ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

দুই ট্রান্সফরমার পুড়ে বিদ্যুৎহীন ৮ গ্রাম

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পুড়ে গেছে ৩৭ দশমিক ৫ ও ১০ কেভিএ ক্ষমতার দুটি ট্রান্সফরমার। এতে বাঠইমুড়ি, কলতা, মাশাইল, শ্যামনগর, উভাজানীসহ আশপাশের প্রায় আটটি গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরপর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বাঠইমুড়ি বাজারের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমার দুটি পুড়ে যায়। এর মধ্যে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটিতে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে থাকা লতাপাতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের আওতায় বৈদ্যুতিক লাইনের আশপাশের গাছপালা পরিষ্কারের জন্য ৯০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও মাঠে মিলেছে ভিন্ন চিত্র। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে লতাপাতা। আর এর মধ্যেই বাঠইমুড়ি বাজারে পুড়ে গেছে ৩৭.৫ কেভিএ ও ১০ কেভিএ ক্ষমতার দুটি ট্রান্সফরমার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক লাইনের আশপাশের গাছপালা ও লতাপাতা পরিষ্কার করা হয়নি। অথচ এ কাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের ১০ কেভিএ একটি ট্রান্সফরমারের দাম ৮৮ হাজার ৭৮৬ টাকা এবং ৩৭. ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম দুই লাখ ২৮ হাজার ২৫৯ টাকা। আর বিভিন্নস্থানে লাগানো এসব ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আশপাশের গাছপালা পরিষ্কার রাখতে নির্ধারিত বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মে-জুন মাসে হরিরামপুর জোনাল অফিসের আওতায় বৈদ্যুতিক লাইনের আশপাশের গাছপালা পরিষ্কার করার জন্য ব্যয় করা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, বাঠইমুড়ি বাজারের মধ্যে একটা বৈদ্যুতিক খুঁটির মধ্যে দুইটি ট্রান্সফরমার বৈদ্যুতিক লাইনহীন অবস্থায় ঝুলে আছে এবং একটি ট্রান্সফরমারের একটি অংশ পুড়ে গেছে। তার নিচেই বাঠইমুড়ি মাজার থেকে বরাদ্দ কৃত দুইটি দোকান ঘর রয়েছে। বাজার থেকে পশ্চিম দিকে একটু সামনে গেলেই স্থানীয় বাসিন্দা আফসার মোল্লার বাড়ির পাশের দুইটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মধ্যে লতাপাতা পেচানো অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়রা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই এসব লতাপাতা বৈদ্যুতিক লাইনে পেঁচানো রয়েছে। এতে যে কোনো সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এভাবেই জড়িয়ে আছে লতাপাতা/ ছবি- জাগো নিউজ বাঠইমুড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মো. জাবেদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক অসুবিধা হয়। আমরা বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো কাজ করতে পারি না। গত রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের সব কর্মচারীরা এসে ঘুরে গেছে। মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক রাব্বি বলেন, গত রাত থেকে কারেন্ট নাই, কোনো কাজ করতে পারছি না। শুনেছি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে। উপর আল্লাহ জানে কবে ঠিক হবে। বাঠইমুড়ি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের গ্রামের হৃদয় আহাম্মেদ বলেন, গত ছয়-সাত মাস ধরে তো ওই বৈদ্যুতিক খুঁটির মধ্যে লতা পাতা পেঁচিয়ে আছে। আমি এই ছয়-সাত মাসের মধ্যে কাউকে পরিষ্কার করতে দেখিনি। হরিরামপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হামিদুল হাসান বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লতাপাতা পেঁচিয়ে যাওয়ার কারণে লাইনের ত্রুটি হতে পারে। তবে বাঠইমুড়িসহ ওই এলাকায় যে ঘটনা ঘটেছে তা খুঁটির সঙ্গে যে লাইন নির্মাণ করি সেখানে কিছু নাটের ব্যবহার আছে সেই নাটের সঙ্গে দুই তার এক হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটেছে। মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌ. মো. গোলাম মোস্তফাকে বিষয়টি অবগত করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দুইজন কর্মকর্তাকে ডেকে বিষয়টি সরেজমিনে দেখে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। এসময় তিনি বলেন, কারো গাফিলতি পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মো. সজল আলী/এসজেডএইচ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>