ব্রেকিং নিউজ
ঢাবির জগন্নাথ হলে ক্যান্টিন পরিচালনায় প্রথমবার নারী উদ্যোক্তা বেতন বাড়বে ১০০-১৪২%, দেওয়া হবে চার ধাপে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে আছে: সারাহ আলড্রিচ টানেলে আটকে ৬০০ জন, উদ্ধারের জন্য পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটালো নেপাল সোনা ছিনতাইয়ের মামলায় কারাগারে দুই ছাত্রদল নেতা বাছাইপর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হেরে শুরু বাংলাদেশের বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ারের ৫ম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন গুমের অপরাধীদের বিচার ও সঠিক আইন প্রণয়নের দাবি ভুল মন্তব্যে নায়িকা পপির ক্ষোভ, সিনেমা তার কাছে পবিত্র জায়গা সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য প্রয়োজন কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা
জাতীয়

জ্বালানি সংকট আর আলোচনার বিষয় নয়, এটি বাস্তব: বিএপিএলসি সভাপতি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সঙ্গে নতুন করে জ্বালানি সংকট বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট এখন আর সভা-সেমিনারের আলোচনার বিষয় নয়, এটি বাস্তব ও বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীতে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন রিয়াদ মাহমুদ। এসময় তিনি বাজারে অতিরিক্ত দিনভিত্তিক (ডে ট্রেডিং) প্রবণতা তৈরি হওয়া, তালিকাভুক্ত কোম্পানির কার্যকরী মূলধনের সংকট, দুর্বল কোম্পানি পুনর্গঠন ও অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিং-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার, ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও মেসবাহ উদ্দিন প্রমুখ। বক্তব্য দেওয়ার সময় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ব্যাপক সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে বিএপিএলসি সভাপতি বলেন, বাজার ভালো না থাকায় কমিশনের সদস্যদের গালিগালাজ করে সমালোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু বাজারের ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোরও নিজেদের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সঙ্গে এখন নতুন করে জ্বালানি সংকট যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে বিভিন্ন সভা, সেমিনারে ব্যাংক ঋণের সুদহার ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন জ্বালানি সংকটকে অনেকটা আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখা হলেও এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি আর ‘টেবিল টক’ নয়, বরং সামনে বড় সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডে ট্রেডারের বাজার হয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক লেনদেনের ধরন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিয়াদ মাহমুদ। নিজের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন লেনদেন না করলেও বাজারের অবস্থা জানতে নিজের কোম্পানি সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন, সকালে বাজার কিছুটা বাড়লেও বিকেলে আবার নেমে যায়। এ ধরনের প্রবণতাকে বাজারে ডে ট্রেডিংয়ের আধিক্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকালে বিনিয়োগকারীরা টাকা বিনিয়োগ করছেন, দাম কিছুটা বাড়লে আবার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এভাবে বাজার ধীরে ধীরে ডে ট্রেডারদের বাজারে পরিণত হচ্ছে। এটি কাম্য নয়। তবে বিনিয়োগকারীরা যদি ডে ট্রেডিং করতে চান, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশনকে শুধু বিনিয়োগকারীদের দৈনন্দিন লাভ-ক্ষতির জন্য দায়ী করা যায় না। বরং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি শক্তিশালী হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলোর মৌলিক ভিত্তি যদি ভালো দিকে যায়, তাহলে বাজারও ভালো হওয়ার কথা। তখন কমিশন বিভিন্ন নীতি ও সংস্কার নিয়ে কাজ করতে পারে। কিন্তু অযথা কমিশনের সদস্যদের গালিগালাজ করে পরিস্থিতির সমাধান হবে না। আরও পড়ুন পতনে নাকাল শেয়ারবাজার লিজিং কোম্পানির সমস্যা তৈরি করেনি কমিশন সম্প্রতি তিনটি লিজিং কোম্পানি অবসায়নের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে বিএপিএলসি সভাপতি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সমস্যাটি কমিশনের ওপর এসে পড়লেও এটি কমিশন তৈরি করেনি। তবে কমিশনকে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, এটি পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সমস্যার ওপর আরও একটি সমস্যা হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে ইতিবাচক বার্তা দিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দ্রুত ঘোষণা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন রিয়াদ মাহমুদ। বিশেষ করে ৩০ শতাংশ নন-সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জেনেছেন, এ বিষয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু বাজারে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে হলে শুধু আলোচনা যথেষ্ট নয়, সিদ্ধান্তটি বাস্তবে দেখতে হবে। বিএপিএলসি সভাপতি বলেন, এ ধরনের দুই-তিনটি সিদ্ধান্ত দ্রুত এলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোও নতুন করে উদ্যোগ নেবে। কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবসা ও বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘোষণা দিতে পারবে। এতে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে। ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ইস্যু ম্যানেজার এ বিষয়ে কাজ করে বসে আছে। তবে নতুন আইন বা বিধান কার্যকর হলে কোন পদ্ধতি ভালো সেটি নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিশ্চিত করার আহ্বান দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৬০ থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকার যে অর্থের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা কার্যকরী মূলধনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান বিএপিএলসি সভাপতি। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের সময়ে শুধু কোম্পানিগুলোকে নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করলে হবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকগুলো থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন পাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। ‘ঝড়ের মধ্যে খুঁটি শুধু আমরা একা গাড়লে হবে না, ব্যাংকেও আপনাদের খুঁটি গাড়তে হবে’ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব হবে তাদের ক্লায়েন্ট অর্থাৎ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যাতে প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। কারখানা বন্ধ থাকা কোনো কোম্পানিকে কার্যকরী মূলধন দেওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, কোনো কারখানা চালু আছে কি না, তা যাচাই করতে কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শনে পাঠানো যেতে পারে। প্রয়োজনে কয়েক দিন ধরে পরিদর্শন করা হোক। এতে কারখানা প্রকৃতপক্ষে চালু আছে কি না, তা বোঝা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন কখন লোডশেডিং হবে, জানানোর দাবি শিল্প উদ্যোক্তাদের দুর্বল কোম্পানি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা বন্ধের আহ্বান দুর্বল তালিকাভুক্ত কোম্পানি অধিগ্রহণে আগ্রহী কিছু কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী অর্থ নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন রিয়াদ মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএপিএলসির সদস্যদের মধ্যে এমন কোম্পানিও রয়েছে, যারা অসুস্থ তালিকাভুক্ত কোম্পানি অধিগ্রহণ করতে চায়। তারা টাকা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু দেড় থেকে দুই বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হচ্ছে। নিয়মকানুনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন, আইন ছাড়া কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। তবে কিছু বিষয়ে আরও গতিশীল হতে হবে এবং জটিলতা দ্রুত দূর করতে হবে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা বা সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি, দেশের অবস্থা এবং অর্থনীতির অবস্থা এমন নয় যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করার বিলাসিতা করা যাবে। এখন এমন পদক্ষেপ নিতে হবে, যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য এবং কার্যকর। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিএপিএলসি সভাপতি। এমএএস/একিউএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>