বিজ্ঞাপন
বাড়িতে হঠাৎ ব্যবহৃত একটি অচেনা টুথব্রাশ। এরপর পার্কিংয়ের সিসিটিভিতে দেখা গেল এক অপরিচিত পুরুষ। স্ত্রীর আচরণ নিয়ে সন্দেহটা তখন আর মনের ভেতর আটকে রাখার মতো ছিল না। সত্যিটা জানতে একদিন এমন এক কৌশল নিলেন স্বামী, যার কথা হয়তো তিনি নিজেও কখনো ভাবেননি।
স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ খুঁজতে তিনি বাড়ির রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারকে কাজে লাগান। সেই যন্ত্রের ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্যই তার হাতে তুলে দেয় পরকীয়ার প্রমাণ। স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষতিপূরণও পান তিনি। অথচ শেষ পর্যন্ত সেই একই ভিডিওর কারণে স্বামীকেই যেতে হয়েছে কারাগারে। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে তাইওয়ানে।
আরও পড়ুন
প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্ত্রী, হাতেনাতে ধরে বিপাকে স্বামী
সন্দেহের শুরু ব্যবহৃত টুথব্রাশে
ওই দম্পতির বিয়ে হয় ২০২১ সালে। বিয়ের পর তারা স্বামীর মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন। ছুটির দিনগুলোতে যেতেন নিজেদের অবকাশযাপনের বাড়িতে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেই বাড়িতে গিয়ে একটি ব্যবহৃত টুথব্রাশ দেখতে পান স্বামী। টুথব্রাশটি কার, তা নিয়ে তার মনে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে আরও খোঁজ নিতে শুরু করেন তিনি।
একপর্যায়ে পার্কিং গ্যারেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। সেখানে এক অপরিচিত পুরুষকে দেখতে পান তিনি। ওই ব্যক্তিই এর আগে তার স্ত্রীকে গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
সন্দেহ তখন আরও ঘনীভূত হয়।
আরও পড়ুন
২১ বছর সংসারের পর স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী
রোবট ভ্যাকুয়ামে মিলল প্রমাণ
প্রায় তিন মাস পর স্ত্রীর বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে অভিনব এক কৌশল নেন ওই ব্যক্তি। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে বাড়ির রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি চালু করেন তিনি।
যন্ত্রটির অডিও সুবিধা ব্যবহার করে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলাই ছিল তার উদ্দেশ্য। কিন্তু রোবট ভ্যাকুয়ামের লাইভ ফিডে হঠাৎ এমন দৃশ্য ভেসে ওঠে, যা তার সন্দেহকে বাস্তবে পরিণত করে।
ফুটেজে স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। স্ত্রীকে পোশাক পরিবর্তন করতে, ওই ব্যক্তিকে আলিঙ্গন করতে এবং ঘরের ভেতর নগ্ন অবস্থায় চলাফেরা করতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন
‘মরলে একসঙ্গে মরব’ / প্রেমিক যমুনায় ঝাঁপ দিতেই কেটে পড়লেন প্রেমিকা!
স্বামী তখন সেই দৃশ্য রেকর্ড করতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল, পরকীয়ার অভিযোগের পক্ষে আইনি প্রমাণ সংগ্রহ করা।
আদালতে ক্ষতিপূরণ পেলেন স্বামী
ভিডিও হাতে পাওয়ার পর স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। দাম্পত্য অধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগে তিনি ২০ লাখ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
মামলাটি পর্যালোচনা করে আদালত মনে করেন, ওই নারী ও পুরুষের সম্পর্ক সাধারণ বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
তবে স্বামীর দাবি করা পুরো অর্থ দিতে হয়নি তাদের। আদালত স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিককে মোট পাঁচ লাখ তাইওয়ানিজ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। দেওয়ানি মামলায় জয় পান স্বামী।
কিন্তু এরপরই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়।
আরও পড়ুন
তিন নারী বিয়ে করলেন এক পুরুষকে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
পাল্টা মামলা করলেন স্ত্রী
স্বামীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন স্ত্রী। তার অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছেন স্বামী।
স্বামী অবশ্য নিজের পক্ষে যুক্তি দেন। তার দাবি, ওই ভিডিও আদালতে দেওয়ানি মামলার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তাই ভিডিওধারণের বিষয়টি আইনগতভাবে ন্যায্য ছিল বলেই তিনি মনে করেন।
কিন্তু আদালত তার এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক থাকলেও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার নষ্ট হয়ে যায় না।
আদালতের বিবেচনায় ভিডিওটি ইচ্ছা করে ধারণ করা হয়েছিল।
রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার থেকে কোনো আলো জ্বলা বা শব্দ হওয়ার বিষয়টিও স্ত্রীর সম্মতির প্রমাণ নয়। অর্থাৎ তিনি জানতেন বা বুঝেছিলেন যে তাকে ভিডিও করা হচ্ছে—এমন প্রমাণ আদালত পাননি।
ফলে পরকীয়ার প্রমাণ হিসেবে ভিডিওটি দেওয়ানি মামলায় কাজে লাগলেও সেটি গোপনে ধারণ করার দায় থেকে স্বামী মুক্তি পাননি।
আরও পড়ুন
ক্ষমতার আড়ালে লীলাখেলা / রাজনৈতিক নেতাদের বিশ্ব কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি!
পাঁচ মাসের কারাদণ্ড
শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য বেআইনিভাবে ধারণের অপরাধে ওই স্বামীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার তাইওয়ানিজ ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।
তাইওয়ানের আইনে অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা অন্তরঙ্গ তথ্য গোপনে ধারণ কিংবা প্রকাশ করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ তিন লাখ তাইওয়ানিজ ডলার জরিমানার বিধানও রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে ওই স্বামীকে একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও অপরাধী হিসেবে দেখছেন।
একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, তিনি একদিকে সংসার হারিয়েছেন, অন্যদিকে নিজের স্বাধীনতাও হারিয়েছেন।
আরেকজনের মন্তব্য, পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হলেও তার জন্য আইন ভাঙার পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়। চ্যাটের ইতিহাস, হোটেলের রসিদ কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো আইনসম্মত প্রমাণ ব্যবহার করেও বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব।
ঘটনাটি তাই শুধু একটি দাম্পত্য কলহের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ন্যায়বিচারের সীমারেখা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
স্ত্রীর পরকীয়া সত্য হলেও, সেই সত্য প্রমাণ করতে গিয়ে অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা যায় কি না—তাইওয়ানের এই ঘটনা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকেএএ/
বিজ্ঞাপন