বিজ্ঞাপন
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাশিয়ার দাবি না মানায় ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ অব্যাহত রেখেছে মস্কো। রুশ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
মুখপাত্র পেসকভ বলেন, কিয়েভের পক্ষ আমাদের দাবিগুলো খুব ভালোভাবেই জানে। কিন্তু তারা সেগুলো নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করতে চায় না। তাই যুদ্ধের সম্মুখসারিতে অনুকূলে থাকা আমাদের ইতিবাচক গতি বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এমন বিশেষ সামরিক অভিযানের বিষয়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রাশিয়া ২০২৬–২০২৭ সালে নতুন করে সেনা সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ কর্তৃপক্ষ এ বছর ৩ লাখ এবং আগামী বছর আরও ৩ লাখ-মোট ৬ লাখ মানুষকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
দ্য কিয়েভ পোস্টের তথ্য মতে, ইউক্রেন দাবি করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্যোগ হারানো, সামনের সারিতে ক্রমবর্ধমান সেনা হতাহতের সংখ্যা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই নতুন মোবিলাইজেশনের কথা বিবেচনা করছে।
কার্যালয় থেকে আরও বলেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ার সেনা ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে রুশ দখলদার বাহিনীতে যোগ দিয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার মানুষ।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের দাবি, মোবিলাইজ করা ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের সময় তাদের পূর্ববর্তী সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সম্ভাব্য অবস্থানের সহনশীলতার এর ওপর নির্ভর করে ১৫ থেকে ৬০ দিন হতে পারে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, অতিরিক্ত মোবিলাইজেশন এবং অপরাধী ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক সেনা হিসেবে নিয়োগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাশিয়ার আইন ও বিধিবিধানে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চলতি বছরের ১৮–২০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার স্টেট ডুমা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মোবিলাইজেশন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা।
কেএম
বিজ্ঞাপন