বিজ্ঞাপন
গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে ১০০ টাকারও বেশি। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। দাম বাড়ায় কমেছে বেচাকেনা, আর ক্রেতাদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বিক্রেতাদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, কাঁচামালের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ বেড়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর শুল্ক বাড়ার মতো বিষয়ও উৎপাদন ব্যয়ে চাপ তৈরি করছে।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাসের ব্যবধানে চামচ পটের ডজন ৭০ থেকে ৯৫ টাকা, ছোট গোল জালি ৬৫ থেকে ৯৫ টাকা, ছোট বালতি ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং বড় বালতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে। নামী কোম্পানির বড় বালতির দাম ১৮০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা।
এছাড়া ছোট বক্সের ডজন ৭০ থেকে ৯০ টাকা, বড় বক্স ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, মোড়া ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, গামলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, নামী কোম্পানির গামলা ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, বদনা ৩৫ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্লাস্টিক ব্যাংকের দাম ৬০ থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।
একইভাবে মগের দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা, ডাল চামচ ৩০ থেকে ৫০ টাকা, ক্লাসিক মগ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঝুড়ি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সাবানের কেইস ১৫ থেকে ৩০ টাকা এবং রুটি জালির ডজন ২০ থেকে ৩০ টাকা হয়েছে। বিড়ালের ঝুড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ময়লার ডাস্টবিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, প্লাস্টিকের ঝাড়ু ১৬০ থেকে ২৩০ টাকা, রেক ৫৩০ থেকে ৬৫০ টাকা, প্লাস্টিকের ডালা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং চেয়ার ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নাম্বার রেলগেইট এলাকার জুনায়েদ হার্ডওয়্যারের ম্যানেজার হাসিব আকবর বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিকের প্রত্যেকটি পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে। এতে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। কিছুদিন আগেও যে পণ্য ৪০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন সে পণ্য ৫৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়।
তিনি বলেন, দাম বাড়ার কারণে ক্রেতারা দাম শুনে চলে যায়। প্রত্যেকটি পণ্যের দাম এমনভাবে বেড়েছে ক্রেতারা বিশ্বাসই করতে চান না। ক্রেতাদের বুঝানো যায় না। প্রত্যেকটি পণ্যেরই দাম বেড়েই চলছে। প্লাস্টিকের এমন কোনো পণ্য নেই যেটার দাম বাড়েনি।
আরেক ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই প্লাস্টিক পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ৫০ টাকার একটি পণ্য এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে ২০ টাকায় কেনা একটি পণ্য ৩০ টাকায় বিক্রি করলেও এখন সেটিই ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে ব্যবসা করে আগের মতো লাভ থাকছে না।
শহরের আজমেরীবাগ এলাকার স্বর্ণা ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক মোজাম্মেল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্যের দাম ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম আরও বেশি বেড়েছে। এতে আগের মতো বেচাকেনা নেই। লাভও কমে গেছে। কোনো কোনো দিন লোকসানও হচ্ছে।’
একটি প্লাস্টিক কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা বলেন, ডলারের ওঠানামার কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। দেশের বাইরে থেকে পণ্য ও কাঁচামাল পরিবহনের খরচ বেড়েছে। সেই বাড়তি খরচের প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে। এতে বাজারে কেনাবেচার অবস্থাও খারাপ যাচ্ছে।
বিভিন্ন কোম্পানির প্লাস্টিক পণ্যের ডিলার অপু রয় জাগো নিউজকে বলেন, ‘বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। প্রত্যেকটি পণ্যের দাম বাড়ছে। কোম্পানিগুলো বলছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবার দেশের বাইরে থেকে কাঁচামালও আনা যাচ্ছে না। এসব কারণে দাম বেড়েই চলছে।’
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার রোড ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও বিসমিল্লাহ ক্রোকারিজ স্টোরের প্রোপ্রাইটর এ কে আজাদ বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় থেকেই বিভিন্ন পণ্যের দামে প্রভাব পড়তে শুরু করে। তবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় প্রভাব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক পণ্যের কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, আগে ৬০ টাকায় কেনা একটি জগ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হতো। এখন সেই পণ্যই কিনতে হচ্ছে ৯০ টাকায়। একইভাবে ৩০ টাকার মগ এখন ৪৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে বলে সরবরাহকারীরা জানাচ্ছেন।
এ কে আজাদ আরও বলেন, ব্যবসায় লাভের পরিমাণ কমলেও ব্যাংকের মুনাফার হার কমেনি, বরং বেড়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্সের পরিমাণও বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
তবে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/কেএইচকে
বিজ্ঞাপন