বিজ্ঞাপন
বাউফল (পটুয়াখালী): চরের সবুজ ঘাসে লুকিয়ে ছিল মৃত্যুর ফাঁদ। পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষাক্ত ঘাস খেয়ে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রায় ২৫টি মহিষ, এর মধ্যে মারা গেছে তিনটি।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মহিষের মালিক ও রাখালদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, মহিষগুলোর অসুস্থতার পেছনে বিষাক্ত ঘাস খাওয়াই প্রধান কারণ হতে পারে। চরের ঘাস খাওয়ার পরপরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে কয়েকটির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বছরের পর বছর যে চরের সবুজ ঘাসে মহিষের খাবার জুটেছে, শুক্রবার সেই ঘাস ঘিরেই তৈরি হয় শঙ্কা। মহিষ মালিক ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরের লালচরে উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন স্থানীয় খামারিরা। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও শতাধিক মহিষকে চরে ছেড়ে দেন রাখালেরা। মহিষগুলো কিছুক্ষণ ঘাস খাওয়ার পরই শুরু হয় বিপত্তি। হঠাৎ একে একে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে মহিষ। মুহূর্তেই চরের স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে গিয়ে দেখা দেয় উৎকণ্ঠা। এরপর কয়েকটি মহিষের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।বিষাক্ত ঘাস খেয়ে প্রাণ হারিয়েছে তিনটি মহিষ। মৃত মহিষগুলোর মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মহিষ রয়েছে। তবে বিপদ কাটেনি এখনও—মালিকদের ভাষ্য, আরও বেশ কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেব এলাকার মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে লালচরে মহিষ পালন করে আসছি। শত শত মহিষ নিয়মিত চরের ঘাস খায়। কিন্তু এর আগে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি। ধারণা করছি, শত্রুতামূলকভাবে কেউ চরের ঘাসে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। সেই ঘাস খাওয়ার পরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, “বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে আমার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্যগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে।”এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। বাকি মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজ্ঞাপন