ব্রেকিং নিউজ
বিরামপুরে বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা পণ্ড Raina On Kohli: অকালে অবসর নিতে হয়েছিল কোহলির জন্য! বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন রায়না BWF World Championship 2026: ইতিহাস গড়ে এবার সাত্ত্বিক-চিরাগের লক্ষ্য এশিয়ান গেমস কাফরুলে শিশু অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার নারী কারাগারে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়বে বিসিএসের ভাইভা দিতে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন নিহত ১৪ অস্ত্রোপচারের পরও সুস্থ হননি, ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি জুলাই যোদ্ধা শাকিলের সাভারে এসআই আলতাব হত্যা: মুন্সিগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত চার আসামি গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গে খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান, ১৭ রেস্তোরাঁ বন্ধ
জাতীয়

জীবনের সঙ্গী, অক্সফোর্ডেও সহপাঠী

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আবির হাসান ও সিনায়াত মাহজাবীন

২০১৫ সালে সিনায়াত মাহজাবীন ও আবির হাসানের বিয়ে হয়েছিল। দুজনের পড়াশোনার বিষয় আলাদা, গবেষণার জগৎও আলাদা। তবু দুজনই জায়গা করে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বামী–স্ত্রী দুজনেরই কীভাবে এই বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ হয়ে গেল? চলুন, জানা যাক।

ছোঁয়াচে স্বপ্ন

ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেসে স্নাতক করেছেন সিনায়াত। আবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ছাত্র ছিলেন। উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুজনেরই বড় স্বপ্ন ছিল। নিজেদের সক্ষমতাকে দেশের গণ্ডির বাইরে যাচাই করা, নতুন পরিবেশে শেখা ও গবেষণার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা থেকেই বিদেশে পড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন তাঁরা।

অক্সফোর্ডে যাওয়ার প্রথম সুযোগ পান আবির। জননীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ। একই সময়ে বিশ্বব্যাংকে কাজের প্রস্তাবও পান তিনি। সেই পেশাগত সুযোগটি নিতে অক্সফোর্ডে ভর্তি এক বছর পিছিয়ে দেন। এ সময়েই সিনায়াতকে অক্সফোর্ডে আবেদন করতে উৎসাহিত করেন তিনি। সিনায়াত অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন করেছিলেন। ডেনিশ সরকারের বৃত্তিসহ সেখানে পড়ার সুযোগও পান। শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডকেই বেছে নেন। কারণ, দুজন চেয়েছিলেন একই সময়ে একই শহরে থেকে উচ্চশিক্ষার এই অধ্যায় শুরু করতে। সিনায়াত বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের অক্সফোর্ড জার্নির শুরুর গল্পটাকে শুধু দুজনেরই ভর্তির সুযোগ পেয়ে যাওয়ার গণ্ডিতে ফেললে ভুল হবে। এর মধ্যে একে অপরের স্বপ্নকে জায়গা দেওয়া, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে একে অপরকে সাহায্য করা—এসবও ছিল।’

অক্সফোর্ডের পর

অক্সফোর্ডে গিয়ে দুজনের দিন কাটত নিজেদের পড়াশোনা ও কাজ নিয়ে। আবিরের ব্যস্ততা জননীতি, অর্থনীতি ও উন্নয়ন ঘিরে। সিনায়াতের জগৎ ফার্মাকোলজি ও গবেষণা। তবে দিন শেষে দুজনই একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতেন। নতুন কোনো বিষয় শেখা, কঠিন কোনো চ্যালেঞ্জের সামনে পড়া, পড়াশোনার চাপ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—এসব নিয়েই কথা হতো। সিনায়াত বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমরা একে অপরকে নিজেদের পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করিনি; বরং দুজনের আলাদা পথকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েই পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করেছি।’

অক্সফোর্ডের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর সিনায়াতের গবেষণার পথ তাঁকে নিয়ে যায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশে ফিরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় গবেষণার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। পরে ইউসুফ জামিল বৃত্তি নিয়ে ফার্মাকোলজিতে পিএইচডি করেন। মানুষের শরীরের কোষে ক্যালসিয়াম কীভাবে সংকেত আদান–প্রদান করে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছেন সিনায়াত। সহজ করে বললে, শরীরের কোষগুলো নিজেদের মধ্যে নানা সংকেতের মাধ্যমে কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, আর সেই সংকেতব্যবস্থায় ক্যালসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এ প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে বিভিন্ন রোগের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। সিনায়াতের গবেষণার লক্ষ্য ছিল এই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এমন নতুন কিছু অণু খুঁজে বের করা, ভবিষ্যতে যা ওষুধ তৈরির গবেষণায় কাজে লাগতে পারে।

অন্যদিকে আবিরের গবেষণার বিষয়—বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ কীভাবে রপ্তানি খাত থেকে আরও বেশি আয় করতে পারে। অর্থাৎ শুধু তৈরি পোশাকের মতো কয়েকটি খাতে নির্ভর না করে কীভাবে নতুন শিল্প ও রপ্তানি খাত তৈরি করা যায় এবং সেই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কীভাবে দীর্ঘ মেয়াদে করা সম্ভব—মূলত সেটিই খুঁজে দেখছেন তিনি।

পরামর্শ

কোষ, ওষুধ ও জীববিজ্ঞানের নানা প্রক্রিয়া ঘিরে সিনায়াতের গবেষণার জগৎ। আবিরের ভাবনার বিষয় দেশ, অর্থনীতি, নীতি ও রাজনৈতিক পরিবর্তন। একজন পরীক্ষাগারে বসে একটি কোষের ভেতরের প্রক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করেন, অন্যজন খুঁজে দেখেন কেন কোনো দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার সফল হয়, কোনোটি আবার থেমে যায়। একজনের গবেষণার যুক্তি আরেকজনের কাছে সব সময় সহজবোধ্য না হলেও পারস্পরিক আলাপ তাঁদের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে।

দুজনের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও নিজেদের অর্জনকে আবির ও সিনায়াত শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখতে চান না। দুজনই নিজেদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের জন্য কাজে লাগাতে চান। তরুণদের উদ্দেশে তাঁদের বার্তা, ‘নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিন, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিশ্রম করুন। অক্সফোর্ড বা কেমব্রিজে পড়া অবশ্যই বড় অর্জন। কিন্তু আমাদের কাছে এই পথচলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নয়; বরং শিক্ষা হলো নিজের জায়গা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া, প্রত্যাখ্যান এলে আবার চেষ্টা করা, নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও নতুন কিছু শেখার চেষ্টা এবং নিজের পথকে অন্যের পথের সঙ্গে তুলনা না করা। সাফল্য মানে শুধু আপনি কোথায় পৌঁছালেন, তা নয়; সেই পথে চলতে গিয়ে আপনি কী শিখলেন এবং পরে সেই শিক্ষাকে অন্যদের জন্য কীভাবে কাজে লাগালেন, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

আবির বর্তমানে অক্সফোর্ড ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টে পিএইচডি গবেষণা করছেন। অন্যদিকে সিনায়াত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে ক্রনিক কিডনি ডিজিজের একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>