জাতীয়

সীতাকুণ্ডে সেই জাহাজে দুর্ঘটনায় অবহেলা থাকলে প্রচলিত আইনে শাস্তি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ট্যাংকার ছিদ্র হয়ে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে হতাহতের ঘটনায় কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (৩১ আগস্ট) এ দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার। এদিন দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে গত ১৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় সংঘটিত দুর্ঘটনায় কর্মরত ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। হতাহতের ঘটনার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইকেলিং রুলসের ওয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়। তবে ঠিক কী ধরনের শাস্তির আওতায় আসবে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রী জানান, জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের সময় একটি ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিদ্র করার পর সেখান থেকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকরা চেতনা হারিয়ে ফেলেন। দুর্ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যু হয়। শিল্পমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই সরকার সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি তাদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে, যেন নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। আরও পড়ুন সীতাকুণ্ডের সেই জাহাজে বিশেষজ্ঞ দল, মেলেনি কোনো বিষাক্ত গ্যাস তিনি আরও বলেন, ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে এ ধরনের প্রাণঘাতী গ্যাস নিঃসৃত হতে পারে, এ বিষয়ে এর আগে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পের সংশ্লিষ্টদের জানা ছিল না। তবে দুর্ঘটনার পরপরই সরকার বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দ্রুততম সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনা বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীর বক্তব্যে ফেরদৌস স্টিল রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের দুর্ঘটনায় চরম নিরাপত্তা গাফিলতির চিত্র উঠে এসেছে। যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংক ছিদ্র করার সময় শ্রমিকদের গ্যাস মাস্ক বা এসসিবিএ ব্যবহার না করা, ছুটির দিনে সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল না থাকা এবং প্রকৃত শ্রমিকদের হাজিরা তালিকায় অসামঞ্জস্য—এসবই প্রতিষ্ঠানের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রমাণ হিসেবে সামনে আসে। এর সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিবেশ ছাড়পত্র ও সিসিটিভির অনুপস্থিতিও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তদন্তে ‘দ্য শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস ২০১১’-এর একাধিক বিধি লঙ্ঘন এবং ইয়ার্ডের সেফটি টিমের পেশাগত অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে শুধু দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হলে একই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটার ঝুঁকি থেকেই যাবে। বুয়েট অধ্যাপক ও তদন্ত কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে অক্সিজেনের ঘাটতিপূর্ণ পরিবেশে পানিতে থাকা সালফেটের সঙ্গে অণুজীবীয় বিক্রিয়ার ফলে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি হয়েছিল। পাত্র বা ট্যাংক থেকে পানি নিষ্কাশন কিংবা কাটার সময় ওই গ্যাস হঠাৎ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর ঘনমাত্রা ১০০ পিপিএমের বেশি হলে তা জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ডি-ব্লাস্টিং বা পানি নিষ্কাশনের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সঠিকভাবে নিরূপণ এবং বাতাস ও পানিতে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর কাজ শুরুর সুপারিশ করেন তিনি। ইএআর/এমকেআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>