বিজ্ঞাপন
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খানকে মারধরের অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বাদী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে মামলার আবেদন করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানায় এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
মামলা দায়েরের পর বাদীসহ কয়েকজন আইনজীবী গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তারা জাগো নিউজকে বলেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আইনজীবীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন
আদালত প্রাঙ্গণে চেম্বারে হামলার অভিযোগ, ফেসবুকে বিচার দাবি আইনজীবীর
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের সময় বাদীপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম খান, সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুল ও লাইব্রেরি সম্পাদক মাকসুদুল হাসান সবুজ।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—উম্মে হাফসা তন্বী, হুমায়ুন কবির, মো. আশরাফুল আলম খান, মাহাবুব আলম খান, শাহাদাত হোসেন, জিদান, মো. মোহিবুল্লাহ, রায়হান, খালেদ সাইফুল্লা নাঈম ও আরমান হোসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট বেলা পৌনে ১২টার দিকে যৌতুক নিরোধ আইনের একটি মামলায় আসামিপক্ষের হয়ে শুনানি শেষ করেন মোহাইমিনুল ইসলাম খান। এরপর মক্কেলদের সঙ্গে নিয়ে চেম্বারে ফেরার সময় সিএমএম আদালতের হাজতখানার সামনে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
বাদীর অভিযোগ, প্রথম চার আসামির মদদে ভাড়াটে লোকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা তার মাথা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।
আরও পড়ুন
আদালতে আইনজীবীকে মারধর বিএনপি নেতার, তদন্তের নির্দেশ
চিৎকার শুনে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা আইনজীবী ও সাধারণ লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হামলায় জড়িত অন্যরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে পলাতকরা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মূল ভবনের তৃতীয় তলায় প্রবেশ করে। সেখানে তারা ফের অতর্কিত হামলা চালায় বলে মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এমডিএএ/এমএমকে
বিজ্ঞাপন