ব্রেকিং নিউজ
মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ, সম্পাদক মাঈন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টা মোকাবিলা করবে বিএনপি মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড তুলে নিয়েছে, তদন্তে স্বাধীন সংস্থা চান নূর খান গুমের ঘটনায় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, বিল সংশোধনের দাবি ছুটি নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরীর, কোথাও ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি! সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত-আফগান সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব পাকিস্তানী সংস্থাকে দেয়ায় বিতর্ক সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ১০ হাজার টাকা ভাতায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে বিআরটিসি মোটরসাইকেলে ‘অচেতন’ তরুণীর ছবি ভাইরাল, জানা গেল আসল ঘটনা
জাতীয়

বিপদে মানুষকে সাহায্য না করে অনেকে ভিডিও কেন করেন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাস্তায় দুর্ঘটনা, আগুন, মারামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা হঠাৎ কোনো ভয়াবহ ঘটনা- এমন দৃশ্য সামনে পড়লে অনেকের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় স্মার্টফোন বের করে ভিডিও করা। আশপাশে কেউ বিপদে পড়লেও সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়ার বদলে ক্যামেরা অন করে পুরো ঘটনাটি ধারণ করতে দেখা যায় অনেককে। প্রশ্ন হলো, বিপদের মুহূর্তে এমন আচরণ কেন করেন মানুষ? এর পেছনে কি শুধুই কৌতূহল, নাকি কাজ করে আরও গভীর কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ? আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে গেছে। ভালো কোনো মুহূর্ত, খাবার, ভ্রমণ কিংবা বিশেষ ঘটনা-সবকিছুই ক্যামেরাবন্দি করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই অভ্যাস কখনো কখনো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ পরিস্থিতি ভালো না খারাপ, তা বিবেচনা করার আগেই কারো ও কারো হাতে থাকা ফোনের ক্যামেরা স্বাভাবিকভাবেই চালু হয়ে যেতে পারে। অভ্যাস থেকেই ক্যামেরা হাতে ছবি তোলা ও ভিডিও করার অভ্যাস এখন এতটাই স্বাভাবিক যে অনেকেই কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলেই সেটিকে ক্যামেরায় ধরে রাখতে চান। আগে মানুষ এমন ঘটনা চোখে দেখত, পরে অন্যকে বলত। এখন সেই জায়গা নিয়েছে ভিডিও। ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ‘এটা রেকর্ড করে রাখা দরকার’-এমন চিন্তা কাজ করতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই প্রবণতার একটি বড় কারণ। কোনো ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। ফলে কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, ‘আমি যদি সবার আগে ভিডিও করি, তাহলে সেটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাবে।’ লাইক, শেয়ার, কমেন্ট কিংবা ভিউ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঘটনাকে কনটেন্ট হিসেবে দেখার মানসিকতা কখনো কখনো আরও প্রবল হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিডিও করা প্রত্যেক ব্যক্তিই ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের বিপদকে উপেক্ষা করছেন। কৌতূহলও বড় কারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অস্বাভাবিক ও আকস্মিক ঘটনার প্রতি কৌতূহলী। রাস্তায় হঠাৎ ভিড় দেখলে আমরা কী হয়েছে জানতে চাই। কেউ দুর্ঘটনায় পড়লে কীভাবে ঘটল, সেটিও জানতে ইচ্ছা করে। স্মার্টফোন এই কৌতূহল মেটানোর পাশাপাশি ঘটনাটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করার সুযোগ দেয়। তাই ‘কী হচ্ছে?’ জানার আগ্রহ থেকেই অনেকের ক্যামেরা চালু হয়ে যেতে পারে। বিপদের মুহূর্তে মাথা কাজ না করাও কারণ হঠাৎ ভয়াবহ কোনো ঘটনা সামনে এলে মানুষ সবসময় স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে পারেন না। ভয়, আতঙ্ক, বিস্ময় ও বিভ্রান্তির কারণে কয়েক মুহূর্তের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এমন অবস্থায় এক ধরনের আবেগগত অবশতা তৈরি হতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটিই বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে সরে যাওয়া বা সাহায্য করার পরিবর্তে, ভিডিও করা শুরু করে দিতে পারেন। অন্য কেউ নিশ্চয়ই সাহায্য করবে ভিড়ের মধ্যে আরেকটি মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাও কাজ করতে পারে। আশপাশে অনেক মানুষ থাকলে প্রত্যেকেই ধরে নিতে পারেন, অন্য কেউ হয়তো সাহায্য করবেন। ফলে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ কিছুটা কমে যেতে পারে। এটিকে মনোবিজ্ঞানে ‘বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট বলা হয়। তবে বিপদের জায়গায় নিজে ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে যাওয়াও সবসময় নিরাপদ নয়। তাই সাহায্য করার অর্থ সবসময় সরাসরি ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া নয়। নিরাপদ দূরত্ব থেকে জরুরি সেবা ডাকা, আশপাশের মানুষকে সংগঠিত করা কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হতে পারে। ভিডিও কি সবসময় খারাপ? না। কোনো দুর্ঘটনার ভিডিও কখনো ঘটনার প্রমাণ, তদন্ত বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কাজে লাগতে পারে। কিন্তু ভিডিও করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত-এই মুহূর্তে কেউ কি আমার সাহায্য চাইছেন? আরও পড়ুন সুস্থ থাকতে রান্নায় কোন তেল বেছে নেবেন? যদি নিরাপদভাবে সহায়তা করার সুযোগ থাকে, তাহলে ক্যামেরার আগে মানুষকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি জরুরি। কারণ একটি ভিডিও পরে দেখা যাবে, কিন্তু বিপদের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কয়েক সেকেন্ডের সাহায্য কখনো কখনো একটি জীবন বাঁচাতে পারে। আরও পড়ুন টিভি বা মোবাইল দেখতে দেখতে খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ? প্রযুক্তি আমাদের পৃথিবীকে ক্যামেরার ভেতর ধরে রাখার ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার প্রয়োজন নেই। কোনো ভয়াবহ দৃশ্য সামনে পড়লে তাই ফোন বের করার আগে কয়েক সেকেন্ড থেমে ভাবা দরকার-আমি কি শুধু একজন দর্শক, নাকি নিরাপদভাবে কারও পাশে দাঁড়ানোর মতো কিছু করতে পারি? সেই ছোট্ট প্রশ্নই হয়তো বদলে দিতে পারে আমাদের আচরণ। সূত্র: সাইকোলজিটুডে, মিডিয়াম, বিবিসি এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>