বিজ্ঞাপন
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর একটি একটি করে নাম ফিরছে। যে নামগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, আপিলের পর বেশিরভাগই আবার ভোটার তালিকায় জায়গা পেয়েছে।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৮২ হাজার ৭৮২টি আপিলের মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩ জনের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে ভোটাধিকার হারিয়েছে লাখো মানুষ, মুসলিমরা লক্ষ্যবস্তু?
অর্থাৎ নিষ্পত্তি হওয়া মামলার ৯১ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে নাম ফিরেছে। আর বাদ পড়েছে ৭ হাজার ৩৩৯টি নাম।
সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এ তথ্য সামনে এসেছে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইশা খান চৌধুরীর করা তথ্য অধিকার আইনের (RTI) আবেদনের জবাবে।
মাত্র ২ শতাংশ আপিলের নিষ্পত্তি
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছে। এই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বা অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
এসআইআর / পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৯১ লাখ নাম
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩৮ লাখ ১০ হাজার ৬২০টি আপিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৮২ হাজার ৭৮২টির।
অর্থাৎ মোট আপিলের প্রায় ২ দশমিক ১৭ শতাংশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ৩৭ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৮টি আপিল এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় নাম ফেরার হার নাম বাদ যাওয়ার তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিসংখ্যানই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে SIR-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া নিয়ে।
আরও পড়ুন
‘বাংলাদেশি’ তকমা / হেনস্তা বাড়ার শঙ্কা পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মুসলিমদের
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইশা খান চৌধুরী বলেছেন, এত বেশি সংখ্যক আপিলে নাম ফিরে আসা প্রাথমিকভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন তৈরি করে।
২৭ লাখ ‘অযোগ্য’, কিন্তু আপিল ৩৮ লাখ
ইশা খান চৌধুরীর মতে, RTI জবাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আপিলের সংখ্যা নিয়ে অসঙ্গতি।
SIR-এর বিচারপর্বে ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ ভোটারকে ‘Not Eligible’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে আপিল জমা পড়েছে ৩৮ লাখ ১০ হাজার ৬২০টি। অর্থাৎ আপিলের সংখ্যা বেশি ১০ লাখ ৮২ হাজার ১২০।
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন / বিজেপি নেতা শুভেন্দুর আসনে বাদ পড়া ভোটারদের ৯৫ শতাংশই মুসলিম
নির্বাচন কমিশনের কাছে এই পার্থক্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন ইশা খান। তার দাবি, এর মধ্যে এমন আপিলও রয়েছে, যেগুলো নির্বাচন কমিশন বা অন্য পক্ষ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য করেছে।
তবে RTI জবাবের এই মোট সংখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে—দুই ধরনের আপিলই রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। ফলে অতিরিক্ত ১০ লাখের বেশি আপিল ঠিক কারা করেছে, সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর শুধু এই সংখ্যাগুলো থেকে পাওয়া যায় না।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকেএএ/
বিজ্ঞাপন