জাতীয়

কফিন যখন কাঁকড়া, মাছ কিংবা উড়োজাহাজ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একটি কাঠের কারখানায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগর এরিক অ্যাডোটে কপাকপো। তার সামনে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির একটি কাঠের কাঁকড়া। এটি কোনো খেলনা বা প্রদর্শনীর জন্য নয়, একজন মৃত জেলের শেষযাত্রার জন্য তৈরি করা হচ্ছে কফিনটি। ৪৯ বছর বয়সী এরিক, যিনি ‘এরিকো’ নামে পরিচিত, বহু বছর ধরে ঘানার বিখ্যাত অভিনব কফিন তৈরি করছেন। এসব কফিন শুধু মৃতদেহ বহনের বাক্স নয়, বরং মৃত ব্যক্তির জীবন, পেশা ও ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরার এক বিশেষ মাধ্যম। সাধারণ আয়তাকার কফিনের বদলে এসব কফিন তৈরি করা হয় বিভিন্ন প্রাণী, বস্তু কিংবা যানবাহনের আকৃতিতে। মৃত ব্যক্তির পেশা, শখ বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিল রেখে কফিনের নকশা ঠিক করা হয়। কোনো জেলের জন্য তৈরি হতে পারে মাছ বা কাঁকড়ার আকৃতির কফিন। আবার ফুটবল খেলোয়াড়ের জন্য ফুটবলের আকৃতি, ব্যবসায়ীর জন্য তার ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বস্তু, পাইলটের জন্য উড়োজাহাজের আকৃতির কফিন তৈরি করা হয়। ‘প্রবাদ বাক্স’ নামে পরিচিত ঘানার বৃহত্তর আক্রা অঞ্চলের গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই বিশেষ ধরনের কফিনের প্রচলন সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বলা হয় ‘আবেবুউ আদেকাই’, যার অর্থ ‘প্রবাদ বাক্স’। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আক্রা অঞ্চলে এই ঐতিহ্যের শুরু হয়। এরপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কারিগরদের হাতে এটি একটি বিশেষ ধরনের শিল্পে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি কফিন হাতে তৈরি করা হয়। একটি কফিন সম্পূর্ণ করতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। কাঠ কাটা, আকৃতি দেওয়া, বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগানো এবং রং করার পর তা শেষযাত্রার জন্য প্রস্তুত হয়। শোকের পাশাপাশি জীবনের উদ্‌যাপন ঘানার অনেক মানুষের কাছে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুধু শোক প্রকাশের আয়োজন নয়। এটি একজন মানুষের জীবনের অর্জন, পরিচয় ও স্মৃতিকে উদ্‌যাপনেরও সুযোগ। অভিনব কফিনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জীবনের গল্পটিই যেন শেষবারের মতো তুলে ধরা হয়। তিনি কী করতেন, কী ভালোবাসতেন বা কীভাবে জীবন কাটিয়েছেন—কফিনের আকৃতির মধ্য দিয়ে তার একটি প্রতীকী প্রকাশ ঘটে। এই কফিনগুলোর মধ্যে কখনো দেখা যায় মাছ, কাঁকড়া, জুতা বা উড়োজাহাজের আকৃতি। প্রতিটি নকশাই তৈরি করা হয় নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়কে সামনে রেখে। বিশ্বজুড়ে আগ্রহ ঘানার এই অভিনব কফিন এরই মধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও প্রদর্শনীতে এসব কফিন সমকালীন আফ্রিকান কারুশিল্পের উদাহরণ হিসেবে স্থান পেয়েছে। তবে এরিকোর মতো কারিগরদের কাছে এটি শুধু শিল্পকর্ম নয়। প্রতিটি কফিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের আবেগ ও প্রিয়জনকে শেষবারের মতো স্মরণ করার গল্প। এরিকো বলেন, কাঁকড়া, মাছ, জুতা কিংবা উড়োজাহাজ—যে আকৃতির কফিনই তৈরি করা হোক না কেন, তার উদ্দেশ্য একটাই—মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও জীবনের গল্পকে শেষ বিদায়ের অংশ করে তোলা। এভাবেই ঘানার এই বিশেষ কফিন মৃত্যুর প্রতীক হওয়ার পাশাপাশি হয়ে উঠেছে একটি মানুষের বেঁচে থাকার গল্প ও স্মৃতির স্থায়ী প্রতিচ্ছবি। সূত্র: এএফপি, কুয়েত টাইমস এমএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>