জাতীয়

ব্যাংকের ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ইসির কেউ জড়িত কি না খতিয়ে দেখার নির্দেশ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একজন নাগরিকের একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকার সুযোগ নেই। অথচ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্ভারে একই ব্যক্তির নামে তিনটি ভিন্ন এনআইডি সচল থাকার তথ্য পেয়েছে একটি ব্যাংক। এসব ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা নিয়ে প্রায় ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এক ব্যক্তির একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আদালত। এনআইডি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত নির্বাচন কমিশনের কেউ এবং ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। গত ২৭ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে এ ঘটনায় মামলা করেন সিটি ব্যাংক পিএলসির এভিপি ও সিনিয়র ম্যানেজার সহিদ-উল-হক। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি উত্তরা পশ্চিম থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ঘটনার সার্বিক তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়। মামলায় ঋণগ্রহীতা মো. মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার ঋণের গ্যারান্টর মো. রফিকুল ইসলাম ও কাজী রাশেদুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অজ্ঞাতপরিচয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আসামি করা হয়েছে। প্রথম ঋণ পরিশোধ করে ব্যাংকের আস্থা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ একটি এনআইডি ও টিআইএন সনদ ব্যবহার করে সিটি ব্যাংকের টঙ্গী শাখা থেকে ৬০ লাখ টাকার অটো লোন নেন মেহেদী হাসান। ওই পরিচয়পত্রে তার বাবার নাম মো. সাব্বির হোসেন এবং মায়ের নাম মোসা. সাকিলা হোসেন উল্লেখ ছিল। ঋণের অর্থে একটি গাড়ি কেনা হয় এবং ব্যাংকের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় সেটি বিআরটিএতে নিবন্ধন করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর ওই ঋণ পরিশোধ করেন মেহেদী। এতে ব্যাংকের কাছে তার ঋণগ্রহীতা হিসেবে আস্থা তৈরি হয়। এরপর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একই এনআইডি ব্যবহার করে তিনি ৫ লাখ টাকার একটি ক্রেডিট কার্ড এবং ২০২৬ সালের ১২ মার্চ আরও ৬০ লাখ টাকার অটো লোন ও ১০ লাখ টাকার পারসোনাল লোন নেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। দ্বিতীয় এনআইডিতে বদলে যায় বাবা-মায়ের নাম মামলার নথিতে বলা হয়েছে, জালিয়াতির আরও বড় ঘটনা ঘটে দ্বিতীয় একটি এনআইডি ব্যবহারের মাধ্যমে। এই পরিচয়পত্রে মেহেদী হাসানের বাবার নাম দেওয়া হয় সাব্বির আলী এবং মায়ের নাম জাহানারা বেগম। এমনকি জন্ম তারিখসহ অন্যান্য পরিচয়গত তথ্যেও পরিবর্তন আনা হয়। এই দ্বিতীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাংকের কার্ড বিভাগ থেকে ভিআইপি ডুয়াল ক্যাটাগরি, ভিসা প্ল্যাটিনাম ও ইসলামিক ডুয়াল ক্যাটাগরির একাধিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আরও প্রায় ৮ লাখ টাকার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন ঋণ নিতে গিয়ে ধরা পড়ে জালিয়াতি ২০২৬ সালের ৮ জুন মেহেদী হাসান দ্বিতীয় এনআইডি ব্যবহার করে ব্যাংকের উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ শাখায় আরও ৬৮ লাখ টাকার কার লোনের আবেদন করেন। ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংক কর্মকর্তারা তার কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে একই ব্যক্তির নামে দুটি পৃথক এনআইডি দেখতে পান। এরপর নতুন ঋণ সুবিধা স্থগিত করা হয়। ব্যাংকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে এরই মধ্যে মেহেদী হাসান ব্যাংক থেকে মোট ৮১ লাখ ৮২ হাজার টাকা নিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তৃতীয় এনআইডির তথ্য ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংক কর্মকর্তারা মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন তিনি আরও একটি ভিন্ন পরিচয়ের এনআইডি থাকার কথা জানান। ওই এনআইডিতেও তার বাবা-মায়ের নাম আলাদা এবং সেটিও নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সক্রিয় রয়েছে বলে ব্যাংককে জানান তিনি। পরে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংকের পাওনা অর্থ এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া গাড়ি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মেহেদী। ‘তিনটি এনআইডি সচল থাকা একার পক্ষে সম্ভব নয়’ মামলার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একজন ব্যক্তির নামে তিনটি এনআইডি সচল থাকার কোনো সুযোগ বর্তমান ব্যবস্থায় নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এনআইডির মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য জাল করে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার ঘটনা একজন ব্যক্তির একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে একই ব্যক্তির তিনটি এনআইডি সক্রিয় থাকার বিষয়টিও গুরুতর। এ কারণে এনআইডি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ এই জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। যেসব কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের বিভিন্ন ঋণ ও কার্ড সুবিধা অনুমোদন করেছিলেন, তাদের কেউ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশ ছাড়ার শঙ্কা ব্যাংকের ব্যাংকের পক্ষ থেকে আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা বিদেশে থাকেন। ফলে একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারকারী এই ব্যক্তি যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। বাদী সহিদ-উল-হক বলেন, নির্ধারিত সময়ে ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় মেহেদী হাসান ও তার গ্যারান্টরদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মেহেদী নিজেই দুটি এনআইডির বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন পিতৃ-মাতৃ পরিচয়ে তৃতীয় একটি এনআইডি থাকার কথা জানিয়েছেন। এদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি। এমডিএএ/এসএনআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>