প্রচ্ছদ

আতিক মাহবুবের কবিতা: পুরুষ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
যারবন্দিত্বের প্রথম পাঠশালা পরিবারজন্মানোর পর যেন দায়িত্বের তিলক পরে কপালেবয়স পাকার আগেই কাঁধে তুলে দেয়া হয়—জমি, রুটি, ঘাম আর নীরব দহনের এক পৌরুষত্বের দায়। তারবার্ধক্য নেমে গেলেধীরে ধীরে নিঃশব্দেশরীরের ভেতরেই যেন কেউ পুরোনো হয়ে যায়। তারপরএকদিন তার পরিচিত লাঙল আর মাটিওতার কাছে অচেনা হয়ে যায়। কারণপুরুষ যখন ভাঙেতখন তার চারপাশ ঘড়ির কাঁটার মতোবড় তাড়াতাড়ি বদলে যায়। প্রেমসে ভালোবেসেছিল খুব সাধারণে অসাধারণভাবেঅযুত-নিযুত বীজ বপনেকতবার সে প্রেমকে চাষ করেছিলনিজের ক্লান্ত হাত দিয়েশুকিয়ে যাওয়া স্বপ্ন জলেভাঙাগড়ায় কতবার মনে মনে ভেবেছে—এইবার হয়তো প্রেমটা টিকে যাবে। একদিনঅসুখ এলোঅভাব হলোকথা নোনতা হয়ে এলোতখন তাকে যদি কেউ একটু ভেজা গামছায় কোমলভাবে পরশ বুলিয়ে দিততাহলে হয়তো আরাধ্য সেই সম্পর্কের কোমলতায় পাথরের মতো শ্রমিক মন নরমে গলে যেত।আশ্রয় ভেবে নেওয়া প্রেয়সীকেযখন চোখের সামনে দিয়েদূরে সরে যেতে দেখেতখন সে মোটেও অবাক হয় নাশুধু ভেতরে ভেতরে আরও শূন্য হয়ে যায়। শেষেআস্তে আস্তে ভালোবাসা হয়ে ওঠে প্রত্যাখ্যানের নীরব জমাটবদ্ধ শব্দ। আরপুরুষ নিজের শোককে তখন আর কোনো ভাষা দিতে শেখে না। তখনসে ব্যথা চেপে রাখেকান্না গিলে খায়ভেতরে মোচড় দিয়ে ভাঙনের সুর আড়াল করে। সেহাসেনিজেকে ব্যস্ত রাখেপথ হারায়পা পিছলে পড়েআবার ওঠেআর প্রতিবার একটু একটু করে নিজের কাছ থেকে সরে যায়। অতঃপরপুরুষের ভেতরে যে মানুষটির বসবাস ছিলএইসব বিরামহীন ক্লান্ততায় নতজানু হয়েদায় হিসেবে বেঁচে থাকে শুধু শরীরটাআর সেই শরীরকে প্রতিদিন প্রমাণ করতে হয়—পুরুষ হওয়া কখনো কখনো কোনো বেঁচে থাকা নয়আসলে শুধু টিকে থাকার অভিনয়। এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>