বিজ্ঞাপন
ডেটে যাওয়ার আগে সাধারণত নিজের সাজগোজ নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি থাকে। পছন্দের পোশাক, সুন্দর চুলের স্টাইল, হালকা পারফিউম কিংবা ডিওডোরেন্ট-সবকিছুতেই থাকে বাড়তি যত্ন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি জনপ্রিয় হচ্ছে এর একেবারে বিপরীত একটি ট্রেন্ড। নাম ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’।
এই ট্রেন্ডে মানে ডেটে যাওয়ার আগে গোসল না করে এবং ডিওডোরেন্ট ব্যবহার না করে শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ ধরে রাখলে নাকি অন্য ব্যক্তির কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা যায়।
কী এই ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’?
ফেরোমোন-ম্যাক্সিংয়ের মূল ধারণা হলো, মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া স্বাভাবিক রাসায়নিক সংকেত বা গন্ধ অন্য ব্যক্তির মধ্যে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তাই অতিরিক্ত সাবান, গোসল, ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম দিয়ে সেই প্রাকৃতিক গন্ধ পুরোপুরি ঢেকে না রেখে শরীরের নিজস্ব গন্ধকে থাকতে দেওয়াই নাকি আকর্ষণ বাড়ানোর উপায়।
এই ধারণা থেকেই ট্রেন্ডটির কিছু অনুসারী ডেটে যাওয়ার আগে গোসল এড়িয়ে যাচ্ছেন, ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করছেন না। কেউ কেউ আবার না ধোয়া পোশাক পরার কথাও বলছেন। উদ্দেশ্য-শরীরের স্বাভাবিক গন্ধকে যতটা সম্ভব স্পষ্ট রাখা।
ফেরোমোন আসলে কী?
‘ফেরোমোন’ শব্দটি পুরোপুরি কাল্পনিক নয়। প্রাণীদের ক্ষেত্রে ফেরোমোনের মাধ্যমে রাসায়নিক সংকেত আদান-প্রদানের বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। মানুষের শরীরের গন্ধ অন্য মানুষের শারীরিক বা মানসিক প্রতিক্রিয়ায় কোনোভাবে প্রভাব ফেলতে পারে-এমন কিছু গবেষণার ইঙ্গিতও রয়েছে।
তবে মানুষের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘লাভ কেমিক্যাল’ এখনো চিহ্নিত করা যায়নি, যা শরীর থেকে বের হয়ে অন্য কাউকে সরাসরি প্রেমে পড়তে বা যৌনভাবে আকৃষ্ট করতে পারে। অর্থাৎ মানুষের স্বাভাবিক শরীরের গন্ধের সঙ্গে আকর্ষণের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা থাকলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
‘সোয়েটি টি-শার্ট’ পরীক্ষায় কী পাওয়া গিয়েছিল?
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ সম্ভাব্য আকর্ষণে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, তা বোঝার জন্য ‘সোয়েটি টি-শার্ট’ ধরনের পরীক্ষাও করা হয়েছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক শরীরের গন্ধ নিয়ে কিছু আকর্ষণীয় ফল পাওয়া গেলেও, সেখান থেকে এমন সিদ্ধান্তে আসা যায় না যে গোসল না করলেই কারও প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাবে।
শরীরের গন্ধ একজন মানুষকে অন্যের কাছে কিছুটা পরিচিত, পছন্দনীয় বা অপছন্দনীয় মনে হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সেটিকে সরাসরি ‘যৌন আকর্ষণ’ কিংবা ‘প্রেমে পড়ে যাওয়ার’ কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও এ বিষয়ে মিশ্র ফল পাওয়া গেছে।
প্রাকৃতিক গন্ধ আর অপরিষ্কার থাকা এক নয়
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের শরীরের নিজস্ব গন্ধ থাকা স্বাভাবিক। জিনগত বৈশিষ্ট্য, খাবার, পরিবেশ এবং শরীরের স্বাভাবিক রাসায়নিক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে।
কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় গোসল না করা বা অপরিষ্কার পোশাক পরাকে ‘প্রাকৃতিক গন্ধ ধরে রাখা’র সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। শরীরে ঘাম, তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘ সময় জমে থাকলে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন
জেনিফারকে যে পুরুষ সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে
ডেটে যাওয়ার আগে কী করবেন?
শুধু শরীরের স্বাভাবিক গন্ধের ওপর ভরসা করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ডেটে যাওয়ার আগে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত ডিওডোরেন্ট বা সুগন্ধি ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য পছন্দ।
আরও পড়ুন
প্রেম-বিয়ে ভাঙলে মিলবে বেতনসহ ৭ দিনের ছুটি
কারণ আকর্ষণ শুধু গন্ধের ওপর নির্ভর করে না। কথাবার্তার ধরন, আত্মবিশ্বাস, আচরণ, ব্যক্তিত্ব, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্য ব্যক্তির প্রতি সম্মান-সব মিলিয়েই তৈরি হয় সম্পর্কের রসায়ন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো ট্রেন্ড অনুসরণ করার আগে সেটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকাই ভালো।
সূত্র: ফাস্টপোষ্ট, ইন্ডিয়া টুডে
এসকেওয়াই
বিজ্ঞাপন