বিজ্ঞাপন
তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেডিওএ)।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ শিল্পকারখানার সংযোগ বকেয়া বিলের কারণে তাৎক্ষণিক বিচ্ছিন্ন না করা। পাশাপাশি গত তিন মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, নিট ডাইং ও টেক্সটাইল শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান করা এবং প্রয়োজনীয় চাপসহ পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া শ্রমিক ও কর্মচারীদের তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সুদবিহীন ঋণ হিসেবে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ঋণের সঙ্গে ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে নিট ডাইং ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়ার দাবিও রয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে শিল্পমালিকদের সমন্বয়ের জন্য জরুরি মনিটরিং ও সমন্বয় ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে বিকেডিওএ। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলভিত্তিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম বা হটলাইন চালুর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে শিল্পমালিকরা জরুরি সমস্যার দ্রুত সমাধান পেতে পারেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এবং শিল্পমালিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সবশেষে দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান রক্ষায় নিট ডাইং শিল্পের বর্তমান সংকটকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্প সংকট হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিকেডিওএ।
বিকেডিওএ বলছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পকারখানাগুলোর আয় সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে নিয়মিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিক অসন্তোষসহ আরও সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষ বিবেচনায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেডিওএ) সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী খাত নিট ডাইং শিল্প। দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পকারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে গার্মেন্টস, নিট ও ডাইংসহ সংশ্লিষ্ট পুরো শিল্পখাতের সরবরাহ ব্যবস্থা ও রপ্তানি কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
আমজাদ হোসেন আরও বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা, কর্মসংস্থান বজায় রাখা, রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার স্বার্থে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছি। বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলব।’
মোবাশ্বির শ্রাবণ/কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন