বিজ্ঞাপন
মালয়েশিয়ার কেলান্টান রাজ্যের সবুজ প্রান্তর, নারকেল আর রাবার বাগানের ফাঁকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া কেলান্টান (ইউএমকে)। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভেটেরিনারি শিক্ষার উজ্জ্বল ঠিকানা। আধুনিক গবেষণাগার, প্রশস্ত ক্লিনিক্যাল কমপ্লেক্স আর অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি বছরের পর বছর ধরে পরিণত হয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে। এই ক্যাম্পাসেই এবার পা রাখলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের একদল তরুণ চিকিৎসক।
নতুন যাত্রার শুরু
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ধরে দেশ ছাড়েন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের ৮ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ইউএমকেতে এক্সটার্নশিপের সুযোগ। ১৫ দিনের এই কর্মসূচিতে সময়সীমা বাড়তেও পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দরে বিদায়বেলার উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশার মিশ্র অনুভূতি নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. মোফাস্সের হোসেন মীম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা মালয়েশিয়ায় ইন্টার্নশিপ করতে যাচ্ছি। এমন আন্তর্জাতিক সুযোগ আমাদের পেশাগত দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি বিদেশের ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে তুলনামূলক জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে হবে বড় পাথেয়। তার প্রত্যাশা আগামী দিনেও যেন নিয়মিতভাবে এমন আন্তর্জাতিক ইন্টার্নশিপের দুয়ার খোলা থাকে।
আরও পড়ুন
নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে
যে কারণে বিদেশমুখী শিক্ষার্থীরা
অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খানের ভাষায়, শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর মূল লক্ষ্য তাদের আন্তর্জাতিক মানের ব্যবহারিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রোটোকল সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তারা সেখানে পাবে।’ দেশের প্রেক্ষাপটে এসব সুবিধা অনেকাংশে সীমিত থাকায় বিদেশের এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন সুযোগ পাবে।
একটি ধারাবাহিকতার নাম
এই ইন্টার্নশিপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গবির ভেটেরিনারি শিক্ষার একটি দীর্ঘ ও গর্বের ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম ব্যাচের ২৫ জন শিক্ষার্থী নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে, অষ্টম ব্যাচের ২১ জন নেপালের অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে, নবম ব্যাচের ৬ জন ইউএমকেতে এবং একই ব্যাচের আরও ১৩ জন নেপালের একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন। প্রতিটি ব্যাচের হাত ধরে যেন প্রসারিত হয়েছে গবির আন্তর্জাতিক পরিচিতির গণ্ডি।
একটি অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানের গল্প
দেশের বেসরকারি খাতে ভেটেরিনারি শিক্ষার সূচনা হয়েছিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত ধরেই। ২০১৬ সালের মে মাসে দেশের প্রথম ও একমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গবিতে চালু হয় ভেটেরিনারি শিক্ষা। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনে আসনসংখ্যা ছিল মাত্র ২৫টি, যা পরবর্তীতে বেড়ে দাঁড়ায় ৫০-এ। আজ পর্যন্ত এই অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছে ১১টি ব্যাচ। এখন দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার আকাশে ডানা মেলেছেন নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে।
আরও পড়ুন
শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর গবেষণার ১০টি মৌলিক ধাপ
কেলান্টানের ক্যাম্পাসে যখন এই তরুণ চিকিৎসকরা প্রাণীচিকিৎসার আধুনিক পাঠ নেবেন, তখন তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বহন করবে দেশের প্রত্যাশার ভার। দেশে ফিরে এই অভিজ্ঞতা দিয়েই তারা সমৃদ্ধ করবেন বাংলাদেশের পশুচিকিৎসা সেবার ভবিষ্যৎ।
লেখক: তাহমিদ হাসান, শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
এমআইএইচ
বিজ্ঞাপন