বিজ্ঞাপন
বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি এবারই পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়- এটা মেনে নিয়েছেন ক্রিকেটাররাও। তবে সাময়িক আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে দেশের ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার যাতে উপকৃত হন, সেই পরিকল্পনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। এ নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকও করেছে তারা।
মঙ্গলবার বৈঠক শেষে কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপিএল না হওয়ার কারণে যে আর্থিক ক্ষতি তৈরি হয়েছে, তা অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে পূরণ করার বাস্তবতা নেই। বরং নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট- এনসিএল, বিসিএলসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে আরও স্বচ্ছল করার পথ খোঁজা হচ্ছে।
বিসিবির পরিকল্পনা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সাইফ হাসান বলেন, ‘বোর্ডের সঙ্গে একটি মিটিং হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে আমাদের কতটা উপকার হতে পারে, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিপিএল যেহেতু হচ্ছে না, অবশ্যই আমাদের একটি ক্ষতি হচ্ছে। তবে বিসিবি আমাদের জন্য খুব ভালো একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রেখেছে। শুধু বিপিএলের খেলোয়াড় নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের যত খেলোয়াড় আছেন, সবার জন্যই সেটি উপকারী হবে। বোর্ড বিস্তারিত পরে জানাবে।’
বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, এখনই সেই ক্ষতি পূরণ করার বাস্তবতা নেই। তাদের দাবি ছিল, বিপিএল না হলে ক্রিকেটারদের জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে সেটা জানানো। সে জায়গায় বিসিবি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে।
বিপিএলের বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো টুর্নামেন্ট হবে কি না, সেটিও পরিষ্কার করেছেন মিঠুন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, বিপিএল না হওয়ার বিকল্প কিছু করে খেলোয়াড়দের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা এখন নেই এবং সেটি হবেও না। বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কিছু হচ্ছে না। আমাদের যে খেলাগুলো রুটিন অনুযায়ী হওয়ার কথা, যেমন এনসিএল বা বিসিএল, সেগুলোর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে কতটুকু উপকৃত হতে পারে সেই দিকটি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।’
তবে এই সিদ্ধান্ত শুধু কোয়াবের কয়েকজনের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। জাতীয় দলের অধিনায়ক ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন। যারা দেশের বাইরে আছেন, তাদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু কোয়াব নয়, আমরা জাতীয় দলের অধিনায়কদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। যারা এখন দেশে নেই তাদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। সব বিস্তারিত আলোচনা করেই আমরা বোর্ডে প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’
আলোচনায় ক্রিকেটারদের সামনে দুটি বিকল্পও ছিল। একটি ছিল বিপিএল না হওয়ার কারণে সাময়িক আর্থিক সহায়তা নেওয়া। অন্যটি ছিল এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা করা, যার সুফল পাবেন আরও বেশি ক্রিকেটার।
মিঠুন বলেন, ‘বোর্ড থেকে যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তাতে আমাদের কাছে দুটি বিকল্প ছিল। একটি হলো বিপিএলের পরিবর্তে সাময়িকভাবে আর্থিক সহায়তা নেওয়া, আর অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করা। যার মাধ্যমে ১৫০-২০০ ক্রিকেটার উপকৃত হবে। আমরা আমাদের সাদা বল ও লাল বলের অধিনায়ক এবং সব সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’
শেষ পর্যন্ত সাময়িক আর্থিক সুবিধার বদলে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। মিঠুন বলছিলেন, ‘আমরা শুধু ৫০-৭০ জন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তা না করে কিভাবে ১৫০-২০০ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারে এবং বিষয়টি যেন টেকসই হয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বছরের সাময়িক সুবিধার কথা চিন্তা না করে আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।’
গত কয়েক বছর ধরে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়মিত সূচি ও পারিশ্রমিক নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে ক্রিকেটারদের। বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএলে নিয়মিত পারিশ্রমিক ইস্যুতে ক্রিকেটারের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কোয়াব সভাপতি বলছিলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল খুব অনিয়মিত হয়ে গেছে। কোভিডের পর থেকে এই খেলাগুলো নিয়ে এবং পারিশ্রমিক নিয়ে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। আমাদের দাবি ছিল যেন আমাদের জীবিকা শুধু বিপিএল বা প্রিমিয়ার লিগের ওপর নির্ভরশীল না থাকে।’
ক্রিকেটারদের চাওয়া, বিসিবি এমন একটি কাঠামো তৈরি করুক, যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই তাঁদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত হয়। এরপর বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগ নিয়মিতভাবে আয়োজন হলে সেখান থেকে বাড়তি সুবিধা পাবেন তারা, ‘ক্রিকেট বোর্ড এমন কিছু আয়োজন করবে যার মাধ্যমে আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত হবে। এরপর অবশ্যই আমরা বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগ আগের মতো নিয়মিতভাবে খেলতে চাই যেন খেলোয়াড়রা আরও বেশি লাভবান হতে পারে।’
এসকেডি/আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন