জাতীয়

পর্যটকদের নির্মল আনন্দ দিতে নতুন রূপে সাজবে পতেঙ্গা সৈকত

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে আধুনিক ডাস্টবিন ও ওয়াশ ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৈকতের সাজসজ্জায়ও পরিবর্তন আনা হবে।  শনিবার (২৯ আগস্ট) পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে সৈকতে র‍্যালি বের করা হয়। পরে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় নাগরিকরা সৈকতের ওয়াকওয়ে ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন। এসময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সৈকতের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। দোকানগুলোর বর্জ্য কোথায় ফেলা হয়, তা জানতে চান তিনি। নির্ধারিত ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি পর্যটকদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলতে সচেতন করার জন্য দোকান মালিকদের নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে সৈকতের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পতেঙ্গা সৈকতকে আধুনিক ও মনোরমভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হবে। আধুনিক ডাস্টবিন ও প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হবে। আমরা এর একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই। সৈকতের দোকানগুলোর মান নিয়েও কঠোর হওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, খাবারের মান, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেই দোকান পরিচালনা করতে হবে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈকতে প্রয়োজনের তুলনায় দোকানের সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, এত বেশি দোকানের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। যারা নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে পারবে, তাদের দোকান থাকবে। যারা পারবে না, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত মান অনুযায়ী খাবার পরিবেশন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা বজায় না রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পতেঙ্গা সৈকতের নিরাপত্তা বাড়াতে আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। প্রয়োজনে সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। তবে নিরাপত্তাকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে অনেক পর্যটক সাগরে নেমে পড়েন উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা এখানে আসুন, আনন্দ করুন এবং নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করুন। কিন্তু আপনার জীবন আপনার কাছেই সবচেয়ে মূল্যবান। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে চলুন। সৈকতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনো অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু সরকারি কোনো একটি সংস্থার পক্ষে সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, এটি শুধু আমার বা আপনার দায়িত্ব নয়। সবাই দায়িত্ব পালন করলে সৈকতের পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব। আমরা কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার লক্ষ্যে গত ২৫ জুলাই জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। সরকারি দপ্তরের ছাদ ও প্রাঙ্গণ পরিষ্কারের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুকুর ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধ এবং পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমআরএএইচ/এমকেআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>