বিজ্ঞাপন
রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। আর্কটিককে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এর পাশাপাশি ন্যাটোভূক্ত দেশগুলো সেখানে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে (ইইএফ)-দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো।
কৃষ্ণসাগর নিয়ে প্রস্তাব
ইউক্রেন শাসকগোষ্ঠী রেহাই পেতে কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি সাময়িক সমাধান চায়। তবে, এটি কার্যকর হবে না।
গ্রুশকো বলেন, সাময়িক সমাধানগুলো কাজ করবে না কারণ ইউক্রেনের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের বাহিনী পুনর্গঠনের জন্য এগুলোকে কাজে লাগাবে।
রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো
উত্তর আটলান্টিক জোটের দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে গ্রুশকো বলেন, তারা সত্যিই রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এমন অবস্থায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতিতে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে রাশিয়া। গ্রুশকো বলেন, আমাদের স্বার্থ নির্ভরযোগ্যভাবে রক্ষা করা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের যুদ্ধ সক্ষমতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপায় আমাদের রয়েছে।
আর্কটিক পরিস্থিতি
পশ্চিমারা উত্তরে (আর্কটিক অঞ্চল) রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি হাইব্রিড যুদ্ধ শুরু করেছে। পশ্চিমারা আর্কটিককে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সেখানে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে, তারা কখনোই সেখানে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে না।
আর্কটিক নিয়ে গ্রুশকো বলেন, আমি অবশ্যই উল্লেখ করতে চাই যে, বাস্তব ও অত্যন্ত গঠনমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পশ্চিমারা বাধা সৃষ্টি করতে চাইবে। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে একটি হাইব্রিড যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে। উত্তরের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত ও অর্জনের আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে। কিন্তু নানা কারণে তারা কখনোই তা অর্জন করতে পারবে না। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন অন্যান্য উপায়ও ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে পশ্চিমা দেশগুলো আর্কটিক অঞ্চলকে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। কিন্তু এখন তারা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আর্কটিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি অঞ্চল এবং উচ্চ অক্ষাংশে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকতে পশ্চিমাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে।
বাল্টিক সাগরের পরিস্থিতি
বাল্টিক সাগরে ন্যাটোর কর্মকাণ্ড একসময় শান্ত থাকলেও সম্প্রতি এ সাগর সামরিক সংঘাতের এলাকায় পরিণত হয়েছে।
রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাল্টিক অঞ্চল ও বাল্টিক সাগরের পরিস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলো, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড কয়েক বছরের মধ্যে এই শান্ত অঞ্চলকে সামরিক সংঘাতের প্রকৃত এলাকায় পরিণত করেছে। সেখানে আকস্মিক সামরিক ঘটনার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি এবং উত্তেজনা বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। বিশেষ করে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: তাস
কেএম
বিজ্ঞাপন