ব্রেকিং নিউজ
কাফরুলে শিশু অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার নারী কারাগারে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়বে বিসিএসের ভাইভা দিতে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন নিহত ১৪ অস্ত্রোপচারের পরও সুস্থ হননি, ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি জুলাই যোদ্ধা শাকিলের সাভারে এসআই আলতাব হত্যা: মুন্সিগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত চার আসামি গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গে খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান, ১৭ রেস্তোরাঁ বন্ধ ‌‘এয়ারপোর্টে আইসো’ ছেলের শেষ ফোন, এখন মরদেহের অপেক্ষায় বাবা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ে এখন থাকেন ‘বিশেষ’ একজন, কী তাঁর কাজ খালা–ভাগনের গাওয়া ‘বৃষ্টিরে বৃষ্টি আয় না জোরে’ গানের গল্প
জাতীয়

জাতীয় দলে অভিষেকের পরও ‘এ’ দলের হয়ে কেন খেললেন তাওহীদ হৃদয়?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
তানজিদ তামিমের সাথে তাওহীদ হৃদয়কেও হঠাৎই টেস্ট দলে ডেকেছেন হাবিবুল বাশার সুমন। লক্ষ্য খুব পরিষ্কার। টেস্টে প্রতিপক্ষ বোলাররা চেপে ধরলে যেন তারা দুজন কাউন্টার অ্যাটাক করতে পারেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, তানজিদ তামিম আর তাওহীদ হৃদয় দু’জনই চালিয়ে খেলতে পারেন এবং সাম্প্রতিক সময় ঘরোয়া ক্রিকেট ও দেশের বাইরেও দু’জনার ফর্মও ভালো। এসব বিবেচনায় বাঁ-হাতি ওপেনার তানজিদ তামিম আর তাওহীদ হৃদয়কে টেস্ট দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কঠিন সত্য হলো, দুজনই টেস্ট অভিষেকে ভালো করতে পারেননি। এ বছর মে মাসে মিরপুরের শেরেবাংলায় পাকিস্তানের সাথে টেস্ট অভিষেক হয় তামিমের। কিন্তু নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব হয়নি। যথাক্রমে ৪ ও ২৬ রানে ফিরে যান এ বাঁ-হাতি ওপেনার। অবশ্য এবার অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ডারউইনে দ্বিতীয় টেস্টেই অনবদ্য শতরান (৩০৭ মিনিটে ১৯৭ বলে ১০১) করে তানজিদ তামিম দেখিয়ে দিয়েছেন, সাদা বলে চটকদার মার আর তেড়ে-ফুঁড়ে শটস খেলাই শুধু নয়, আমি টেস্ট ব্যাটিংটাও পারি। অন্যদিকে তাওহীদ হৃদয়কে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই তিনমাস আগে জুন মাসে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্ট অভিষেকে রান পাননি (৯ ও ৩) তাওহীদ হৃদয়। প্রথম টেস্টে ভালো করতে না পারায় তাকে আর অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট দলে রাখা হয়নি; কিন্তু তাতে হতাশ না হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ৪ দিনের আন-অফিশিয়াল টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরির অনন্য নজির ও দুর্দান্ত কৃতিত্ব দেখিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের বিপক্ষে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে পচেফস্ট্রমে দ্বিতীয় ৪ দিনের ম্যাচে ৪৮১ বলে ২৭ বাউন্ডারি আর ১০ ছক্কায় ৩৫০ রানে নট আউট থেকে একসঙ্গে অনেকগুলো রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন তাওহীদ হৃদয়। প্রথমত, তার আগে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের কোনো ভিনদেশি দলের বিপক্ষে দেশের বাইরে ট্রিপল সেঞ্চুরি ছিল না। হৃদয়ই প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার, যিনি ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে কোনো দেশের ‘এ’ দলের বিপক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরির কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছেন। তার ব্যাট থেকে আসা ৩৫০ রানের হার না মানা ইনিংসটাই ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান। হোক তা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সাথে। তারপরও এত দীর্ঘ ইনিংস, ট্রিপল সেঞ্চুরি আগে করতে পারেননি কেউ। এমন বিরল কৃতিত্বের পর হৃদয়কে নিয়ে হইচই পড়ে গেছে। তাকে টেস্ট দলে দেখা যাবে, হয়তো আফগানিস্তান আর দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে টেস্ট দলে দেখাও যেতে পারে। এমন কথা চারদিকে অনেকের মুখেই। কিন্তু লঙ্কান ‘টি-টোয়েন্টি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দুর্দান্ত খেলার পর কেন হঠাৎ হৃদয় ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গেলেন? সে প্রশ্নও অনেকের। তিনি সাদা বলে, মানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে অটো চয়েজ। নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। ওয়ানডে ভাইস ক্যাপ্টেন। এক টেস্ট খেলে অস্ট্রেলিয়া সফরে আর সুযোগ পাননি। তারপরও কেন, কী কারণে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে গেলেন? খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে এ প্রশ্ন। আজ ৬ সেপ্টেম্বর সকালে জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনেক নতুন কথা শুনিয়েছেন হৃদয়। জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে যাওয়ার ইচ্ছেটা একান্তই তার নিজের। তাওহীদ হৃদয় বলেন, ‘টু বি অনেস্ট, আমি নিজেই যেচে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে ৪ দিনের আন-অফিশিয়াল টেস্ট ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম।’ সেটা কবে, কখন, কিভাবে? হৃদয়ের জবাব, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজে টেস্ট ডেব্যুতে আমি ভালো খেলতে পারিনি। দুই ইনিংসেই কম রানে সাজঘরে ফিরি। এক কথায় টেস্ট অভিষেকে আমি নিজেকে মেলে ধরতে পারিনি। সেই ভালো খেলতে না পারার পরপরই মনে হলো আমাকে সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজে দলে রাখা হবে না। ঘুরিয়ে বললে হয়তো আমি অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট সিরিজে দলে নাও থাকতে পারি। তখন সেকেন্ড ইনিংসে আউট হওয়ার পর আমি ড্রেসিং রুমে কোচ সালাউদ্দীন ভাইকে বলি, ভাই স্যার, আমি একটা চিন্তা করছি, যদি অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে দলে না থাকি, ন্যাশনাল টিমের কোনো খেলা না থাকে আর ইন্ডিয়া যদি আমাদের দেশে না আসে, তাহলে যেন আমাকে ‘এ’ টিমের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানো হয়। সে সফরে দুটি চারদিনের আন-অফিশিয়াল টেস্ট আছে, দক্ষিণ আফ্রিকান ‘এ’ দলের সাথে। আমি ওই ম্যাচ দুটি খেলতে চাই। স্যার, আমাকে নিয়ে যদি আপনাদের মানে টিম ম্যানেজমেন্ট তথা সিলেক্টরদের কোনো ফিউচার প্ল্যান থাকে, তাহলে আমার নিজেরও তৈরি হওয়া দরকার। আমি অনেকদিন লঙ্গার ভার্সন খেলিনি। আমার ফার্স্টক্লাসে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি আছে। কিন্তু সেগুলো অনেক আগে। তাই চাচ্ছিলাম দীর্ঘ পরিসর ক্রিকেটে নিজেকে একটু ঝালিয়ে নিতে। নিজের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিতে। আমি নিজেও লং ইনিংস খেলার ধৈর্য, সংযম বাড়ানোর তাগিদ অনুভব করেছি। তারপর সালাউদ্দীন স্যারের সাথে ডিসকাস করে, দেন আমি সিলেক্টরদের বলেছি। আমি নিজে থেকেই সিলেক্টরদের বলেছি। এরপর চিফ সিলেক্টর হাবিবুল বাশার সুমন ভাইয়ের সাথে কথা হয়ে গেল। এটাই ছিল আমার প্রথম প্ল্যান। যদি আপনারা অ্যালাউ করেন, তাহলে দেশে প্র্যাকটিসের বদলে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে চাই। তারা আমাকে সুযোগ করে দেন।’ কিন্তু আপনিতো দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের সাথে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি। সেটা কেন? তাওহীদ হৃদয়ের উত্তর, ‘আমার প্রথম চারদিনের ম্যাচটিও খেলার খুব ইচ্ছে ছিল। দ্বিতীয়টা খেলতে পেরেছি। প্রথম ম্যাচ খেলতে না পারার বিশেষ কোনো কারণ নেই। আমি শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর খেলে দেশে ফিরে সেদিনই বোর্ডে পাসপোর্ট জমা দেই; কিন্তু ইন্ডিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ভিসা প্রসেস হতে দেরি হওয়ায় যেতে দেরি হয়। আমার প্রথম ম্যাচ মিস হয়ে যায়।’ এআরবি/আইএইচএস
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>