বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হওয়ার পর থেকে প্রথমবার ছবি শেয়ার করেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দুটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। সেখানে তাকে ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরে দুই হাত দিয়ে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা গেছে।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় মাদুরো তার নাতি-নাতনি, শিশু-কিশোর ও প্রিয়জনদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা এখনো শক্ত রয়েছি। তোমাদের ভালোবাসায় আমাদের হৃদয় পরিপূর্ণ। আমরা শক্ত, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকব। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ভেনেজুয়েলা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।’
আরও পড়ুন
মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার অর্ধেক তেলই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ছবিতে মাদুরোকে আগের তুলনায় বেশ শুকনো দেখা যায়। তবে, ছবিগুলো সত্যিই আটককেন্দ্রের ভেতর থেকে তোলা কি না এবং কর্তৃপক্ষ এগুলো প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আটককেন্দ্রে মাদুরোর সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, মাসে প্রায় ৩০০ মিনিট ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। প্রতিটি কলের সর্বোচ্চ সময় ১৫ মিনিট।
গত রোববার প্রকাশ করা ছবিগুলোর টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, সেগুলো গত ২৫ জুন তোলা হয়েছিল। মাদুরোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের জন্য ভালোবাসা ও আশার ছোট উপহার হিসেবে ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের পথে ভেনেজুয়েলা? চালু হলো কনস্যুলার সেবা
এদিকে, মাদুরোর উত্তরসূরি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় একটি তেল চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছে। মাদুরোর ছবি প্রকাশের সময়ের সঙ্গে এই চুক্তির ঘোষণারও মিল রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মাদুরোর সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।
আরও পড়ুন
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন / মাদুরোকে সরিয়ে ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলাকে ‘ভালো জায়গা’ বানাতে পেরেছেন?
মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও ‘নারকোটেররিজম’-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তারা মাদক পাচারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। দুজনই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে।
মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিচার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ জুন তাদের বিচার শুরু হওয়ার কথা।
সূত্র: আল-জাজিরাএমআরএইচ/কেএএ/
বিজ্ঞাপন