ব্রেকিং নিউজ
সহকর্মীর বেতন জিজ্ঞাসা করা কি দোষের কিছু? স্রোতের পানিতে আটকে পড়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করছে হাতি—ভিডিওটি নেপালের বন্যার নয় লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ, কর্মকর্তাকে ঘিরে গ্রামবাসীর অভিনব প্রতিবাদ তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত Neeraj Chopra: গোড়ালির চোটে কাবু, হুইলচেয়ারে নীরজ, সোশ্য়াল মিডিয়ায় প্রার্থনা 'দ্রুত সুস্থ হও গোল্ডেন বয়' অফিসের খাবার দুপুর পর্যন্ত গরম রাখতে যেভাবে প্যাক করবেন ইসলামিক তথ্য নিয়ে নতুন ওয়েব অ্যাপ ‘প্রিয় মুসলিম’ ঠাকুরগাঁও-১ আসন উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা ‘নিঃস্ব’তে একসঙ্গে শাকিব-নাসির! বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যাংক তৈরির চেষ্টা করছে কানাডা
জাতীয়

বইপড়ার অভ্যাস গড়ে আলোকিত প্রজন্ম নির্মাণের প্রত্যয়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ফয়সাল হাবিব বই মানুষের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একটি ভালো বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে এবং জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বইপড়া কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের উপায় নয়। এটি তাদের সচেতন, যুক্তিবাদী, মানবিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার একটি কার্যকর পথ। বর্তমানে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নানা ধরনের ডিজিটাল বিনোদনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রেখে বইপড়ার অভ্যাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বইপড়ায় উৎসাহিত করতে কমিটি গঠনের পরিকল্পনা তাই নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয়, সময়োপযোগী এবং শিক্ষাবান্ধব পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বই বিতরণ কিংবা প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক একটি স্থায়ী পাঠসংস্কৃতি গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচিত করা এবং বইকে তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করা। বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এই কর্মসূচি জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা এবং আত্মউন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা, নিয়মিত কার্যক্রম এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণে কলেজটি একটি আদর্শ পাঠবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারে। বইপড়ার প্রয়োজনীয়তা শিক্ষার্থীর শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের নির্ধারিত অধ্যায় শেষ করা বা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাঠ্যবই তাকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। কিন্তু বহুমুখী বইপাঠ তাকে বাস্তব জীবন, সমাজ ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী, ভ্রমণকাহিনি, পরিবেশবিষয়ক বই, সমাজবিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক লেখা পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পৃথিবী, মানুষ ও নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করতে পারে। বইপড়া মানুষের চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি করে। একজন পাঠক বই থেকে শুধু তথ্য গ্রহণ করে না। সে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে শেখে, প্রশ্ন তোলে, যুক্তি খোঁজে এবং নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পড়া বিষয় মিলিয়ে দেখে। এর ফলে তার বিচারবোধ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা গড়ে ওঠে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, চাকরির প্রস্তুতি এবং কর্মজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব দক্ষতার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। নিয়মিত বইপড়ার মাধ্যমে ভাষাজ্ঞানও উন্নত হয়। বাংলা বই পাঠের ফলে শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়, শুদ্ধভাবে লিখতে শেখা যায় এবং সাবলীলভাবে কথা বলার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। একইভাবে ইংরেজি গল্প, প্রবন্ধ, সংবাদপত্র বা সহজ বইপড়ার অভ্যাস ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, চাকরির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা, উপস্থাপনা এবং প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভাষাগত দক্ষতার বিকল্প নেই। বই মানুষকে নৈতিক ও মানবিক করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়লে একজন শিক্ষার্থী দেশের স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করতে পারে। মহান ব্যক্তিদের জীবনী তাকে শ্রম, সততা, আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়। সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে মানুষ অন্যের আনন্দ, বেদনা, স্বপ্ন, সংকট ও সামাজিক বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শেখে। ফলে তার মধ্যে সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান তৈরির সুযোগ হয়। বইপড়ার দূরদর্শী উদ্যোগ প্রতিটি উপজেলায় বইপড়ার জন্য কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ একটি দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন। তবে এ কার্যক্রমকে কেবল বই বিতরণ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বা একদিনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ রাখলে এর মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত ও আনন্দময় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা। বইপড়াকে চাপ বা বাধ্যবাধকতা হিসেবে নয় বরং সৃজনশীলতা, আনন্দ এবং আত্মোন্নয়নের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্কুল ও কলেজভিত্তিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে পাঠাভ্যাসের কাজকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব। এসব কমিটিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি, স্থানীয় পাঠপ্রেমী ব্যক্তি এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। কমিটি শিক্ষার্থীদের পাঠের আগ্রহ, পাঠাগারের অবস্থা, প্রয়োজনীয় বইয়ের তালিকা, বই সংগ্রহ এবং নিয়মিত পাঠভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করতে পারে। আরও পড়ুন আলো ছড়াচ্ছে আদর্শ সমাজকল্যাণ গণপাঠাগার এ উদ্যোগের একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো, এটি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের সীমাবদ্ধ গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর জ্ঞানজগতে প্রবেশের সুযোগ দেবে। পরীক্ষার চাপ, কোচিংনির্ভরতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, স্মার্টফোন ব্যবহার এবং বিনোদনমূলক কনটেন্টের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বইপড়া থেকে দূরে থাকে। নিয়মিত পাঠচক্র, বই আলোচনা, কুইজ, পাঠ প্রতিযোগিতা, দেওয়ালপত্রিকা, বই বিনিময় এবং পাঠাগারকেন্দ্রিক কর্মসূচি চালু করা হলে তাদের মধ্যে বইয়ের প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি হবে। এ উদ্যোগকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া জরুরি। কারণ পাঠাভ্যাস শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত উন্নয়ন ঘটায় না বরং একটি সচেতন, শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত বইপড়া শিক্ষার্থীরা গুজব, কুসংস্কার, অসহিষ্ণুতা এবং সহিংস চিন্তাধারা থেকে দূরে থাকার মানসিক শক্তি অর্জন করে। তারা তথ্য যাচাই করতে শেখে, যুক্তিনির্ভর মতামত গড়ে তোলে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। বইপড়া কর্মসূচির কাঠামো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক, খ ও গ—এই তিন বিভাগে বইপড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাংলা সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং জীবনীমূলক গ্রন্থকে পাঠসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয় নির্বাচন থেকে বোঝা যায় যে, কর্মসূচিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্যবোধ, জাতীয় চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং ইতিহাসচেতনা বিকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার মোট মূল্যায়ন হবে ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ২০ নম্বর, মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১০ নম্বর এবং বই উপস্থাপন ও বিশ্লেষণের জন্য ২০ নম্বর নির্ধারিত আছে। এই মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর, কারণ এতে শিক্ষার্থীর শুধু মুখস্থজ্ঞান মূল্যায়ন করা হবে না। বরং সে বইটি কতটা বুঝেছে, নিজের ভাষায় কীভাবে উপস্থাপন করতে পারে এবং বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে কতটা যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ করতে সক্ষম, তা মূল্যায়িত হবে। উপজেলা পর্যায় থেকে সেরা ১৫ জন শিক্ষার্থীকে জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, আত্মবিশ্বাস এবং উন্নতির মানসিকতা গড়ে উঠবে। বিভাগভিত্তিক চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীকে সনদপত্র দেওয়া হলে বিজয়ী না হলেও তাদের অংশগ্রহণের স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে। এতে ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থী বইপড়ার কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত হবে।কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অধীনে সাতটি বিশেষ উপ-কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত বই নির্বাচন, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ কর্মসূচি কেবল একটি বার্ষিক প্রতিযোগিতায় সীমিত থাকবে না। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি পাঠাভ্যাস তৈরির একটি কার্যকর মডেলে পরিণত হতে পারে। বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের করণীয় বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজ এই মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কলেজ কেবল পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণের স্থান নয়। এটি জ্ঞানচর্চা, মূল্যবোধ বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ নাগরিক তৈরির একটি কেন্দ্র। কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে এর ইতিবাচক প্রভাব তাদের পরিবার, বন্ধু, সমাজ এবং কর্মজীবন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। কলেজে একটি কার্যকর বইপড়া কমিটি গঠন করা যেতে পারে। একজন শিক্ষককে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এ কমিটি বার্ষিক পাঠপরিকল্পনা তৈরি, মাসিক কার্যক্রম পরিচালনা, বই নির্বাচন, পাঠাগারের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে পারে। কমিটিকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও সক্রিয়ভাবে পরিচালিত করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন বা সময়কে ‌‘পাঠঘণ্টা’ হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বই পড়বে। শিক্ষকেরা বই নির্বাচনে সহায়তা করতে পারেন এবং পাঠশেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী সংক্ষেপে বলতে পারে, তারা কী পড়েছে এবং বই থেকে কী শিখেছে। এতে বইপড়ার পাশাপাশি তাদের বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রতি মাসে ‘মাসের বই’ কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। বয়স ও শ্রেণি উপযোগী একটি মানসম্মত বই নির্বাচন করে শিক্ষার্থীদের তা পড়তে উৎসাহিত করা হবে। মাস শেষে বইটির ওপর আলোচনা, কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা, পোস্টার তৈরি অথবা মৌখিক উপস্থাপনার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে একটি বইকে কেন্দ্র করে বহু শিক্ষার্থীর মধ্যে আলোচনা, চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিবেশ তৈরি হবে। আরও পড়ুন কুমিল্লায় বিলকিছ-আলম পাঠাগারের স্থায়ী ঠিকানা কলেজে বই পর্যালোচনা প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা যেতে পারে। একজন শিক্ষার্থী একটি বই পড়ে তার মূল বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ দিক, শেখার বিষয় এবং ব্যক্তিগত মতামত লিখবে। এর ফলে পাঠের সঙ্গে লেখার অভ্যাসও গড়ে উঠবে। নির্বাচিত ভালো পর্যালোচনাগুলো কলেজের দেওয়ালপত্রিকা, বার্ষিক ম্যাগাজিন বা অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা বই পড়তে, সুন্দরভাবে লিখতে এবং নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে উৎসাহিত হবে। পাঠাগারকে প্রাণবন্ত করা একটি পাঠবান্ধব কলেজ গঠনে কার্যকর পাঠাগারের ভূমিকা অপরিসীম। বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের লাইব্রেরি যদি নিয়মিত খোলা থাকে, পরিচ্ছন্ন ও নীরব পরিবেশ বজায় রাখে এবং প্রয়োজনীয় বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি করে। তাহলে এটি শিক্ষার্থীদের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। লাইব্রেরিতে শুধু পাঠ্যবই রাখলে যথেষ্ট হবে না। সেখানে বাংলা সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃষি, পরিবেশ, জীবনী, ভ্রমণকাহিনি, ক্যারিয়ার, সাধারণ জ্ঞান এবং সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক বই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ের বই থাকলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী পড়ার সুযোগ পাবে। নতুন বইয়ের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা যেতে পারে। ‘এই সপ্তাহের বই’, ‘নতুন সংযোজন’, ‘বিজ্ঞান কর্নার’, ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’, ‘শ্রেষ্ঠ জীবনী’ কিংবা ‘ক্যারিয়ার কর্নার’ তৈরি করা হলে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল বাড়বে। কলেজের নোটিশ বোর্ড বা দেওয়ালে বিখ্যাত বই থেকে বাছাই করা অনুপ্রেরণামূলক উদ্ধৃতি প্রদর্শন করলেও পাঠে আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে।লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত আলো, বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। দৈনিক উপস্থিতি খাতা রাখা যেতে পারে, তবে এটি যেন চাপ সৃষ্টি না করে। বরং নিয়মিত পাঠকদের মাসিকভাবে সম্মাননা দেওয়া বা তাদের নাম প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে অন্য শিক্ষার্থীরাও বইপড়ায় আগ্রহী হবে। বই সংগ্রহে শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, অভিভাবক এবং বইপ্রেমী মানুষের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। ‘একজন একটি বই দান করি’ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে কলেজ লাইব্রেরির সংগ্রহ দ্রুত সমৃদ্ধ হতে পারে। তবে বই সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংখ্যার চেয়ে মানের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শিক্ষার্থীদের বয়স, মানসিকতা ও শিক্ষাগত প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বই নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের দায়িত্ব বইপড়ার আন্দোলন সফল করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন। তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তা, রুচি ও মূল্যবোধ গঠনের পথপ্রদর্শক। শিক্ষকেরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে সহায়ক ও মানসম্মত বইপড়ার পরামর্শ দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইপাঠের আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়। পাঠদানের সময় শিক্ষকেরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে গল্প, জীবনী, গবেষণা, প্রবন্ধ বা ঐতিহাসিক ঘটনার সংযোগ তুলে ধরতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে যে, পাঠ্যবিষয় কেবল পরীক্ষার জন্য নয়, বাস্তব জীবন ও বৃহত্তর জ্ঞানের সঙ্গেও যুক্ত। বাংলা বিভাগের শিক্ষকেরা সাহিত্য, কবিতা, গল্প ও উপন্যাস পড়তে উৎসাহ দিতে পারেন। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকেরা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের ইতিহাসবিষয়ক বইপড়ার পরামর্শ দিতে পারেন। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকেরা বিজ্ঞানীদের জীবনী, আবিষ্কারের গল্প এবং পরিবেশবিষয়ক বইয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকেরা সহজ ইংরেজি গল্প, প্রবন্ধ, সংবাদপত্র এবং শব্দভান্ডার বৃদ্ধির বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারেন। শিক্ষার্থীদের কাছে বইপড়াকে শাস্তি, বাড়ির কাজ বা বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। বইপড়ার মধ্যে আনন্দ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীর আগ্রহ, বয়স, ভাষাগত দক্ষতা এবং মানসিক প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বই নির্বাচন করতে হবে। কেউ গল্পে আগ্রহী, কেউ ইতিহাসে, কেউ বিজ্ঞানে, কেউ কবিতা বা আত্মজীবনীতে। পছন্দের বিষয় দিয়ে পাঠের শুরু হলে দীর্ঘমেয়াদে পাঠাভ্যাস স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আরও পড়ুন বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের করণীয় বইপড়ার এই আন্দোলনের প্রধান শক্তি শিক্ষার্থীরাই। তাদের বুঝতে হবে যে ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্ব শুধু শিক্ষক বা অভিভাবকের নয়। নিজেদেরও সক্রিয়ভাবে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। প্রতিদিন দীর্ঘসময় বইপড়া সম্ভব না হলেও নিয়মিত ২০ থেকে ৩০ মিনিট পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। রাতের ঘুমের আগে, ক্লাসের বিরতিতে, যাতায়াতের সময় বা অবসর মুহূর্তে বইপড়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা শুরুতে সহজ ও পছন্দের বিষয়ভিত্তিক বই বেছে নিতে পারে। গল্পপ্রিয় শিক্ষার্থী ছোটগল্প, কিশোর উপন্যাস বা ভ্রমণকাহিনি পড়তে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা জনপ্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক বই পড়তে পারে। যারা চাকরি, ভর্তি পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চান, তারা বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং সমসাময়িক বিষয় পড়তে পারেন। তবে পরীক্ষাভিত্তিক বইয়ের পাশাপাশি মনন, নৈতিকতা ও চিন্তার জগৎ গড়ে তোলে এমন বইপড়াও জরুরি। পড়ার সময় নোট নেওয়ার অভ্যাস উপকারী। নতুন শব্দ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সুন্দর উক্তি এবং নিজের মনে জাগা প্রশ্ন লিখে রাখা যেতে পারে। এতে পড়া বিষয় দীর্ঘদিন মনে থাকে এবং লেখার দক্ষতা উন্নত হয়। একটি ছোট পাঠ-ডায়েরিতে বইয়ের নাম, লেখকের নাম, পড়া শুরু ও শেষ করার সময় এবং বই থেকে শেখা বিষয়গুলো লিখে রাখা যেতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে বই বিনিময় করা একটি কার্যকর ও কম খরচের অভ্যাস। একজন শিক্ষার্থী একটি বই পড়ে অন্য বন্ধুকে দিতে পারে। এতে অল্প খরচে অনেক বইপড়া সম্ভব হয়। বন্ধুরা একসঙ্গে একটি বই পড়ার পর আলোচনা করলে বইয়ের বিষয়বস্তু আরও গভীরভাবে বোঝা যায় এবং পারস্পরিক সম্পর্কও শক্তিশালী হয়। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বর্তমান শিক্ষাজীবনে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা ই-বুক, অনলাইন সংবাদপত্র, গবেষণা নিবন্ধ, অভিধান এবং শিক্ষামূলক ভিডিও থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। যেসব বই সহজে মুদ্রিত আকারে পাওয়া যায় না; সেগুলোর বৈধ ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃষি, পরিবেশ, উচ্চশিক্ষা এবং সমসাময়িক বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল উৎস সহায়ক। তবে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বইপড়ার অভ্যাসে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাঠের সময় বারবার নোটিফিকেশন দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করা এবং বিনোদনমূলক ভিডিওতে আসক্তি মনোযোগ নষ্ট করে। তাই বইপড়ার সময় ফোন নীরব রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করা অথবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত রাখা ভালো। ডিজিটাল উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করাও অত্যন্ত জরুরি। অনলাইনে পাওয়া সব তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়। তাই লেখকের পরিচয়, প্রকাশকের বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রকাশের সময় এবং তথ্যের উৎস যাচাই করে পড়া উচিত। অ্যাসাইনমেন্ট, গবেষণামূলক লেখা কিংবা বিতর্কের প্রস্তুতিতে নির্ভরযোগ্য বই, সরকারি তথ্য, স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম এবং গবেষণা নিবন্ধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অভিভাবক ও সমাজের ভূমিকা শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস তৈরিতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকেরা সন্তানকে শুধু পরীক্ষার ফলের জন্য চাপ না দিয়ে নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহ দিতে পারেন। বাড়িতে একটি ছোট বইয়ের তাক রাখা, জন্মদিনে বই উপহার দেওয়া কিংবা পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে পড়ার পরিবেশ তৈরি করা কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। বড়রা বই পড়লে শিশু ও তরুণরাও স্বাভাবিকভাবে বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়। স্থানীয় সমাজের সচেতন ব্যক্তি, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বইপ্রেমীরা এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পারেন। বইমেলা, পাঠচক্র, কবিতা আবৃত্তি, দেওয়ালপত্রিকা, লেখক আলোচনা, বই দান কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে পাঠসংস্কৃতি শক্তিশালী করা সম্ভব। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী ব্যক্তিদের সহায়তা পেলে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ আরও টেকসই ও ফলপ্রসূ হবে। যে কথা না বললেই নয় ‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’—চেতনার আলোকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের বইপড়া কর্মসূচি একটি প্রশংসনীয়, শিক্ষাবান্ধব ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু সাঈদের সাহিত্যপ্রেম, লেখকসত্তা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এ কর্মসূচিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা যদি আন্তরিকভাবে এ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে, তবে বইপড়ার আলো তাদের ব্যক্তিজীবন থেকে পরিবার, সমাজ এবং পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে। বই একজন শিক্ষার্থীকে শুধু পরীক্ষায় সফল হতে সহায়তা করে না। এটি তাকে যুক্তিবাদী, সৃজনশীল, মানবিক, আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। জেলা প্রশাসকের প্রতিটি উপজেলায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বইপড়া কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মহৎ, দূরদর্শী এবং শিক্ষাবান্ধব পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজে পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞানচর্চার নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আরও পড়ুন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘অআকখ’র বইপড়া ও সাহিত্য আড্ডা শিক্ষার্থীরা সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, জীবনী, পরিবেশ ও সমাজবিষয়ক বইপড়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে তাদের জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা, চিন্তার গভীরতা এবং মানবিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ হবে। একটি বই একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। আর অসংখ্য বইপড়া শিক্ষার্থী একটি কলেজ, একটি উপজেলা এবং একটি জাতিকে আলোকিত করার শক্তি রাখে। তাই এ উদ্যোগকে সাময়িক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞানচর্চার আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি প্রতিদিন কিছু সময় বইয়ের সঙ্গে কাটায়, তাহলে তারা শুধু পরীক্ষায় ভালো করবে না বরং সত্যিকার অর্থে আলোকিত, দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক এবং মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। লেখক: প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাঞ্ছারামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>