বিজ্ঞাপন
দেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
পর্যটন শিল্পে উৎকর্ষ, দায়িত্বশীলতা ও উদ্ভাবনের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া এবং টেকসই পর্যটন শিল্প গঠনে অন্যদের উৎসাহিত করাই এ পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার- ২০২৬’ দেওয়া হবে ১২টি ক্যাটাগরিতে। ক্যাটাগরিগুলো হলো বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ, বর্ষসেরা হোটেল/রিসোর্ট, বর্ষসেরা ট্যুর অপারেটর, বর্ষসেরা বিনোদন পার্ক, বর্ষসেরা তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা ও বর্ষসেরা হোমস্টে।
অন্য ক্যাটাগরিগুলো হলো- বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বর্ষসেরা পর্যটন প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগ, বর্ষসেরা পর্যটন নারী উদ্যোক্তা, বর্ষসেরা ট্যুরিস্ট ভেসেল, বর্ষসেরা ট্যুর গাইড এবং বর্ষসেরা মাইস উদ্যোগ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পর্যটন শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কমিউনিটি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্ধারিত ফর্মের মাধ্যমে মনোনয়ন দিতে পারবেন। একজন অংশীজন কেবল একটি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দিতে পারবেন। নির্ধারিত ফর্মের পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও মনোনয়ন সম্পন্ন করা যাবে।
আরও পড়ুন
দেশের ১৪৯৮ স্পট নিয়ে পর্যটন মহাপরিকল্পনা, প্রণয়ন হচ্ছে নতুন নীতিমালা
মনোনয়ন ফরমসহ পুরস্কারসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় পাওয়া যাবে।
মনোনয়ন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডে পাঠাতে হবে। এর সঙ্গে আবেদনকারীর এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের কপি, টিন সার্টিফিকেট ও আয়কর পরিশোধের সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বশেষ দুই বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
পাশাপাশি ক্যাটাগরিভিত্তিক আইনগত সনদপত্র, যেমন নিবন্ধন সনদ, লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইএসও সনদ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দিতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগের ছবি বা ভিডিও থাকলে সেটিও জমা দেওয়া যাবে।
কোনো গুরুতর আইনভঙ্গ, প্রতারণা, পর্যটক হয়রানি, নিরাপত্তা লঙ্ঘন, ঋণখেলাপি, কর খেলাপি বা পরিবেশগত অপরাধের বিষয়ে প্রমাণিত অভিযোগ থাকলে মনোনয়ন বিবেচনা করা হবে না। তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা ও ট্যুরিজমবিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির ব্যবসা বা উদ্যোগ অন্তত দুই বছর চালু থাকতে হবে। যে উদ্যোগের ভিত্তিতে পুরস্কারের মনোনয়ন করা হবে, সেটি মনোনয়ন দাখিলের সময় বাস্তবে কার্যকর থাকতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ক্যাটাগরিভিত্তিক জুরি বোর্ড গঠন করা হবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুরি বোর্ডের নির্ধারিত মূল্যায়ন শর্ত ও নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি ক্যাটাগরির সেরা মনোনয়ন নির্বাচন করা হবে। প্রয়োজনের নিরিখে জুরি বোর্ড মনোনয়নকৃত উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করতে পারবে। নির্বাচিত সেরা উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর সাক্ষাৎকার ও তথ্যচিত্রও প্রস্তুত করা হবে।
প্রতিটি ক্যাটাগরিতে একটি করে পুরস্কার দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না। তবে টেকসই পর্যটন উদ্যোগ ও পর্যটন প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল থাকবে।
‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে। পুরস্কার অনুষ্ঠান হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে।
আরএমএম/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন