বিজ্ঞাপন
বলকান দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েল। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বসনিয়ার সার্ব-অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল রিপাবলিকা সার্পস্কা-তে ইসরায়েলি চেম্বার অব কমার্সের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে বলকান অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
গাজা গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলের প্রবাস-বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রিপাবলিকা সার্পস্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রকল্পের নেতা মিলোরাদ দোদিক এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিগত বছরগুলোতে ইসরায়েলের সঙ্গে এই অঞ্চলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দোদিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিকলি বলেন, এই চেম্বারকে ‘রিপাবলিকা সার্পস্কা ও বৃহত্তর অঞ্চলে সুযোগ খুঁজতে থাকা ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর জন্য স্থায়ী যোগাযোগকেন্দ্র’ হয়ে উঠতে হবে।
আরও পড়ুন
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা গৃহযুদ্ধ: সার্বদের মুসলিম নিধনের ৩০ বছর
দোদিককে উদ্দেশ করে চিকলি বলেন, ‘আপনি এবং রিপাবলিকা সার্পস্কার পুরো নেতৃত্বই ইসরায়েল ও ইহুদি জনগণের প্রকৃত বন্ধু। এখন আমাদের এই সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে বন্ধুত্বকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার সুযোগ হয়েছে।’
জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বাধীন এই সার্ব-অধ্যুষিত অঞ্চলটি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ঐক্যের জন্য বড় হুমকি। এই সার্ব-অধ্যুষিত অঞ্চলটি ক্রমেই বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থান জোরদার করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে তারা।
মিডল ইস্ট আই প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, চেম্বার অব কমার্সের কার্যালয় উদ্বোধন বলকান অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টায় আরেকটি পদক্ষেপ। গাজায় যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের এ উদ্যোগ বলকান অঞ্চলে দেশটির আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।
বলকান অঞ্চল
বলকান দেশ বলতে ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বলকান উপদ্বীপের দেশগুলোকে বোঝায়। সাধারণভাবে এর মধ্যে রয়েছে: আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, মন্টেনিগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া ও গ্রিস।
এ ছাড়া রোমানিয়া ও তুরস্কের কিছু অংশও ভৌগোলিকভাবে বলকান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
লন্ডন কিংস কলেজের অধ্যাপক ভুক ভুকসানোভিচ বলেন, এই উদ্যোগ থেকে ঠিক কতটা অর্থনৈতিক সুবিধা আসবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এটি গত ১৫ বছর ধরে চলে আসা এবং গত তিন বছরে আরও জোরদার হওয়া ইসরায়েল ও রিপাবলিকা সার্পস্কার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা প্রকাশ করছে।
এর আগে ইসরায়েলি জনতার কাছে নিজেকে ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরেছেন দোদিক। তিনি ফিলিস্তিনি পতাকাকে ‘সন্ত্রাসী পতাকা’ বলার পাশাপাশি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন। গত বছর ইসরায়েল হায়োম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোদিক বলেন, গাজার ‘শত্রুভাবাপন্ন জনগোষ্ঠীকে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে’।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেরুজালেম পোস্ট-কে তিনি রিপাবলিকা সার্পস্কাকে ‘বলকানের ইসরায়েল’ বলে অভিহিত করেন। এর মাধ্যমে সার্ব-অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা করেন দোদিক।
ভুকসানোভিচের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রিপাবলিকা সার্পস্কার অন্যতম প্রধান সমর্থকে পরিণত হয়েছে ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে ইসরায়েলের বিকল্প কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সবচেয়ে কাছের ইউরোপীয় উপদ্বীপ হিসেবে বলকান ইসরায়েলের তালিকায় রয়েছে। তুরস্ক এবং কিছুটা ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় বলকানে ইসরায়েলের কোনো ধরনের উপস্থিতি থাকা তাদের জন্য খারাপ নয়।’
ভুকসানোভিচ আরও বলেন, পূর্ব ইউরোপে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে আগ্রহী ইসরায়েল। কারণ তাদের ধারণা, এই অঞ্চলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় ধরনের কূটনৈতিক পরিবর্তন ঠেকানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে।
কেএম
বিজ্ঞাপন