ব্রেকিং নিউজ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন দাবি ‘নারীর নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার’প্রতিবাদে জাবি থিয়েটারের পথনাটক আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন মেসি কারিনার ‘দায়রা’ কি হায়দরাবাদ ধর্ষণকাণ্ডের গল্প? রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে নিখোঁজ কুদ্দুসের মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে চা–বাগান ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, মাথাল পরে তুললেন পাতা ইউএপিতে অনুষ্ঠিত হলো আইসিপিসি-জেআরসি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আ’লীগ নেত্রীর ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাদীকে দিতে হবে ২৫ লাখ টাকা সরকারি পে-স্কেল: বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়েও বড় সুখবর নবম পে-স্কেলে বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ 
জাতীয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গান বন্ধের ইস্যুতে হাসনাতের সঙ্গে যে কথা হলো মাদানীর

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘গান বন্ধ’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন গাজীপুর বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রধান খতিব হাফেজ কারী মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানী। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে হাফেজ কারী মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানী এ নিয়ে তার ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘গান বন্ধের’ ইস্যুতে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে আমার ফোনালাপ। সকাল তখন ৭টা। ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি-হাসনাত আবদুল্লাহ ভাই আমার হোয়াটসঅ্যাপে কল করছেন। আমি কল রিসিভ করলাম।’ রহিম আরও লেখেন, ‘সালাম ও কুশল বিনিময়ের পর তিনি গত দুদিন ধরে তাঁকে নিয়ে করা বিভিন্ন পোস্ট, সমালোচনা এবং ফেসবুকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে যে গালমন্দ হচ্ছে—সেসব বিষয়ে কিছুটা দুঃখপ্রকাশ করলেন। নিজের মনের ব্যথার কথাও আমার সঙ্গে শেয়ার করলেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে চাইলেন।’ আরও পড়ুন হাসনাতকে মুফতি কাসেমী / শাহবাগী সাজতে মাদরাসার ছাত্ররা তোমাদের সঙ্গে মাঠে নামেনি তিনি লেখেন, ‘সম্ভবত আমার লেখা তাঁর চোখে পড়েছিল। আর সেই লেখাটি দেখেই তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাঁকে পরিষ্কার করে বলেছি—ভাই, আমার লেখায় আপনার প্রতি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না। আমি আমার হৃদয়ের কথাটিই বলেছি। একজন আপন মানুষকে যেভাবে নিজের অনুভূতির কথা বলা যায়, আমি সেভাবেই বলেছি।’ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি তাঁকে আরও বলেছি—রাজনীতিতে ডানপন্থা ও বামপন্থা—দুটি ভিন্ন প্রবাহ রয়েছে। মানুষ আপনাকে ডানপন্থী হিসেবেই চিনেছে। আপনার রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে তাওহিদী ও ডানপন্থী জনতার যে বিশাল অবদান রয়েছে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’ ‘তাই আপনি যখন কোনো বক্তব্যের কারণে সেই জনতার একটি বড় অংশের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন, তখন তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে দুঃখ প্রকাশ করাটাই একজন জননেতার সৌন্দর্য। হাসনাত ভাই আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন—যদি গান-বাজনা বন্ধ করার পক্ষে সরাসরি কথা বলা হয়, তাহলে একটি মহল প্রচার করতে পারে যে বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান হয়েছে।’ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি তাঁকে বলেছি—ভাই, এই ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশকে ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’ কিংবা ‘উগ্রপন্থী’ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা নতুন কোনো বিষয় নয়। ইসলাম ও ইসলামপন্থী জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এই বয়ান বহুদিন ধরেই প্রচলিত। আপনি গান-বাজনার বিরুদ্ধে কথা বললেন বলেই বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র হয়ে যাবে—এমন নয়। বরং আমাদের উচিত সত্যকে সত্য বলা এবং দেশের মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো।’ আবদুর রহিম বলেন, ‘তিনি আরও বললেন এই দায়িত্ব আলেম-ওলামা বা সাধারণ মানুষ কেন নেবে? রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন এর দায়িত্ব নেবেন না? আমি বলেছি—রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করবে, এটা ঠিক। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আপনার বক্তব্যেরও একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। তাই আপনার বক্তব্যে যদি আপনার দীর্ঘদিনের সমর্থকরা কষ্ট পেয়ে থাকে, তাহলে তাদের অনুভূতিটাও আপনাকে বিবেচনায় নিতে হবে।’ ‘তিনি আমাকে আরও বললেন—এখন যদি তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, তাহলে অন্য পক্ষ বলতে পারে, ‘ডানপন্থীদের চাপে পড়ে তিনি তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।’ ‘আমি তাঁকে বলেছি—ভাই, সত্য কথা বলার জন্য কারও চাপের প্রয়োজন হয় না। আপনি যেটিকে সঠিক মনে করেন, সেটিই বলুন। কিন্তু আপনার রাজনৈতিক শক্তির একটি বড় অংশ যে তাওহিদী জনতা—এই বাস্তবতাটিকে কখনো উপেক্ষা করবেন না।আর সর্বশেষ আমি তাঁকে যে কথাটি বলেছি, সেটি অত্যন্ত আপন মনে করেই বলেছি—হাসনাত আবদুল্লাহ ভাই, আমরা আপনাকে রাশেদ খান মেনন কিংবা হাসানুল হক ইনুর রাজনৈতিক ধারার একজন হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা আপনাকে শহীদ ওসমান হাদীর সাহস, দেশপ্রেম ও স্পষ্টবাদিতার একজন প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখতে চাই।’ আরও পড়ুন দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো, কওমি শিক্ষার্থীদের রাশেদ খাঁন তিনি লেখেন, ‘আপনি শিক্ষিত মানুষ। আপনি তরুণ প্রজন্মের একজন পরিচিত মুখ। আপনার সামনে অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করবেন না। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। একটি রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা যখন বাড়তে থাকে, তখন জনতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া সেই জনপ্রিয়তার জন্য বড় সংকেত।’ ‘মনে রাখবেন—জনতাই আপনাদের শক্তি। স্বৈরাচার আপনাদের শত্রু। নৈরাজ্যবাদীরা আপনাদের শত্রু। ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজরা আপনাদের শত্রু। এত শত্রুর ভিড়ে বাংলাদেশের তাওহিদী জনতাই আপনাদের একটি বড় শক্তি। সুতরাং সেই জনতাকে হারিয়ে ফেলবেন না। দুই নৌকায় পা রেখে বেশিদিন পথ চলা যায় না।’ পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা যদি সত্যিই বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চান, তাহলে আল্লাহর ওপর ভরসা করুন, তাওহিদী জনতাকে সঙ্গে নিন, ন্যায় ও ইনসাফের পথে চলুন এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। কারণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে রাজনৈতিক শক্তি যত বড়ই হোক, একসময় মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।’ ‘প্রিয় হাসনাত ভাই, আমরা আপনার পতন চাই না। আমরা আপনার ব্যর্থতা চাই না। আমরা চাই—আপনি সফল হোন, দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুন এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ান। আল্লাহ তাআলা আপনার ভবিষ্যৎ মঙ্গলময় করুন। আপনার কর্ম ও উদ্যোগ কবুল করুন। আপনার সাহস, স্পৃহা ও শক্তিমত্তা বৃদ্ধি করুন। দেশের মানুষের অন্তরে আপনার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করুন এবং আপনাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।’ ‘হাফেজ কারী মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানীপ্রধান খতিব, গাজীপুর বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদপ্রধান খতিব, ঐতিহাসিক আম্বর শাহ শাহী জামে মসজিদ, কাওরান বাজার, ঢাকাসভাপতি, গাজীপুর ইমাম পরিষদপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, জামিয়া মাদানিয়া আরাবিয়া, গাজীপুর’ এমআরএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>