ব্রেকিং নিউজ
মাননীয় স্পিকার, আমার একটা মাত্র বউ: সংসদে আইনমন্ত্রী সালমান শাহর সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল, জানালেন শাবনূর ইয়েমেনে সরকারপন্থি ও হুথিদের সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১ শরিয়াহর সঙ্গে সাংঘর্ষিকতার অভিযোগ, সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে সব ব্যাংককে জরুরি নির্দেশনা সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যানইউর জয় কেড়ে নিলো এভারটন ‘আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি’, অপবাদের জবাবে মেঘনা আলম ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা; বললেন, আপনাদের ভালোবাসার ঋণ শোধ করার নয় দুই ঘণ্টার কম সময়ে ঢাকা মেডিকেলে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু ও অন্যান্য খবর
জাতীয়

পল সিলান থেকে আনসেম খিফার

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

সকালের কালো দুধ আমরা তোমাকে গিলে খাই সন্ধ্যায়
তোমাকে পান করি আমরা দুপুরে সকালে, গলায় ঢালি রাতে
পিয়ে যাই মোরা পিয়ে যাই
ঘরে থাকে যে লোকটা, সে সাপ নিয়ে খেলে সে লিখে রাখে
অন্ধকার নামলে সে লেখে জার্মান তোমার স্বর্ণকেশ মার্গারেটকে
সে লেখে আর বেরিয়ে আসে বাড়ির সামনে আর তারা জ্বলে
হুইসেল বাজিয়ে সে ডাকে তার কুকুর, হুইসেল বাজিয়ে সে ডাকে
তার তামাম ইয়াহুদ যেন উঠে আসে পৃথিবীর বুকে যেন
খোঁড়া হয় কবর আর তার নির্দেশে আমরা যেন
ভাঁজ খুলে শুরু করি নাচের প্রস্তুতি
ভোরের কালো দুধ আমরা তোমাকে গলায় ঢালি রাতে
আমরা তোমাকে পান করি সকালে দুপুরে, গিলে খাই সন্ধ্যায়
পিয়ে যাই মোরা পিয়ে যাই
ঘরে থাকে যে লোকটা, সে সাপ নিয়ে খেলে সে লিখে রাখে
অন্ধকার নামলে সে লেখে জার্মান তোমার স্বর্ণকেশ মার্গারেট
তোমার চুলে ছাইলাগা শুলামিৎ যেন মোরা বাতাসেই কবর খুঁড়ি
আর সেখানে শুয়ে থাকে কেউ পরম শান্তিতে
সে বলে আরও গভীরে শাবল চালাতে তোমাদের
আর তাদের, যারা গান গায় আর বাদ্য বাজায়
সে তার কোমরে বাঁধা বন্দুকে কার্তুজ সাজায়, নীল চোখ তার
সে নির্দেশ দেয় তোমরা শাবল চালাও আরও গভীরে
আর তোমরা বাকিরা ভাঁজ খুলে নাচ দেখাও
ভোরের কালো দুধ তোমাকে গিলে খাই মোরা রাতে
তোমাকে পান করি দুপুরে তোমাকে গলায় ঢালি সন্ধ্যায়
পিয়ে যাই মোরা পিয়ে যাই
ঘরে থাকে যে লোকটা, তোমার স্বর্ণকেশ মার্গারেট
তোমার চুলে ছাইলাগা শুলামিৎ সে সাপ নিয়ে খেলে
সে বলে পড়ে থাকো মড়ার মতো, মৃত্যু হোক আরেকটু মধুর
এ কণ্ঠ জার্মান প্রভুর
সে বলে আরও কর্কশ অন্ধকার বাজাও বেহালায়
তারপর যখন তুমি ধোঁয়ায় উড্ডীন হাওয়ায়
তখন তুমি মেঘের ভেতরেই পাবে কবর শান্তিতে শুয়ে পড়ার
ভোরের কালো দুধ আমরা তোমাকে গিলে খাই রাতে
তোমাকে পান করি দুপুরে, মৃত্যু জার্মানদেশীয় এক প্রভুর নাম
আমরা তোমাকে গলায় ঢালি সন্ধ্যায় আর সকালে
পিয়ে যাই মোরা পিয়ে যাই
মৃত্যু জার্মানদেশীয় এক প্রভুর নাম, নীলবর্ণ চোখ তার
সে তোমাকে সিসার বুলেটের নিশানা বানায়, নিখুঁত তার নিশানা
ঘরে থাকে যে লোকটা তোমার স্বর্ণকেশ মার্গারেট
সে তার কুকুর লেলিয়ে দেয়, সে আমাদের হাওয়ার ভেতর
কবর উপহার দেয়
সে সাপ নিয়ে খেলে আর স্বপ্নে দেখে
মৃত্যু এক জার্মানদেশীয় প্রভু
তোমার স্বর্ণকেশ মার্গারেট
তোমার চুলে ছাইলাগা শুলামিৎ

‘মৃত্যুরাগ’ [মূল: ‘টোডেসফুগে’] , পল সিলান

তরজমা: নাসিফ আমিন

হলোকাস্টের পরে শিল্পের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি সম্ভবত এই ছিল না যে সেই ভয়াবহতাকে কীভাবে দেখানো হবে। প্রশ্ন ছিল, তাকে আদৌ দেখানো সম্ভব কি না। যে অভিজ্ঞতা মানুষের কল্পনা, ভাষা এবং নৈতিক বোধের সীমাকেই ভেঙে দিয়েছিল, তাকে কবিতা কিংবা চিত্রকলার চিরচেনা সৌন্দর্যবোধের মধ্যে নিয়ে এলে সেই সৌন্দর্য নিজেই একধরনের অশ্লীলতায় পরিণত হয় কি না। আয়ুশবিৎসের পরে গীতিকবিতা লেখার সম্ভাবনা নিয়ে থিয়োডর আদোর্নোর বহুল আলোচিত সংশয়টি মূলত এই নৈতিক সংকট থেকেই এসেছিল। পরে তাঁর চিন্তায় এই অবস্থান আরও জটিল হয়; যখন যন্ত্রণাকে ভাষা দেওয়াও সত্যের একটি শর্ত হয়ে ওঠে। পল সিলানের ‘টোডেসফুগে’ বা ‘মৃত্যুরাগ’ কবিতাটি সম্ভবত এই দ্বিধার সবচেয়ে গভীর প্রোথিত উত্তরগুলোর একটি। তিনি হলোকাস্টকে সুন্দর করে তুলে ধরতে চাননি। বরং কবিতার ভাষাকেই এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছেন যেন ইতিহাসের দগদগে ক্ষতচিহ্নগুলো ভাষার শরীরেও ধরা পড়ে।

পল সিলানের প্রতিকৃতি

চের্নোভিৎসে এক জার্মানভাষী ইহুদি পরিবারে জন্ম নেওয়া পল সিলান নাৎসি নিপীড়নের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে বেঁচে ফিরেছিলেন। তাঁকে বাধ্যতামূলক শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়েছিল। নির্বাসিত করা হয়েছিল তাঁর বাবা-মাকে, যাঁরা আর কখনো ফিরে আসেননি। যুদ্ধের পরে তিনি প্যারিস শহরে স্থায়ী হন। ফরাসি নাগরিক হন। অথচ কবিতা লিখতে থাকেন জার্মান ভাষায়। ফলে জার্মান তাঁর কাছে একই সঙ্গে মাতৃভাষা এবং হন্তারকের ভাষা। এই দ্বৈততা তাঁর কবিতার একটি মৌলিক সংকট। যে ভাষায় তাঁর মা কথা বলতেন, সেই ভাষাতেই আদেশ করা হয়েছিল নির্বাসনের, শ্রমের, হত্যার। সিলান সেই ভাষাকে পরিত্যাগ করেননি; বরং তার স্বাভাবিকতা নষ্ট করেছেন। শব্দকে ভেঙেছেন। ব্যাকরণকে সংকুচিত করেছেন। পুনরাবৃত্তিকে প্রায় মন্ত্র কিংবা খিঁচুনির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

‘মৃত্যুরাগ’ কবিতাটি সম্ভবত ১৯৪৫ সাল নাগাদ লেখা এবং প্রথম দিকে রোমানীয় অনুবাদে প্রকাশিত। কবিতার ‘ফুগ’ শুধু শিরোনামের সংগীত-ইঙ্গিত নয়। এর মধ্য দিয়ে যেমন একটি সুর ফিরে আসে; অন্য একটি সুর তাকে অনুসরণ করে পেছন পেছন। আগের বাক্য পরের বাক্যে নতুন অবস্থানে পুনরাবির্ভূত হয়। উক্ত কবিতায় তেমনি ‘কালো দুধ’, পান করা, কবর খোঁড়া, নাচ, বেহালা, স্বর্ণকেশ মার্গারেট, ছাইরঙা চুলের শুলামিৎ এবং ‘জার্মানদেশীয়’ মৃত্যুর প্রভু বারবার ফিরে ফিরে আসে। প্রতিবার ফিরে এসে একই কথা আর ঠিক একই থাকে না। তার ভেতরের আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়। ইতিহাসেও যেন তাই ঘটছে। পুনরাবৃত্তি আছে, কিন্তু কোনো নিষ্পাপ প্রত্যাবর্তন নেই।

এই সংগীতের ভেতরেই কবিতাটির নির্মম ব্যঙ্গার্থক অভিব্যক্তিটি প্রকাশিত। নাৎসি শিবিরে বন্দীদের দিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ঘটনা কোনো কাব্যিক উদ্ভাবন ছিল না। বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দী সংগীতশিল্পীদের দিয়ে কাজের সময়, বাছাইয়ের সময়, এমনকি হত্যার আয়োজনের মধ্যেও সংগীত বাজানো হতো। জানোভ্স্কা ক্যাম্পে ইহুদি বন্দীদের অর্কেস্ট্রাকে ‘টোডেসটাঙ্গো’ বা ‘মৃত্যুর টাঙ্গো’ বাজাতেও বাধ্য করা হয়েছিল। এখানে সভ্যতার তথাকথিত উচ্চতম অর্জন, সংগীত, শৃঙ্খলা, ছন্দ, সৌন্দর্য, হত্যার যন্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে যায়। ‘টোডেসফুগে’-এর অন্যতম অসহনীয় উপলব্ধি এটাই: বর্বরতা সব সময় সংস্কৃতির বিপরীত মেরুতে থাকে না; কখনো সংস্কৃতির পরিশীলিত রূপগুলোকেও নিজের কাজে লাগাতে পারে।

আনসেম খিফার, ‘ইম হের্ৎস দেস বের্ক্স’, ২০২১

মার্গারেট ও শুলামিৎ সেই দ্বন্দ্বকে আরও গভীরে নিয়ে যায়। স্বর্ণকেশ মার্গারেট জার্মান সাহিত্যিক কল্পনার ভেতর থেকে আসে। একদিকে যেমন গ্যোটের ‘ফাউস্ট’-এর গ্রেচেন-মার্গারেটের স্মৃতি এর পেছনে সক্রিয়; তেমনি অন্যদিকে সক্রিয় আছে শুলামিৎ ইহুদি ধর্মগ্রন্থের ‘সঙ অব সঙস’-এর প্রেমিকা। একজনের চুল স্বর্ণের, অন্যজনের চুল ছাইয়ের। সৌন্দর্যের দুটি ঐতিহ্য পাশাপাশি দাঁড়ায় এখানে। কিন্তু ইতিহাস তাদের সমান অবস্থায় রাখেনি। একজনকে জাতীয় আদর্শের দিকে উত্তোলন করা হয়েছে; অন্যজনকে দাহ করে ছাইয়ে পরিণত করা হয়েছে। এই দুটি নারীমূর্তিই পরে জার্মান শিল্পী আনসেম খিফারের শিল্পে প্রবেশ করে। তাঁর ‘ইয়োর গোল্ডেন হেয়ার, মার্গারেটে’, ‘মার্গারেটে’ এবং ‘শুলামিৎ’ সরাসরি পল সিলানের ‘টোডেসফুগে’-এর সঙ্গে ভাবকথনের ভিত্তিতে নির্মিত। কোথাও বাস্তব খড় হয়ে ওঠে মার্গারেটের স্বর্ণকেশ, কোথাও পোড়া, অন্ধকার, সমাধিসদৃশ স্থাপত্য শুলামিৎকে ফিরিয়ে আনে ছাইয়ের স্মৃতি হিসেবে।

আনসেম খিফার জার্মানির যুদ্ধোত্তর প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তাঁর চিত্রকর্মে ইতিহাস, স্মৃতি, হলোকাস্ট, ধ্বংসাবশেষ ও সাংস্কৃতিক অপরাধবোধ বারবার ফিরে ফিরে আসে। খিফারের জন্য এই সম্পর্ক সাময়িক কোনো প্রভাব ছিল না। কৈশোরে ‘টোডেসফুগে’ পড়ার পর থেকে পল সিলান তাঁর শিল্পে প্রায় অবিরাম ফিরে ফিরে এসেছেন। ২০২১ সালে প্যারিসের গ্রঁ পালে এফেমেরে-তে তাঁর বৃহৎ প্রদর্শনীর নামই ছিল ‘পুর পল সিলান’। খিফারের ছবিতে ইতিহাস কোনো অতীত ঘটনা হয়ে থাকে না। খড়, ছাই, সিসা, মাটি, পোড়া রং, ক্ষয়প্রাপ্ত পৃষ্ঠ, ধ্বংসস্তূপ, সামরিক স্থাপত্য, পরিত্যক্ত প্রান্তর, সবই যেন ইতিহাসের অবশেষ। তিনি ইতিহাসকে আঁকেন না, ইতিহাসে আক্রান্ত ভৌত পদার্থ দিয়ে ছবি তৈরি করেন। এই জায়গাতেই সিলানের ভাষা ও খিফারের বস্তুজগত সবচেয়ে কাছাকাছি চলে আসে। একদিকে সিলান শব্দকে তাঁর স্বচ্ছতা হারাতে বাধ্য করেন; অন্যদিকে খিফার ছবির পৃষ্ঠকে তাঁর নিষ্কলুষতা হারাতে দেন। দুজনের কাছেই শিল্পকর্ম স্মৃতিসৌধ নয়, ক্ষতচিহ্ন।

আনসেম খিফার, ২০২৩। আলোকচিত্র: টিল ব্র্যোনার। ছবি: অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম, অক্সফোর্ডের সৌজন্যে

এখানে সংযুক্ত খিফারের ‘ইম হারৎস দেস বের্গস’ ছবিটি এই সম্পর্কের আরেক আশ্চর্য বোঝাপড়ার স্তর উন্মোচিত করে। ছবির ওপর হাতে লেখা বাক্যটি আসলে রুশ কবি ওসিপ মান্ডেলস্টামের, সিলানের জার্মান অনুবাদে, ‘ইম হারৎস দেস বের্গস, মিট নিখ্টস, গেট জি ইম হিন, ডি ৎসাইট’। বাংলায় বলা যায়, ‘পর্বতের হৃদয়ে, শূন্য হাতে তার কাছে আসে সময়।’ এই মান্ডেলস্টামই স্তালিনীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে গুলাগে মারা যান। কয়েক দশক পরে তাঁর কবিতা অনুবাদ করেন নাৎসি নিপীড়ন থেকে বেঁচে ফেরা সিলান। আরও পরে সেই অনূদিত পঙ্ক্তি নিজের ক্যানভাসে লিখে দেন খিফার। একটি বাক্য এভাবে রুশ থেকে জার্মানে, কবিতা থেকে অনুবাদে, অনুবাদ থেকে চিত্রকলায় চলে আসে। স্মৃতি এখানে কোনো এক জাতির সম্পত্তি হয়ে থাকে না। বরং এক সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রের শিকার আরেক সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রের শিকারের ভাষায় পুনর্জন্ম লাভ করে।

ছবিটির নিচের দুর্গসদৃশ নির্মাণও আকস্মিক কোনো ল নয়। এটি উত্তর ফ্রান্সের টট ব্যাটারিসহ নাৎসি আটলান্টিক ভাল-এর বাংকার ও কেজমেট-এর স্মৃতি বহন করে। তার ওপরে বিস্ফারিত আলো অথবা দগ্ধ আকাশ, চারদিকে ঘন অন্ধকার, মাঝখান দিয়ে মান্ডেলস্টাম-সিলানের বাক্য। সময় এই চিত্রকর্মে মুক্তিদাতা হয়ে আসে না। তার হাতে কিছু নেই। সে মৃতদের ফিরিয়ে দেয় না, ইতিহাসের ক্ষত সারিয়ে তোলে না। সে কেবল এসে উপস্থিত হয় ধ্বংসস্তূপের সামনে।

সেই অর্থে ‘টোডেসফুগে’ এবং খিফারের এই ছবির মধ্যে সম্পর্কটি বিষয়গত মিলের চেয়ে অনেক গভীর। দুটিই স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই, কিন্তু কোনো সান্ত্বনাদায়ী স্মৃতিচারণা নয়। সিলানের কবিতায় মানুষ ধোঁয়া হয়ে আকাশে উঠে গিয়ে ‘হাওয়ার ভেতর’ কবর পায়; খিফারের ছবিতে মাটি, বাংকার, ছাই, অন্ধকার এবং আলো একই ইতিহাসের স্তরে জমাট বাঁধে। একজন ভাষার ভেতরে অনুপস্থিত মানুষের জন্য স্থান তৈরি করেন, অন্যজন ভৌত পদার্থের ভেতরে। দুজনেই যেন প্রশ্ন করেন: মৃতদের আর ফিরিয়ে আনা যাবে না, কিন্তু তাদের অনুপস্থিতিকে কি এমনভাবে বর্তমানের মধ্যে রাখা যায়, যাতে ইতিহাস দ্বিতীয়বার তাদের মুছে ফেলতে না পারে?

‘মৃত্যুরাগ’ সেই অসম্ভব স্মরণেরই একটি কবিতা। এই কবিতায় মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়, বরং একটি পুনরাবর্তিত সুর। সভ্যতার সংগীতের ভেতরেই তার পদধ্বনি শোনা যায়। আর সম্ভবত এ কারণেই এত দশক পরও পল সিলানের কালো দুধ পান করে চলেছি আমরা, সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে; ইতিহাস থেকে বেরিয়ে আসতে নয়, বরং ইতিহাসের ভেতর আমাদের নিজেদের অবস্থানটি ভুলে না যেতে।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>