ব্রেকিং নিউজ
কর্মদক্ষতা ও পেশাদারত্ব দিয়ে নারী সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান গোপালগ‌ঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাঁদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০  রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো নড়াইলে ছয় ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার জয়পুরহাটে জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন প্রতিবাদ করায় প্রাণ যায় এসবি সদস্যের, ছেলের কারখানাতেও হামলা হাজার হাজার লিটার তেল পুড়িয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ অযৌক্তিক: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইমাম আওজায়ি: ক্ষমতার সামনে আপসহীন কণ্ঠস্বর বইঠার ছন্দে ঘাঘটে নৌকাবাইচ জিপিএস প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছেন যে নারী
জাতীয়

কয়লাখনি ইস্যুতে ২০ বছর পর ফের উত্তাপ ফুলবাড়ী

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্থানীয়দের ক্ষোভ ২০ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি ছয় দফা কয়লা উত্তোলন করলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ‍উপজেলার জন্য একটি বেদনাদায়ক দিন। ওইদিন কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন ফুলবাড়ীর মানুষ। তবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুলিতে তিন আন্দোলনকারী নিহত হন। আহত হন শত শত মানুষ। ওই ঘটনার পর টানা আন্দোলনের মুখে ৩০ আগস্ট তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ছয় দফা সমঝোতা হয়। চুক্তিতে এশিয়া এনার্জির সঙ্গে চুক্তি বাতিল, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি না করা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক বিষয় ছিল। আজ সেই আন্দোলনের ২০ বছর পূর্তি। তবে আবারও সেই আগস্ট মাসেই ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান প্রসঙ্গে সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে সরকার নতুন নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে বিকল্প পথ খোঁজার তাগিদ দিয়ে এখন আমরা ফুলবাড়ী এবং অন্যান্য স্থানে ওপেন-পিট কয়লা উত্তোলনের দিকে যাচ্ছি। কারণ, আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।’ ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে সরকার নতুন নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে বিকল্প পথ খোঁজার তাগিদ দিয়ে এখন আমরা ফুলবাড়ী এবং অন্যান্য স্থানে ওপেন-পিট কয়লা উত্তোলনের দিকে যাচ্ছি। কারণ, আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই’—অর্থমন্ত্রী এই একটি বক্তব্যই ফুলবাড়ীবাসীর ২০ বছর ধরে পুষে রাখা ক্ষতকে জাগিয়ে তুলেছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য প্রচার হওয়ার পর থেকেই ফুলবাড়ীতে চায়ের দোকান থেকে বাজার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের আলোচনায় এখন একটিই প্রশ্ন—তাহলে কি আবার ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে? আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ফুলবাড়ীর মানুষ ফিরে দেখছেন ২০০৬ সালের আগস্টকে। যে আগস্ট বদলে দিয়েছিল ফুলবাড়ীকে। ওইসময় ফুলবাড়ী ও আশপাশের জনপদ ছিল উত্তাল। বহুজাতিক কোম্পানি এশিয়া এনার্জির প্রস্তাবিত উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লা উত্তোলন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। কৃষিজমি ও জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুধু তাই নয়, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিপরীতে প্রকল্পের সমর্থকরা কয়লা উত্তোলনকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এই বিরোধের মধ্যেই ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট এশিয়া এনার্জির ফুলবাড়ী কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ফুলবাড়ীসহ আশপাশের বিরামপুর, পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারও মানুষ মিছিলে অংশ নেন। ‘প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সেই সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল, উন্মক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হবে না। ছয় দফা চুক্তিও হয়েছিল। দুই দশক পেরিয়ে গেল। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান আজকের প্রধানমন্ত্রী। আমরা বিশ্বাস করি এবং করতে চাই খালেদা জিয়ার সরকারের যে চুক্তি, সেই চুক্তি তারেক রহমান উপেক্ষা করতে পারেন না বা করবেন না’ সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ শেষ পর্যন্ত রক্তপাতের দিকে গড়ায়। তৎকালীন বিডিআর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হন। আহত হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ঘটনার পর ফুলবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়, দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। চার দিনের টানা আন্দোলনের পর ৩০ আগস্ট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের সমঝোতা হয়। সেই ছয় দফা চুক্তিই পরে ফুলবাড়ী আন্দোলনের প্রধান রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তি হয়ে ওঠে। ২০ বছরেও অপূর্ণ ছয় দফা ফুলবাড়ীর আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, ২০০৬ সালের চুক্তির মূল প্রতিশ্রুতিগুলো আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাতিল, যদিও বর্তমানে এশিয়া এনার্জি নাম পরিবর্তন করে (জিসিএম রিসোর্স নামে পরিচালিত হচ্ছে) এবং ফুলবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন না করা। কয়লা উত্তোলনের পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের সম্মতির কথাও চুক্তিতে উল্লেখ ছিল। ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন এই চুক্তি ভঙ্গ করে, উত্তরবঙ্গ ধ্বংস করে, পানিসম্পদ, আমাদের জমি, ঘনবসতি ধ্বংস করে আবার সেই কয়লার দিকে তাদের নজর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা ফুলবাড়ীর দিকে তাকালে কয়লা ছাড়া কিছুই দেখে না’—অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তবে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই ফুলবাড়ীতে ফের বিষয়টি সামনে এসেছে। ২০০৬ সালের আন্দোলনের ছবি, নিহতদের স্মৃতি, পুরোনো সংবাদপত্রের কাটিং এবং ছয় দফা চুক্তির বিভিন্ন অংশ নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে জনপদে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতায় মানুষের প্রাণ গেছে, সেই জায়গায় আবার একই ধরনের পরিকল্পনার কথা কেন উঠছে? স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিজমি, বসতভিটা, পানি ও পরিবেশ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে। ফুলবাড়ী মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার মানুষের বড় অংশের জীবন-জীবিকা সরাসরি কৃষি ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের প্রসঙ্গ সামনে এলেই মানুষের মনে একটাই আশঙ্কা তৈরি হয়—কয়লা উত্তোলনের বিনিময়ে কী হারাতে হবে? এ পরিস্থিতিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে গণসংহতি আন্দোলন ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা অর্থমন্ত্রীর উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন-সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। যা বলছেন আন্দোলনকারীরা প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা হয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার তৎকালীন সদস্য সচিব এসএম নুরুজ্জামান জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনটি তো হচ্ছে দেশের প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা এবং জাতীয় সম্পাদ রক্ষার আন্দোলন। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সেই সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল, উন্মক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হবে না। ছয় দফা চুক্তিও হয়েছিল। দুই দশক পেরিয়ে গেল। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান আজকের প্রধানমন্ত্রী। আমরা বিশ্বাস করি এবং করতে চাই খালেদা জিয়ার সরকারের যে চুক্তি, সেই চুক্তি তারেক রহমান উপেক্ষা করতে পারেন না বা করবেন না।’ তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, কী কারণে বলেছেন, কেন বলেছেন; সে বিষয় তিনি ভালো জানেন। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার—কোনো সরকারের পক্ষ থেকে যদি উন্মক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করার ঘোষণা আসে বা করতে চায়, তাহলে আমরা জনগণকে নিয়ে যে লড়াই শুরু করেছিলাম সেটা চলবে। আমরা লড়াই করে এটি রুখে দেবো।’ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘২০০৬ সালের যে গণঅভ্যুত্থান সেই গণঅভ্যুত্থানে আমরা আমাদের তিনজন সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আমাদের ছয় দফা চুক্তি হয়েছিল। সেই আগস্ট মাসেই অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ফুলবাড়ী কয়লা খনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তার এ কথায় ফুলবাড়ীর মানুষ শঙ্কিত। ফুলবাড়ীর মানুষ এই পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। হঠাৎ করেই এমন একটি কথা, এমন একটি প্রশ্নতে ফুলবাড়ীর মানুষ সংক্ষুব্ধ।’ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি অর্থমন্ত্রী তার এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। যদি না করেন ফুলবাড়ীর মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে, ফুলবাড়ীর মাটি কীভাবে রক্ষা করতে হয়।’ আতঙ্কে স্থানীয়রা ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা ফুলবাড়ীর সাধারণ মানুষ উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ মেনে নেবো না।’ আরও পড়ুন আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই: গ্যাস সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী তারা বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু খনিজ সম্পদ উত্তোলনের বিষয়ই নয়; বসতভিটা, কৃষিজমি, পরিবেশ, জীবিকা ও স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। বাবা-দাদাদের পৈতৃক ভিটা, মসজিদ, মন্দির, গোরস্থান, শ্মশান, ঈদগাঁহ ময়দা—এগুলো আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা, সব বিলীন হয়ে যাবে। আমরা তা হতে দেবো না। প্রয়োজনে আবার রক্ত দেবো, কিন্তু ফুলবাড়ী দেবো না।’ পা হারানো বাবুল রায়ের আক্ষেপ ২০০৬ সালের এইদিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন বন্ধের দাবিতে কর্মসূচিতে গিয়ে তৎকালীন বিডিআর-পুলিশের গুলিতে পঙ্গু হয়ে যান ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুরের বাবলু রায় (৫৩)। তিনি এখন আর বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। ঘটনার পর ২০ বছর ধরে বিছানাগত তিনি। শরীরে ধরেছে পচন। অর্থের অভাবে পড়ালেখা করাতে না পারা দুই ছেলে এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তাদের আয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে চলে সংসার। এতো কষ্টেও তার পাওয়া না পাওয়া নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। শুধু আক্ষেপ এশিয়া এনার্জি এখনো দেশ ছেড়ে যায়নি। ফুলবাড়ী ছয়দফা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। নিহতের পরিবারগুলো বিচার পায়নি। আরও পড়ুন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ / শেখ হাসিনা যে কোম্পানিগুলোকে কাজ দিয়েছিল এই সরকারও তাদেরই দিচ্ছে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমি একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে। স্ত্রীর সেবা, ছেলেদের কষ্টের টাকায় ওষুধ কিনে খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। পাওয়া না পাওয়া নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই আমার। তবে মৃত্যুর আগে যদি দেখে যেতে পারতাম—ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে, এশিয়া এনার্জি দেশত্যাগ করেছে, নিহতরা বিচার পেয়েছে, তাহলে ২০ বছর ধরে করা এতো কষ্ট সার্থক হতো। মরেও শান্তি পেতাম।’ নিহত-আহতদের পবিবারের দাবি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথাবলে জানা গেছে, কিছু ক্ষতিপূরণ পাওয়া ছাড়া আর কোনো দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। উপরোন্ত নতুন করে দুটি মামলার আসামি হয়েছেন আন্দোলনকারী নেতারা। যে স্মৃতিসৌধটি রয়েছে সেটি সরকারি খরচে হওয়ার কথা ছিল। অথচ বাধ্য হয়ে আন্দোলনকারীরা নিজেদের অর্থে ছোট যমুনা নদীর পাশে এটি করেছেন। স্রোতে এটি যেকোনো সময় ভেসে যেতে পারে। আরও পড়ুন মন্ত্রী ইকবাল হাসান / ‘গরিবের টেসলার’ কারণে মধ্যরাতেও রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ চাহিদা থাকছে আন্দোলনে নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র তরিকুল ইসলামের বাবা সাবেক কাউন্সিলর মোকলেছার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নেতাদের কথায় আমরা মামলা করিনি। এখন মনে হচ্ছে মামলা করা উচিত ছিল। তাহলে হয়তো ছেলে হত্যার বিচার পেতাম। এখন আল্লাহর ওপর বিচার ছেড়ে দিয়েছি।’ আরও পড়ুন সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী / দেশে ৫টি কয়লাক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে, উৎপাদনে শুধু বড়পুকুরিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে নিহত আমিনের বাবা আব্দুল হামিদ ও মা রেহেনা খাতুন বলেন, ‘প্রতিবছর আপনারা আগস্ট মাসে আমাদেরকে কেন কষ্ট দিতে আসেন? ২৬ বছরেও আমরা ছেলে হত্যার বিচার পেলাম না। সেসময় নেতারা আমাদেরকে বলেছিল, মামলা করতে হবে না, সরকার মামলা করবে। কিন্তু সরকার মামলা করেনি। আমরাও মামলা করিনি। মামলা না করে আমরা ভুল করেছি। জানি দুনিয়ায় ছেলে হত্যার বিচার পাববো না, তাই আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’ আরও পড়ুন ‘ফুলবাড়ী থেকে এশিয়া এনার্জির অফিস না সরালে বৃহত্তর আন্দোলন’ নিহত সালেকিনের মা শেফালী বেগমর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‌‘আমি কিছু চাই না, শুধু আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’ আবেগাপ্লুত হয়ে এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে পারেননি। আরও পড়ুন ফুলবাড়ী কয়লা খনি নিয়ে লন্ডনে বিক্ষোভ বুধবার (২৬ আগস্ট) ফুলবাড়ীতে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর জাতীয় রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন এই চুক্তি ভঙ্গ করে, উত্তরবঙ্গ ধ্বংস করে, পানিসম্পদ, আমাদের জমি, ঘনবসতি ধ্বংস করে আবার সেই কয়লার দিকে তাদের নজর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা ফুলবাড়ীর দিকে তাকালে কয়লা ছাড়া কিছুই দেখে না।’ আরও পড়ুন ফুলবাড়ী কয়লা খনি নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে প্রতিহত করা হবে তিনি বলেন, ‘কোম্পানি ও কোম্পানির সহযোগীরা তাদের মুনাফার জন্য দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়। এই অঞ্চলের মানুষ তথা সারাদেশের মানুষ এটা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।’ এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>