বিজ্ঞাপন
‘এশিয়ার অলিম্পিক’ হিসেবে পরিচিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ অংশ নিয়ে আসছে ১৯৭৮ সাল থেকে। ১২ টি আসরে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অর্জন একটি স্বর্ণসহ ১৪ টি পদক। একমাত্র স্বর্ণ পদকটি এসেছিল ২০১০ সালে গুয়াংজুতে ক্রিকেটের সুবাদে। ২০২২ সালে চীনের হাংজুতে বাংলাদেশ পদকের তালিকায় নাম উঠিয়েছিল ক্রিকেটের কল্যাণেই। ছেলে ও মেয়েদের হাত ধরে এসেছিল দুটি ব্রোঞ্জ।
এশিয়ান গেমসের এই ছিটেফোটা সাফল্যের সিংহভাই ক্রিকেট আর কাবাডিতে। ১৪ পদকের ১৩ টিই এসেছে এই দুটি দলীয় ইভেন্ট থেকে। কাবাডিতে ৭ টি ও ক্রিকেটে ৬ টি। অন্য পদকটি বক্সিংয়ে-১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে এই পদকটি পেয়েছিলেন মোশারফ হোসেন।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের দুই শহর আইচি ও নাগোয়াতে অনুষ্ঠিতব্য ২০ তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী? সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) গেমস উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অংশ নিতে যাওয়া ২২ ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধি। তবে বিওএ কিংবা কোনো ফেডারেশন থেকে পদক জিততে পারার প্রত্যাশার কথা জোর দিয়ে বলতে পারেননি।
১৮৭ জন অ্যাথলেট ও ৭৩ জন কোচ-কর্মকর্তার এই গেমসে অংশ নিতে বাজেট প্রায় ২০ কোটি টাকা। ২৬০ জনের এই বিশাল বহরের জাপান যাত্রাটা আসলে লক্ষ্যহীনই। তাহলে কি কোনো আশা নেই? বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন ও বিওএর সহসভাপতি ইমরোজ আহমেদ বলেছেন, ‘গত গেমসে ব্রোঞ্জ পাওয়া ক্রিকেট এবং সেই সাথে আরচারি, শ্যুটিং ও কাবাডি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা আছে। তবে পদক পাওয়া যাবে কিনা সে নিশ্চয়তা তো নেই।’
গেমসে যাওয়ার আগে ম্যারাথন সংবাদ সম্মেলন। যেখানে কোনো আশার কথা নেই। নানা বিতর্ক, অনুশীলন স্বল্পতা এবং অপ্রয়োজনীয় লোকজনের ভ্রমন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কর্মকর্তা হয়ে কোচ সেজে যাওয়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে শেফ দ্য মিশনকে। তিনি ঘোষণা করেছেন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের মার্চপাস্টে পতাকা বহন করবেন শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী আর কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। তবে মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের জন্য সর্বাধিক ৬৫ জনের দল বেঁধে দিয়েছে আয়োজকরা।
যে ২২ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ সেখানে বেশি ক্রীড়াবিদ হকিতে। পুরুষ ও নারী দল মিলিয়ে অ্যাথলেট ৩৬ জন। ক্রিকেটে আছেন নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৩০ জন এবং কাবাডিতে ২৪ জন। এই বিশাল বহরের এশিয়ান গেমেস অংশ নেওয়ার বাজেট প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৪ কোটির কিছু বেশি ট্রেনিংয়ে।
বাংলাদেশের ২২ ডিসিপ্লিন
আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফুটবল, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, হকি, জুডো, কাবাডি, কারাতে, শ্যুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু।
আরআই/আইএন
বিজ্ঞাপন