বিজ্ঞাপন
সবজি চাষের ভরা মৌসুমে মেহেরপুরে সার সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক কৃষককে ডিলারের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ খোলা বাজার থেকে বাড়তি দামে সার কিনে জমিতে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফসলের উৎপাদন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
মেহেরপুর সদর উপজেলার শেখপাড়ার কৃষক বাবুল পারভেজ এবছর ৫ বিঘা জমিতে কলা, ৭ বিঘায় পেঁয়াজ, ১০ বিঘায় কপি এবং আরও ৭ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। সবজি ও অন্যান্য ফসলের আবাদ ভালো রাখতে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হচ্ছে।
কিন্তু প্রয়োজনীয় সার কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এই কৃষক। তার অভিযোগ, ডিলারের গোডাউনে গিয়ে বারবার চাহিদামতো সার না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। তার দাবি, যাদের আবাদ নেই, তাদেরও অনেক সময় সার দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রকৃত কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।
বাবুল পারভেজ বলেন, জমিতে সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন। ডিলারের কাছ থেকে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে। সেখানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
শুধু বাবুল পারভেজ নন, জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও একই ধরনের অভিযোগ করছেন।
আরেক কৃষক ফিরোজ আলী এ বছর সাত বিঘা জমিতে পেঁয়াজ এবং পাঁচ বিঘা জমিতে কপি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জমি প্রস্তুতের সময় প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনিও সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান।
তার অভিযোগ, ডিলারদের কাছে গেলে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে খোলা বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনের আগেই খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে সার কিনতে হলে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কৃষক মেগা খান জানান, এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুতের সময় প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ডিলারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হয়েছে। সেখানে প্রতি বস্তা সারের জন্য অতিরিক্ত তিন থেকে চারশো টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
কৃষকদের অভিযোগ, চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময় সার নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন ছোট ও মাঝারি কৃষকরা। কারণ বাড়তি দামে সার কিনলে তাদের উৎপাদন খরচ যেমন বাড়বে তেমনি বাজারে ফসলের দাম কম থাকলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকবে।
কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে মেহেরপুর সার ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম থাকায় সাময়িকভাবে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমানে জেলায় সারের তীব্র সংকট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বরাদ্দ ও সরবরাহের মধ্যে সাময়িক সমন্বয়হীনতার কারণে কোথাও কোথাও কৃষকদের চাহিদামতো সার দিতে সমস্যা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী শাহনেয়াজ জানান, বাজারে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ডিএপি ও ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৪৯১ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা তদারকি করা হচ্ছে।
আসিফ ইকবাল/এফএ
বিজ্ঞাপন