ব্রেকিং নিউজ
আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের নথি চাইলো দুদক ডলারে ট্রাম্পের মুখ, শত বছর পর মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় মেধাবী সালমা পাঠকের ছবি (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য নতুন করে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না, সংসদে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভাবন ও টেকসই নির্মাণে প্রকৌশলীদের পুরস্কৃত করবে লাফার্জহোলসিম কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসার শিক্ষক আটক নতুন চশমায় স্ক্র্যাচ পড়ছে আপনার যে ভুলে রেলওয়ে থেকে নেওয়া অবৈধ সংযোগ কেটে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ফের চালু হুইল চেয়ারে সংসদ অধিবেশনে মির্জা আব্বাস, অভিনন্দন জানালেন স্পিকার
জাতীয়

বিদ্যুতের সমস্যা শুধু আমাদের দেশেই নয়, উন্নয়নশীল দেশেও আছে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
শিরোনাম পড়ে হয়তো ভাবছেন, আরে তাই হয় নাকি? অনেকে হয়তো এতক্ষণে গুগল করে ফেলেছেন। কিন্তু সত্যিই এই তথ্য কিছুটা অবাক করার মতোই। বিদ্যুতের সমস্যা শুধু আমাদের দেশেই নয়। উন্নয়নশীল সব দেশেও আছে। আর এ সমস্যা প্রতিরোধে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন। জ্বালানির জন্য বিকল্প শক্তি ব্যবহারের ভাবনা নতুন নয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর চেয়েও বেশি। অন্যদিকে ১ হাজার মিটার গভীরে সমুদ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দুই স্তরের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য ২০ ডিগ্রিরও বেশি। বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের এ পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন। সমুদ্রশক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করার এ প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘ওশান থার্মাল এনার্জি কনভার্শন’ বা ‘ওটেক’। আরও পড়ুন প্রথমবার সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে ৫ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিও বেশ সহজ। প্রথমে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপের মধ্য দিয়ে সমুদ্রের গভীরের ঠান্ডা পানি সমুদ্রপৃষ্ঠে পাম্প করা হয়। এ ঠান্ডা পানি এক বিশেষ ধরনের গ্যাসকে তরল পদার্থে পরিণত করে। পরিশেষে এ তরল গ্যাস সমুদ্রপৃষ্ঠের গরম পানির সংস্পর্শে এসে ফুটতে থাকে। এ প্রক্রিয়া চালু রাখলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার টার্বাইন বা বিশাল চাকা ঘোরানো সম্ভব। কয়লার সাহায্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রায় একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। তবে ‘ওটেক’-এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনোরকম কার্বন-ডাই অক্সাইডের নির্গমন ঘটে না। আর তাই এ প্রযুক্তিটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। সমুদ্রের উষ্ণতা বা সমুদ্রশক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরিতে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে আছে ফ্রান্সের একটি জাহাজ নির্মাণ সংস্থা ‘ডিসিএনএস’। এর প্রতিনিধি এমানুয়েল ব্রশার বলেন, বায়ুশক্তি বা সৌরশক্তির ক্ষেত্রে সব সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। অপেক্ষা করতে হয় বাতাস বা রোদের জন্য। অথচ সমুদ্রের এ শক্তি কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই টানা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। সমুদ্রশক্তিচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগটি সর্বপ্রথম শুরু হয় আশির দশকে। বেশ কিছু প্রাথমিক যন্ত্রও তৈরি হয়েছিল সে সময়; কিন্তু তেলের দাম কম থাকায় খরচে পোষায়নি। এখন তেলের দাম বেড়ে চলায় ও পরিবেশের ক্ষতির কারণে ‘ওটেক’ পদ্ধতি আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তারা প্রাথমিক স্তরে একটি কেন্দ্র গড়ে তুলেছে, যা থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ২০১৫ সালে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। প্রকল্পটি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ মিটার ব্যাসের এক কৃত্রিম দ্বীপের মতো। এতে রয়েছে একটি লম্বা পাইপ, যা সমুদ্রের নিচে প্রায় ১ হাজার মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া আছে বাষ্পচালিত একটি টার্বাইন যন্ত্র। এমন এক উৎপাদন কেন্দ্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আরও পড়ুন মূল্যস্ফীতির প্রভাবে হাঁসফাঁস শিক্ষাজীবন, খাবারে পুষ্টির ঘাটতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন এক প্ল্যাটফর্ম ঠিক কোথায় বসানো হচ্ছে, সে অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মের আকার ও আয়তন স্থির করতে হয়। যেমন ভারত মহাসাগরে সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা ক্যারিবীয় সাগরের তুলনায় অনেক বেশি। ভাসমান এই এক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সেই ধাক্কা সামলাতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পাইপ নিয়ে, যা দিয়ে সমুদ্রের গভীরের ঠান্ডা পানি তোলা হবে। এ পাইপ হতে হবে স্থিতিশীল এবং দামেও সস্তা। সমুদ্রশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে নিঃসন্দেহে তা হবে একটি চমৎকার ও উজ্জ্বল প্রযুক্তি; কিন্তু এ প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সেই এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। তবে যেসব বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন, এমন বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। এদিকে কক্সবাজারের বাতাস এখন আর শুধু প্রাকৃতিক উপাদান নয়, এটি পরিণত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শক্তিশালী উৎসে। দেশের অন্যতম বৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখান থেকে নিয়মিতভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অঞ্চল বায়ুবিদ্যুতের পাশাপাশি সমুদ্র ঢেউভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির জন্যও অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সব মিলিয়ে, কক্সবাজারের এই বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র শুধু একটি প্রকল্প নয়-এটি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার। বাতাসের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩ মিটারের বেশি হলে টারবাইনগুলো প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে, যা সাধারণত ৩০০ কিলোওয়াট থেকে ৩.৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত ওঠানামা করে। তবে বাতাসের গতি যখন প্রতি সেকেন্ডে ৯ মিটার বা তার বেশি হয়, তখন প্রতিটি টারবাইন সর্বোচ্চ ৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। এই অবস্থায় পুরো কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। এটি একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, যেখানে গ্যাস, তেল বা কয়লার কোনো ব্যবহার নেই। শুধু প্রাকৃতিক বাতাসের শক্তি ব্যবহার করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প নিয়মিতভাবে জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। কক্সবাজারের ৬০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের একটি অনন্য ও পাইলট প্রকল্প হিসেবে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আরও পড়ুন নেপালে আকস্মিক বন্যা: প্রকৃতি কেন এত ভয়ংকর হয়ে ওঠে? উৎপাদিত বিদ্যুৎ খুরুশকুল সাবস্টেশন হয়ে ৪০টি গ্রিড টাওয়ার অতিক্রম করে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে এই সবুজ শক্তি। এই অঞ্চল শুধু বায়ুবিদ্যুৎ নয়-সমুদ্র ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো নতুন প্রযুক্তির জন্যও অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বহুমুখী উদ্যোগ না থাকলে সংকটকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। তাই বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসগুলো কাজে লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এখানে পাহাড় ও সমুদ্রের সমন্বয় থাকায় প্রাকৃতিকভাবে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি অনুক‚ল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কুতুবদিয়া, টেকনাফ, মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তর ও দক্ষিণ দিকের বাতাসের প্রবাহ অনেকটাই স্থিতিশীল। এসব এলাকার বায়ুর গতিবেগ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে যদি কার্যকরভাবে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা যায়, তাহলে দেশের বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। শুধু বায়ু বিদ্যুৎই নয়, কক্সবাজারে আরও কিছু অপ্রচলিত জ্বালানি সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের (ওয়েভ এনার্জি) সম্ভাবনাও এখানে রয়েছে। এতে ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। যেখানে বাতাসই হয়ে উঠছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন শক্তি এবং সেই শক্তিই যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে, কক্সবাজারের এই বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের উন্নয়নের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এটি জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত দু’বছরে কক্সবাজার বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>