জাতীয়

আতঙ্ক নয়, আগাম প্রস্তুতিই জঙ্গিবাদ মোকাবিলার শক্তি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ঢাকার কোনো ব্যস্ত এলাকায় হঠাৎ একটি সন্দেহজনক ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেল। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ল—‘বোমা আছে’, ‘জঙ্গি এসেছে’, ‘বড় হামলা হতে পারে’। কয়েক মিনিটের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল নানা ধরনের বার্তা। কেউ পুরোনো একটি ভিডিও নতুন ঘটনার বলে প্রচার করল, কেউ অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে হামলার আশঙ্কা জানাল, আবার কেউ আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিতে নানা কল্পকাহিনি যুক্ত করল। পরে হয়তো দেখা গেল, ব্যাগটিতে কোনো বিস্ফোরকই ছিল না। কিন্তু ততক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে গেছে। এই দৃশ্য কাল্পনিক হলেও বাস্তবতার সঙ্গে এর দূরত্ব খুব বেশি নয়। সন্ত্রাসী হামলার সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু অস্ত্র বা বিস্ফোরক নয়; আতঙ্কও তার একটি অস্ত্র। একটি হামলা যত মানুষের প্রাণ নেয়, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষের মনে ভয় তৈরি করতে পারে। আর ডিজিটাল যুগে সেই ভয় ছড়িয়ে পড়ে সেকেন্ডে। তাই জঙ্গিবাদ মোকাবিলার প্রশ্নটি কেবল ‘কীভাবে হামলা হলে প্রতিরোধ করব’—এখানে আটকে থাকলে চলবে না। আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত—কীভাবে হামলার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করব, কীভাবে গোয়েন্দা তথ্য কার্যকর করব, কীভাবে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াব এবং কীভাবে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের শিকার না করে নিরাপত্তার অংশীদার বানাব? বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একটি কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছিল। এরপর দেশে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় বিশেষায়িত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৭ সালে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) গঠন করা হয় এবং ২০১৯ সালের বিধিমালার মাধ্যমে এর আইনগত কাঠামো আরও সুসংহত করা হয়। ইউনিটটি গোয়েন্দানির্ভর অভিযান, সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধ এবং দেশব্যাপী সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি কখনো স্থির থাকে না। জঙ্গিবাদের কৌশল বদলায়, যোগাযোগের মাধ্যম বদলায়, নিয়োগের পদ্ধতি বদলায়, অর্থায়নের পথ বদলায়। ফলে পুরোনো সাফল্যের ওপর ভর করে নতুন ঝুঁকিকে মোকাবিলা করা যায় না। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন গোয়েন্দা সক্ষমতার আধুনিকীকরণ। জঙ্গিবাদকে পরাজিত করার চূড়ান্ত যুদ্ধ তাই শুধু অস্ত্রের নয়—এটি তথ্য, আস্থা, যুক্তি ও নাগরিক অংশীদারত্বের যুদ্ধ। রাষ্ট্র যদি এই চারটি শক্তিকে এক জায়গায় আনতে পারে, তাহলে আতঙ্ক শুধু নিয়ন্ত্রণ করা নয়; আতঙ্ক সৃষ্টির রাজনীতিকেই অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব। একসময় জঙ্গি তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া যেত কোনো গোপন বৈঠক, সন্দেহজনক যাতায়াত, অস্ত্র সংগ্রহ কিংবা পরিচিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ, অনলাইন প্রচারণা, ভুয়া পরিচয়, ভার্চুয়াল কমিউনিটি, ডিজিটাল অর্থ লেনদেন এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী অনলাইন নেটওয়ার্ক। ফলে গোয়েন্দা তৎপরতাও হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক এবং বিশ্লেষণক্ষম। তবে গোয়েন্দা সক্ষমতা মানে নির্বিচারে নাগরিকের ওপর নজরদারি নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে একটি ভারসাম্য অপরিহার্য। কোনো তরুণ ভিন্ন রাজনৈতিক মত পোষণ করে, কোনো ধর্মীয় বিষয়ে প্রশ্ন তোলে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মত প্রকাশ করে—এ কারণে তাকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন অন্যায়, তেমনি প্রকৃত সহিংসতার প্রস্তুতিকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ বলে এড়িয়ে যাওয়াও বিপজ্জনক। এখানে দরকার আচরণ ও ঝুঁকির ভিত্তিতে পেশাদার মূল্যায়ন, পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে সন্দেহ নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এখন গোয়েন্দানির্ভর ও আন্তঃসংস্থাভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের একটি নথিতে সন্ত্রাসবাদ ও সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি তাই শুধু ‘কোন সংস্থা আগে খবর পেল’—এখানে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত—খবর পাওয়ার পর কে কাকে জানাবে, কত দ্রুত জানাবে, কে সিদ্ধান্ত নেবে এবং মাঠপর্যায়ে কে নেতৃত্ব দেবে? কারণ তথ্যের অভাব যেমন বিপজ্জনক, তথ্যের বিচ্ছিন্নতাও তেমনি বিপজ্জনক। দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। প্রত্যেকের নিজস্ব দায়িত্ব ও দক্ষতা আছে। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ এমন একটি হুমকি, যা প্রশাসনিক সীমানা মানে না। একটি সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে পুলিশের কাছে থাকা তথ্য হয়তো অন্য কোনো সংস্থার কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিললেই পূর্ণ চিত্র তৈরি করতে পারে। সেই তথ্য যদি আলাদা আলাদা ঘরে বন্দী থাকে, তাহলে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। এজন্য প্রয়োজন একটি কার্যকর জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী তথ্য-সমন্বয় কাঠামো, যেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ, যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়েও সমন্বয় বাড়াতে হবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা দরকার। শুধু হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে বৈঠক করে লাভ নেই। প্রস্তুতি থাকতে হবে আগেই। এখানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব নীতিতেও জনগণের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সামাজিক শান্তি রক্ষার কথা বলা হয়েছে। বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কথাও পুলিশের সেবা কাঠামোতে রয়েছে। এটি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর করা দরকার। একটি এলাকায় নতুন কেউ দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে সন্দেহজনক তৎপরতায় যুক্ত থাকলে, কোনো ভাড়াবাড়িতে অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা গেলে, কোনো শিক্ষার্থী আচরণগতভাবে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলে—এসব বিষয়ে স্থানীয় মানুষ অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগেই কিছু লক্ষণ দেখতে পান। কিন্তু সেই তথ্য দেওয়ার মতো নিরাপদ, আস্থাশীল ও সহজ ব্যবস্থা না থাকলে নাগরিকেরা এগিয়ে আসেন না। তাই নাগরিককে ‘সন্দেহপ্রবণ’ বানানো নয়, সচেতন নাগরিক বানানো জরুরি। একই সঙ্গে জনসচেতনতার ভাষাও বদলাতে হবে। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা মানেই শুধু ভয়ংকর ছবি, বিস্ফোরণের ভিডিও কিংবা কঠোর শাস্তির কথা নয়। এসবের পাশাপাশি তরুণদের সামনে বিকল্প জীবনদর্শন তুলে ধরতে হবে। ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, যুক্তিবোধ, নাগরিক দায়িত্ব, অনলাইন তথ্য যাচাই এবং উগ্র প্রচারণা শনাক্ত করার দক্ষতা—এসবকে শিক্ষার অংশ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল সাক্ষরতার সঙ্গে ডিজিটাল নাগরিকত্ব শেখানো জরুরি। একটি ভিডিও দেখলেই সেটি সত্য নয়; কোনো পোস্টে হাজার হাজার শেয়ার থাকলেই সেটি নির্ভরযোগ্য নয়; আবেগপ্রবণ বক্তব্য মানেই সত্য নয়—এই সাধারণ বোধটি তরুণদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশও ইতিমধ্যে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিয়ে সেমিনার, কর্মশালা, কাউন্টার-ন্যারেটিভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার কথা জানিয়েছে। এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। কারণ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু অস্ত্রধারী বাহিনী নয়; জনগণের আস্থা। মানুষ যদি পুলিশকে ভয় পায়, তথ্য দিতে না চায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা না থাকে, তাহলে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিও প্রত্যাশিত ফল দেবে না। বিপরীতে মানুষ যদি মনে করে তার দেওয়া তথ্য গোপন থাকবে, অযথা হয়রানি হবে না এবং রাষ্ট্র তার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে নাগরিকরাই হয়ে উঠতে পারেন নিরাপত্তার প্রথম সারির অংশীদার। তবে আতঙ্ক মোকাবিলায় গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলেই ‘জঙ্গি হামলা’, ‘বোমা আতঙ্ক’, ‘বড় হামলার আশঙ্কা’—এ ধরনের শিরোনাম দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়। যাচাইহীন তথ্য, পুরোনো ভিডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব প্রচার করলে সংবাদমাধ্যম অনিচ্ছায় সন্ত্রাসীদের কাজ সহজ করে দিতে পারে। কারণ সন্ত্রাসীরা চায় তাদের কর্মকাণ্ডের চেয়ে তাদের ভয়টি বড় হয়ে উঠুক। রাষ্ট্রের উচিত সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া, কিন্তু গুজবকে তথ্য দিয়ে প্রতিস্থাপন করা নয়। নিয়মিত ব্রিফিং, দ্রুত যাচাইকরণ এবং সংকটকালে একক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ তৈরি করা জরুরি। একইভাবে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা তৎপরতা দেখলে সাধারণ মানুষকে কী করতে হবে, কী করা যাবে না—এ বিষয়ে স্পষ্ট জনসচেতনতা প্রয়োজন। সন্দেহজনক ব্যাগে হাত না দেওয়া, গুজব না ছড়ানো, ছবি তুলে ভিড় না করা, নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো—এসব আচরণ সংকটের সময় জীবন বাঁচাতে পারে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরোধের সামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। বেকারত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পরিচয়-সংকট, অনলাইন উগ্রবাদ, মাদক, অপরাধী নেটওয়ার্ক ও সহিংস মতাদর্শ—এসবকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। তরুণদের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার সুযোগ যত বাড়বে, উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের জন্য তত কম জায়গা থাকবে। এ কারণেই সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল শুধু ‘অপারেশন’ দিয়ে শেষ হতে পারে না। দরকার প্রতিরোধ, পুনর্বাসন ও পুনঃএকীভূতকরণের সক্ষমতা। বাংলাদেশ পুলিশের এটিইউ তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডি-র‌্যাডিক্যালাইজেশন, কাউন্টার-ন্যারেটিভ এবং সামাজিক পুনঃএকীভূতকরণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে। শেষ পর্যন্ত আতঙ্ক মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো আতঙ্ককে স্বাভাবিক হতে না দেওয়া। রাষ্ট্রকে দৃঢ় হতে হবে, কিন্তু অস্থির নয়। গোয়েন্দা তৎপরতা হতে হবে গভীর, কিন্তু নির্বিচার নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হতে হবে দ্রুত ও পেশাদার, কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। গণমাধ্যমকে হতে হবে সতর্ক, কিন্তু ভীতসন্ত্রস্ত নয়। আর নাগরিকদের হতে হবে সচেতন, কিন্তু গুজবপ্রবণ নয়। একটি সন্ত্রাসী হামলা হয়তো কয়েক মিনিটের ঘটনা। কিন্তু তার অভিঘাত একটি সমাজকে বহু বছর তাড়া করতে পারে। তাই নিরাপত্তার সবচেয়ে ভালো নীতি হলো হামলার পর প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়; হামলার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা, নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং সমাজকে প্রতিরোধক্ষম করে তোলা। কারণ নিরাপদ রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্র নয়, যেখানে প্রতিটি কোণে অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মী দাঁড়িয়ে থাকে। নিরাপদ রাষ্ট্র হলো সেই রাষ্ট্র, যেখানে গোয়েন্দা সংস্থা আগেই বিপদ বুঝতে পারে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে, নাগরিক রাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে, তরুণেরা উগ্রতার বদলে ভবিষ্যৎ বেছে নেয় এবং একটি গুজব কয়েক মিনিটে লাখো মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে না। জঙ্গিবাদকে পরাজিত করার চূড়ান্ত যুদ্ধ তাই শুধু অস্ত্রের নয়—এটি তথ্য, আস্থা, যুক্তি ও নাগরিক অংশীদারত্বের যুদ্ধ। রাষ্ট্র যদি এই চারটি শক্তিকে এক জায়গায় আনতে পারে, তাহলে আতঙ্ক শুধু নিয়ন্ত্রণ করা নয়; আতঙ্ক সৃষ্টির রাজনীতিকেই অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com এইচআর/এমএমএফ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>