ব্রেকিং নিউজ
সিভিল সার্ভিসের সরল পাঠ বনাম গরল বাস্তবতা স্ট্যানচার্ট বাংলাদেশের সিইও এনামুল হক ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা: এ ইউনিটে ইংলিশ মিডিয়ামের জন্য আলাদা প্রশ্ন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে ফোন, তালা ভেঙে কম্বলে মোড়ানো বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ চায় জামায়াত পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য প্রকাশ্যে নারী উদ্দ্যোক্তাকে মারপিটের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩ সরিষাবাড়ীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নয়াপল্টনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে চাঁদপুরে
জাতীয়

মেসেজের যুগে যেসব কারণে আজ চিঠি লিখবেন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একসময় দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে আপন মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষা, খামের ভাঁজ খুলে প্রিয় মানুষের হাতের লেখা দেখা, আর প্রতিটি শব্দ পড়ে মনের মধ্যে নানা অনুভূতির জন্ম-চিঠির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এমন অসংখ্য স্মৃতি। এখন সেই জায়গা দখল করেছে মেসেজ, ই-মেইল, ভয়েস নোট আর ভিডিও কল। কয়েক সেকেন্ডেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে কথা। তবু অদ্ভুতভাবে আবারও জনপ্রিয় হচ্ছে হাতে লেখা চিঠি। প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব চিঠি দিবস। কাগজ-কলমে চিঠি লেখার পুরোনো অভ্যাসকে ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের মধ্যে চিঠি লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। ডিজিটাল যোগাযোগের দ্রুতগতির সময়ে চিঠির মতো ধীর একটি মাধ্যম কেন আবার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে আসছে, সেটিই ভাবার বিষয়। দ্রুত যোগাযোগের ভিড়ে হারিয়েছে অপেক্ষা ডিজিটাল যোগাযোগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো গতি। কাউকে কিছু বলতে চাইলে কয়েকটি শব্দ লিখে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। উত্তরও পাওয়া যায় মুহূর্তেই। কিন্তু চিঠির ক্ষেত্রে ছিল অপেক্ষা। কখন চিঠি পৌঁছাবে, প্রিয় মানুষ কী লিখেছে, কখন উত্তর আসবে-এই অপেক্ষার মধ্যেও তৈরি হতো এক ধরনের আবেগ। আজকের ব্যস্ত জীবনে সেই অপেক্ষার অভিজ্ঞতা প্রায় হারিয়ে গেছে। ফলে অনেকের কাছে চিঠি হয়ে উঠছে এমন এক যোগাযোগের মাধ্যম, যেখানে কথার পাশাপাশি অপেক্ষাটিও অনুভূতির অংশ। হাতে লেখা শব্দের আলাদা মূল্য মেসেজে একই কথা কয়েকজনকে পাঠানো সম্ভব। কিন্তু হাতে লেখা চিঠি লিখতে সময় লাগে। কাকে লিখছেন, কী বলছেন, কোন শব্দটি ব্যবহার করা হবে নিয়ে ভাবতে হয়। হাতের লেখার ধরন, কাগজ, খামের নকশা-সবকিছুতেই লেখকের ব্যক্তিগত ছাপ থাকে। এই কারণেই একটি হাতে লেখা চিঠি অনেকের কাছে শুধু কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, বরং প্রিয় মানুষের সময়, মনোযোগ ও অনুভূতির একটি স্মারক। মেসেজ মুছে যায়, স্মৃতি থেকে যায় ফোন বদলালে পুরোনো মেসেজ হারিয়ে যেতে পারে। ইনবক্সে হাজার হাজার কথোপকথনের মধ্যে বিশেষ একটি বার্তাও একসময় হারিয়ে যায়। কিন্তু একটি চিঠি হাতে ধরে রাখা যায়। বাক্সে, ডায়েরির পাতায় কিংবা আলমারির কোনো কোণে বছরের পর বছর সেটি সংরক্ষণ করা সম্ভব। অনেকেই পুরোনো প্রেমপত্র, বন্ধুর চিঠি কিংবা দূরে থাকা মা-বাবার লেখা চিঠি যত্ন করে রেখে দেন। বহু বছর পর সেই চিঠি খুললে শুধু লেখা কথাগুলো নয়, সেই সময়ের মানুষ, সম্পর্ক ও পরিস্থিতির কথাও মনে পড়ে যায়। মনের কথা প্রকাশের সুযোগ বেশি সরাসরি কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় মনের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার মেসেজে দ্রুত উত্তর দেওয়ার তাড়াও থাকে। চিঠি লেখার সময় সেই চাপ কিছুটা কম। নিজের অনুভূতি ভেবে-চিন্তে সাজিয়ে লেখা যায়। অভিমান, কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া কিংবা কাউকে নিজের মনের কথা জানানো-এসব ক্ষেত্রে চিঠি অনেকের কাছে তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও গভীর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। নতুন প্রজন্মের কাছেও ফিরছে চিঠি চিঠি এখন শুধু অতীতের স্মৃতি নয়। তরুণদের মধ্যেও হাতে লেখা চিঠি নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ দিন, জন্মদিন, বন্ধুত্ব দিবস কিংবা ভালোবাসার মানুষকে বিশেষ কিছু জানানোর ক্ষেত্রে অনেকে হাতে লেখা নোট বা চিঠি দিচ্ছেন। এর পেছনে বড় কারণ সম্ভবত আলাদা কিছু করার ইচ্ছা। যখন প্রতিদিন অসংখ্য ডিজিটাল বার্তা আসে, তখন হাতে লেখা কয়েকটি লাইনই হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি ব্যক্তিগত। চিঠি আসলে শুধু যোগাযোগ নয় চিঠির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এর ধীর গতি। দ্রুত উত্তর পাওয়ার বদলে এটি মানুষকে কিছুটা থামতে শেখায়। নিজের কথা ভাবতে, অন্যের কথা মন দিয়ে লিখতে এবং একটি অনুভূতিকে কাগজে ধরে রাখতে শেখায়। আরও পড়ুন প্রেম-বিয়ে ভাঙলে মিলবে বেতনসহ ৭ দিনের ছুটি প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই সহজ যোগাযোগের ভিড়ে ব্যক্তিগত অনুভূতির যে জায়গাটি কখনো কখনো ফিকে হয়ে যায়, চিঠি হয়তো সেখানে ফিরিয়ে আনে একটু বেশি সময়, মনোযোগ ও আবেগ। আরও পড়ুন প্রেম-বিয়ে ভাঙলে মিলবে বেতনসহ ৭ দিনের ছুটি তাই বিশ্ব চিঠি দিবসে কাউকে একটি চিঠি লিখে দেখা যেতেই পারে। খুব বড় কিছু নয়-কয়েকটি নিজের কথা, কিছু পুরোনো স্মৃতি কিংবা শুধু ‘ভালো থেকো’। হয়তো উত্তর আসতে সময় লাগবে, কিন্তু সেই অপেক্ষাটুকুও একদিন হয়ে উঠতে পারে একটি সুন্দর স্মৃতি। সূত্র: মিডিয়াম, ওয়ার্ক ওভার ইজি এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>