজার টাকা ধরলে, এ বাজারের আকার দাঁড়ায় প্রায় ১২শ কোটি টাকা। এর বাইরে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডিসি ফ্যান বিক্রি হয়। এসব ফ্যানের দাম গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। ফলে ডিসি ফ্যানের বাজারও প্রায় ১৫০ থেকে ২শ কোটি টাকার। অর্থাৎ, চার্জার ও ডিসি ফ্যান মিলিয়ে বাজারের আকার প্রায় ১৩৫০ থেকে ১৪শ কোটি টাকা।’ তিনি বলেন, ‘রিচার্জেবল বা চার্জার ফ্যান সাধারণত বিদ্যুৎ সংযোগে চলে এবং বিদ্যুৎ চলে গেলেও ব্যাটারির মাধ্যমে চালানো যায়। অন্যদিকে ডিসি ফ্যান শুধু ডিসি বিদ্যুতে চলে এবং এর ব্যাটারি আলাদাভাবে চার্জ করে ব্যবহার করতে হয়। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে দুই ধরনের ফ্যানেরই চাহিদা বাড়ছে।’ এবছর অক্টোবর পর্যন্ত বিক্রির ধারা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো ফ্যানের দাম বাড়েনি। আগের মতোই রয়েছে।’ ইএইচটি/এএসএ/ এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>