বিজ্ঞাপন
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অ্যারোসিটিতে অবস্থিত দুটি পাঁচ তারকা হোটেল- আন্দাজ দিল্লি ও জেডব্লিউ ম্যারিয়টকে নোটিশ দিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)। হোটেল দুটিতে পরিচালিত পরিদর্শনে গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
পরিদর্শনে আন্দাজ দিল্লি হোটেলের মিষ্টান্ন বিভাগ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ৮৭ কেজি মিষ্টি উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে তেলাপোকা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব, নোংরা জায়গায় খাবার তৈরি ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর সমস্যা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এফএসএসএআই।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতের আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন কেন্দ্র করে আয়োজিত ব্রিকস বিজনেস ফোরামের অতিথিদের থাকা বা আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় রয়েছে এই দুটি হোটেল। ব্রিকস বিজনেস ফোরামের সরকারি ওয়েবসাইটে আন্দাজ দিল্লি ও জেডব্লিউ ম্যারিয়টকে আয়োজক বা অতিথিদের থাকার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিকস জোটের বেসরকারি খাতের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত ব্রিকস বিজনেস ফোরাম প্রতিবছর শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশে নেতাদের সম্মেলনের আগের সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন করবে ভারত।
এফএসএসএআই তাদের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় দুটি হোটেল থেকেই নিয়ন্ত্রক ও নজরদারি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা বিশ্লেষণ এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলার অবস্থার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কবে এই পরিদর্শন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানায়নি সংস্থাটি।
৮৭ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি উদ্ধার
এফএসএসএআই জানিয়েছে, হায়াতের আন্দাজ দিল্লি হোটেলে, যা জুনিপার হোটেলস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত, মিষ্টান্ন তৈরির বিভাগে প্রায় ৮৭ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি পাওয়া যায়। পরে সেগুলো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ স্টিকারযুক্ত রুটির প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে। পেস্ট্রি বিভাগে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কেকের বেস, মাছি ও তেলাপোকার উপস্থিতিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
হোটেলটির রান্নাঘরে নিরামিষ ও আমিষ খাবার আলাদা রাখার ক্ষেত্রেও ত্রুটি পাওয়া গেছে। এফএসএসএআই জানায়, নিরামিষ ও আমিষ খাবারের জন্য ব্যবহৃত কাটিং বোর্ড একই পানির পাত্রে রাখা হয়েছিল। এতে এক ধরনের খাবার থেকে অন্য ধরনের খাবারে জীবাণু বা উপাদান ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
লাইসেন্স ছাড়াই খুচরা ব্যবসার অভিযোগ ম্যারিয়টের বিরুদ্ধে
অন্যদিকে, অ্যারোসিটির জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে পরিচালিত পরিদর্শনের বিস্তারিতও প্রকাশ করেছে এফএসএসএআই। অ্যারিয়া হোটেলস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস পরিচালিত এই হোটেলটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া জেডব্লিউ ম্যারিয়ট ব্র্যান্ডের নামে খুচরা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, আগে থেকে প্যাকেটজাত বিভিন্ন পণ্যে বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করার কথা থাকা উৎপাদনকারীর ঠিকানা দেওয়া হয়নি। আবার পনির, খোয়া ও ছানা মশলাসহ কয়েকটি পণ্যে ভুলভাবে ছাপানো লাইসেন্স নম্বর পাওয়া গেছে।
হোটেল প্রাঙ্গণে প্রধান এফএসএসএআই লাইসেন্সও দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জেডব্লিউ ম্যারিয়টের সামগ্রিক স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার মানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ এফএসএসএআইয়ের। পরিদর্শকরা হোটেলটিতে সক্রিয় তেলাপোকা ও ফলের মাছির উপদ্রব, খাবারের সংস্পর্শে আসে এমন নোংরা পৃষ্ঠ এবং অপরিষ্কার রান্নাঘরের সরঞ্জাম দেখতে পান।
হোটেলের পানীয় জলেও দৃশ্যমান কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এফএসএসএআইয়ের মতে, এটি পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং খাবার প্রস্তুতের জায়গাগুলোর সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণের নিম্নমানকে সামনে এনেছে।
পরিদর্শনে আরও বেশ কিছু খাদ্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল নষ্ট উপকরণ ব্যবহার, ছত্রাক আক্রান্ত আপেল এবং পচা টমেটো। অনেক খাবার নিয়মিতভাবে ঢেকে রাখা হতো না অথবা ক্ষতিগ্রস্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা হতো।
এছাড়া হোটেল কর্মীরা নিরামিষ ও আমিষ পণ্য যথাযথভাবে আলাদা করে রাখেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। খাবার সংরক্ষণের তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনাতেও ত্রুটি পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য শনাক্তকরণ লেবেল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অবহেলা দেখা গেছে।
এফএসএসএআই বলছে, এসব ত্রুটির কারণে বিভিন্ন খাবারের মধ্যে পারস্পরিক দূষণের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে অতিথিদের সম্ভাব্য থাকা বা আয়োজক ভেন্যুর তালিকায় থাকা দুটি পাঁচ তারকা হোটেলে এমন খাদ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএএইচ
বিজ্ঞাপন