জাতীয়

তিন মাস পর মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার, প্রকৃতিতে ফিরেছে সজীবতা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
তিন মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার। বন বিভাগ বলছে, দীর্ঘ এই বিরতিতে মানুষের আনাগোনা ও বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিতে ফিরেছে সজীবতা। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীতে বেড়েছে মাছের উপস্থিতি। এছাড়া ঘন হয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, বাইন ও ছইলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। নির্ভয়ে বিচরণ করছে বাঘ, হরিণ, কুমির, বানর, বন্য শূকর ও লাল কাঁকড়াসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশের অপেক্ষায় বনজীবীরা। বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন বনজীবী পরিবারগুলোতে চলছে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণের প্রস্তুতি। সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ ও সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। এরই মধ্যে তিন মাসের অবরোধের সুফল দৃশ্যমান হয়েছে বলে দাবি করছে বন বিভাগ। বন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবরোধ চলাকালে বন অপরাধের আশঙ্কা থাকায় বন বিভাগকে জোরদার করতে হয়েছে টহল। জোয়ার-ভাটার সময় হিসাব করে ২৪ ঘণ্টাই সুন্দরবনে পাহারা দিয়েছেন বনকর্মীরা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে স্মার্ট পেট্রোলিং। স্বাভাবিক সময়ে মাসে সাত দিন স্মার্ট পেট্রোলিং করা হলেও তিন মাসের অবরোধ চলাকালে তা বাড়িয়ে ২০ দিন করা হয়। এতে বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বন বিভাগ। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, অবরোধ বাস্তবায়নে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় টহল জোরদার করা হয়েছিল। এ সময়ে বন অপরাধ কমেছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। হরিণের পালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণও বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি খালের পাড়ে বাঘের উপস্থিতিও পাওয়া যাচ্ছে। রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের মৌয়াল ইন্দ্রিস আলী বলেন, বন্ধ থাকায় তিন মাস বনে যেতে পারি না। এই তিনমাস অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয়েছে। সুন্দরবনই আমাদের রুটি রুজি। বন ভালো থাকলেই আমরা ভালো থাকবো। নিষেধাজ্ঞা শেষে কাল থেকে আবারও বনে গিয়ে মধু সংগ্রহ করতে পারবো। শরণখোলার জেলে তাহের মোড়ল বলেন, তিন মাস বনে যেতে পারিনি। নৌকা-জাল মেরামত করে রেখেছি। এতদিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। আশা করছি এবার বনে গেলে ভালো মাছ পাবো। মাছ ভালো পেলে আমাদের মতো জেলেদের কষ্ট কিছুটা কমবে। আরও পড়ুন লালমনিরহাট সীমান্তে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় টহলও বাড়ানো হয়। এবারও অবরোধের সুফল হিসেবে বনে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও খালে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগে রয়েছে ১৪টি পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর এসব পর্যটনকেন্দ্রে কয়েক লাখ পর্যটক ভ্রমণে আসেন। পাশাপাশি বন বিভাগের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৫০ হাজার বনজীবী সুন্দরবন থেকে মাছ, গোলপাতা ও মধু আহরণ করেন। সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে আসছে বন বিভাগ। এবারের তিন মাসের অবরোধ শেষে বনের প্রাণ-প্রকৃতিতে যে সজীবতা ফিরেছে, তা ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নাহিদ ফরাজী/এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>