বিজ্ঞাপন
বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়া ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন বা পলিমার মডিফাইড বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেবে মালয়েশিয়া।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাবারাইজড বিটুমিন সাধারণত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও তাদের কার্পেটিং করা সড়ক সহজে নষ্ট হয় না। কারণ, তারা বিটুমিনের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন
৬ মাসে মালয়েশিয়ায় ২ লাখ কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর থেকে শুরু
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
‘এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পর্যায়ক্রমে রেইনি সিজনে যাতে রাস্তাগুলো বৃষ্টির সময় নষ্ট হয়ে না যায়, এ কারণে কমপক্ষে আমরা পর্যায়ক্রমে শুরু করবো। প্রযুক্তিটা আমাদের কাছে অ্যাভেলেবল না হওয়ায় মালয়েশিয়া আমাদের কারিগরি সহায়তা দেবে।’
রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের প্রযুক্তি দেশে নতুন নয় জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৫ সালে যখন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, তখন বগুড়া সদরে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় আমরা মালয়েশিয়া থেকে এই পলিমার মডিফাইড বিটুমিন, অর্থাৎ রাবারাইজড বিটুমিন নিয়ে এসে দুই কিলোমিটার রাস্তা পাইলটিং করেছিলাম।’
আরও পড়ুন
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে হাইকোর্টে রিট
ওই সময় বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণ করা ওই সড়ক এখনো ভালো আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেসব গ্রামীণ রাস্তা আমরা রিপেয়ার করবো, মেইনটেন্যান্স করবো বা নতুন রাস্তা হবে, এগুলো রাবারাইজড কার্পেটিং বিটুমিন দ্বারা কার্পেটিংয়ের জন্য আমরা এগিয়ে যাবো।’
ইভি, সৌরবিদ্যুৎ ও হালাল খাদ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ
বৈঠকে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান বা ইভি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
এছাড়া সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগ করবে দেশটি। পাশাপাশি হালাল খাদ্য খাতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘সব মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের মতো ইনভেস্টমেন্ট করার ব্যাপারে একটা প্রস্তুতি চলছে। তার বক্তব্যে আমরা যেটুকু বুঝেছি যে খুব দ্রুতই এ সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
আরএমএম/এমআইএইচএস/
বিজ্ঞাপন