ব্রেকিং নিউজ
নির্ভরযোগ্য সংবাদের উৎস হিসেবে জাগো নিউজ আরও এগিয়ে যাবে মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে: সাঈদ আল নোমান এমপি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস ফকিরেরপুলও ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্ত ‘আমরা বাচ্চা ছেলে না’, সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে তাহেরের ক্ষোভ জলবায়ু অর্থায়ন কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী সভাপতি, সমন্বয়ক সাইমুম পারভেজ চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মানবাধিকার কমিশন বিলে পরিবর্তনের সুপারিশ, ‘সক্রিয় অংশগ্রহণ’ নিয়ে সংসদে বিতর্ক নোয়াখালী নাই কোথায়, চাঁদে গেলেও নোয়াখালী পাওয়া যায়: ডেপুটি স্পিকার আরও একটি জাহাজ কিনল এমজিআই, বহর বেড়ে ২৮টিতে
সারাদেশ

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেছিলেন—দুই লাখ কর্মী নেবে, নাকচ করল মালয়েশিয়া

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আগামী ছয় মাসে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যকে বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা না করার কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের চার দিন পর বুধবার দেশটির সরকার এ অবস্থান জানাল। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল। এর আগে গত রোববার নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। বৈঠকে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া এবং ছয় মাসের মধ্যে দুই লাখ কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হবে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মী নেওয়া হবে। এর বাইরে আরও ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বুধবার মালয়েশিয়ার মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল বলেন, ছয় মাসে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান তাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে সরকারের ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা’ হিসেবে দেখা উচিত হবে না। ফাহমি আরও জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ২৫ এজেন্সি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এরই মধ্যে দুই লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিওসিএমএসে বাংলাদেশি ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, এসব এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো হবে। এর আগে ২০১৬ সালে ১০টি এবং ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সিকে একইভাবে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব এজেন্সি ‘সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিতি পায়। এবারের ২৫ এজেন্সিকেও সিন্ডিকেট হিসেবে অভিহিত করছেন জনশক্তি ব্যবসায়ীরা। সমালোচনার পর বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে গত ২৮ আগস্ট আরও ৩১২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। এসব প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে রাখা হয়েছে। এফডব্লিওসিএমএসের তালিকা অনুযায়ী, প্রথম ২৫ এজেন্সির অধীনে ১০টি করে ‘অ্যাসোসিয়েট এজেন্ট’ থাকবে। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের অধীনে থাকবে আরও ৬২টি এজেন্সি। জনশক্তি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি নিজেদের নামে কর্মী পাঠাতে না পারলে এবং ২৫টি মূল এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে হলে সেটিও কার্যত সিন্ডিকেট পদ্ধতিই হবে। এতে কর্মী পাঠানোর খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে। আগের দুই দফায় সিন্ডিকেট নিয়ে বিতর্ক ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালের শেষ দিকে বাজারটি আবার খুললে ১০টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এসব এজেন্সির মাধ্যমে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৯ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে দুই দেশ প্রথমে কর্মীপ্রতি ৩৭ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় প্রায় তিন লাখ টাকা করে। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ওই পদ্ধতি বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি হয়। সেখানে কোন কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা মালয়েশিয়ার হাতে রাখা হয়। দেশটি ২৫টি এজেন্সি বাছাই করে। অভিযোগ রয়েছে, এসব এজেন্সির অধিকাংশের মালিক ছিলেন তৎকালীন এমপি-মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। পরে বোয়েসেলসহ আরও ৭৬টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত এই ব্যবস্থায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯০ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। কর্মীপ্রতি সরকারি ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। তবে জরিপ অনুযায়ী, গড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও দেশটিতে যেতে পারেননি। পুনরায় শ্রমবাজার খোলার আলোচনা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান। এর প্রায় দুই মাস পর রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের মাধ্যমে শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আগের দুই দফার মতো এবারও এজেন্সি বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় ‘সিন্ডিকেট’-এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন জনশক্তি ব্যবসায়ীরা। ফলে একদিকে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার নতুন বক্তব্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে এজেন্সি বাছাইয়ের পদ্ধতি নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>