বিজ্ঞাপন
‘জীবন একটি আজান দিয়ে শুরু হয়, যে আজানের পর কোনো নামাজ হয় না। আর জীবনে একটি নামাজ হয়, যে নামাজের জন্য কোনো আজান হয় না। আহারে জীবন।’
জীবনের শুরু ও শেষ পরিণতি নিয়ে এমনই এক দার্শনিক উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন দেশের বর্ষীয়ান চিত্রনায়ক সোহেল রানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার সংক্ষিপ্ত এই স্ট্যাটাসটি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে।
স্ট্যাটাসে সোহেল রানা জীবনের সঙ্গে আজান ও নামাজের প্রতীকী সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। জন্মের সময় আজান দেওয়া হলেও সেই আজানের পর কোনো নামাজ হয় না। অন্যদিকে মৃত্যুর সময় যে নামাজের মাধ্যমে জীবনের সমাপ্তি ঘটে, তার জন্য কোনো আজান দেওয়া হয় না-এমন বাস্তবতার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।
জীবনের অনিবার্য পরিণতি নিয়ে নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করে শেষে তিনি লিখেছেন, ‘আহারে জীবন।’
এর আগে বয়স্ক নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের বিষয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছিলেন এই অভিনেতা। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সোহেল রানা লেখেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ৬০ বছর বয়স হলে তাকে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।’
আরও পড়ুন
সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠ নিয়ে যা বললেন কনকচাঁপা
নিজ দেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও লেখেন, ‘আর আমার এদেশে আশি বছর বয়স হলে তাকে তার ৫০ বছরের পুরনো লাইসেন্স হলেও স্মল বোর আর্মসের লাইসেন্স আর রিনিউ করতে দেওয়া হয় না।’
বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্তের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘এর অর্থ কি? ৮০ বছর হয়ে গেলে তাকে কি সরকার মৃত্যুর খাতায় নাম লিখিয়ে দেবেন?’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এই অভিনেতা লেখেন, ‘প্রশ্নটা রেখে গেলাম, উত্তরটা আপনার কাছে। অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।’
আরও পড়ুন
সাবিনা ইয়াসমীনের যে গান শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি লতা মঙ্গেশকর
জীবন ও বার্ধক্য নিয়ে সোহেল রানার এসব বক্তব্যে একদিকে যেমন মানুষের জীবনের অনিবার্য সমাপ্তির কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমএমএফ
বিজ্ঞাপন