জাতীয়

স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনে প্রতারণার আশ্রয়, শহরের স্কুলে বদলিতে দৌড়ঝাঁপ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ফেনী সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অন্য উপজেলা থেকে শিক্ষক বদলি হয়ে আসার প্রবণতা বেড়েছে। এতে একদিকে শহরের বাইরের গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সংকুচিত হয়ে আসছে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ। শিক্ষক বদলির এই প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক নেতা ও চাকরিপ্রার্থীরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সদরের বিদ্যালয়গুলোতে অন্য উপজেলা থেকে বদলি হয়ে আসা শিক্ষকের প্রভাব স্পষ্ট। ফেনী সদরের ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ ১ হাজার ৪৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৮৪৫ জন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের মতে, ফেনী সদরে অন্য উপজেলা থেকে বদলি হয়ে আসা শিক্ষকের হার প্রায় ১৪ শতাংশ। তবে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দাবি, বর্তমানে এ হার ৪৩ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। ২০০৫ সালের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী অন্য উপজেলা থেকে বদলির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। শিক্ষকদের অভিযোগ, আগে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বর্তমানে তা অফলাইনে করা হচ্ছে। এতে অনিয়ম ও তদবিরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভুয়া কাবিননামা তৈরি, শহরে ফ্ল্যাট বা দোকান কিনে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন বা ভুয়া দূরত্ব দেখানোর মতো কৌশলে অনেকে বদলি হয়ে সদরে আসছেন। জুলাই মাসেই ফেনী শহরের একটি স্কুলে যোগ দিতে আবেদন জমা পড়েছে ৭০টি। ফেনী সদর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, অন্য উপজেলা থেকে নিয়মিত শিক্ষক বদলি হয়ে আসায় গ্রাম এলাকার স্কুলগুলোতে পড়াশোনার মান কমছে ও শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সদরের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য শূন্য পদের সুযোগ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। বদলির এ প্রভাবে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ ও ২০২৬ এ দুই বছরে ফেনী সদরে নিয়োগ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন শিক্ষক। সম্প্রতি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী জেলায় সহকারী শিক্ষকের ৯২টি শূন্য পদের মধ্যে সোনাগাজীতে ৩১টি পদ থাকলেও সদরে তা মাত্র ১৭টি। জিয়াউল হক সাদ্দাম নামের এক বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত বদলির কারণে সদরের পদ কমে মাত্র ৮টিতে নেমে এসেছিল। লিখিত ও ভাইভা ভালো দিয়েও পদ কম থাকায় আমি চাকরি পাইনি, অথচ অন্য উপজেলায় ৩৫ থেকে ৪০টি শূন্য পদ ছিল। তবে ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃষীকেশ শীল জানান, বদলি সংক্রান্ত বিষয়গুলো জেলা পর্যায়ের কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে যেন কেউ বঞ্চিত না হয়। তিনি আশ্বাস দেন, সামনে বড় নিয়োগ আসছে এবং সেখানে স্থানীয়রা অগ্রাধিকার পাবেন। এদিকে, গত রোববার (২৩ আগস্ট) শিক্ষকদের বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত জেলা কমিটির নির্ধারিত বৈঠকটি অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে আবেদনকারীদের স্থায়ী ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>