বিজ্ঞাপন
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও লোডশেডিং কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক। ২০২৩ সালের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুনে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হলেও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্রোথ যখন হতে থাকে, তার সঙ্গে তালমিলিয়ে বিদ্যুতের ডিমান্ডও বাড়ে। এটা একটা বেসিক। ২০২৩ সালের জুনের চাইতে এখনকার জুনে বিদ্যুতের ডিমান্ড বেশি। কিন্তু লোডশেডিং কম।
তিনি জানান, জুলাই মাসের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি ছিল। তবে আগস্টে বিভিন্ন ঘটনার কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়ছে
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের সময়ে এ কর্মসূচি পাঁচ মাস বিতরণ করা হতো। ২০২১-২২ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ৫০ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৪৫ লাখে নামানো হয়।
চলতি অর্থবছরে কর্মসূচির মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যা ৫৫ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে বছরের অর্ধেক সময় উপকারভোগীরা এ কর্মসূচির সুবিধা পাবেন।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) মধ্যে এ প্রকল্পে ১০০৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতেই গ্যাসের পাশাপাশি ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। এ কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
তবে প্রকল্পটি কবে নাগাদ শেষ হবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তিনি। তবে প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
সারের মজুত চাহিদার চেয়ে বেশি
দেশে সারের মজুত নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট সারের মজুত ১২ লাখ ২৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন।
তিনি বলেন, আমাদের বেশি মজুত আছে। এখন পর্যন্ত আগামী পুরো অর্থবছরে যে মোট চাহিদা আছে, তার তুলনায় বেশি পরিমাণ জোগান আমাদের হাতে এবং আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে।
তবে দেশের কিছু এলাকায় বিতরণগত সমস্যা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, মজুতের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।
৬১ শুল্কবহির্ভূত বাধার ৪৮টির সমাধান
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ইইউ’র চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ। বাকি বাধাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এগুলো সমাধান হলে দেশের রপ্তানি আরও বাড়বে।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিদ্যুতের দাম নিয়ে প্রশ্নের প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়; একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
তিনি জানান, বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বৈঠক হয়েছে। এতে বিভিন্ন অংশীজন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য প্রায় ২৫ টাকা দামের বিষয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কিংবা এলএনজির দাম বেশি থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ২২-২৩ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তবে বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শহরের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত হবে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক
ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং তাদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে সম্প্রতি ছোট ছোট ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা ঢাকায় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা জানাচ্ছেন। এ কারণে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে স্বেচ্ছাসেবকদের ডাটাবেজ তৈরি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু অর্থায়নে ২৫ সদস্যের জাতীয় কমিটি
জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে ২৫ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী থাকবেন সহ-সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু অর্থায়নের বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমকেও ভবিষ্যতে কার্বন ট্রেডিংয়ের আওতায় আনার চেষ্টা করা যেতে পারে।
পাঁচদিনে বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ৩১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের তথ্যও দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি জানান, ওই সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ ১২০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৩০ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ১২ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ৬৩৪ গ্রাম হেরোইন ও ১ হাজার ২০৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে র্যাব ৮৫টি অস্ত্র, ২ দশমিক ৮০৮ কেজি হেরোইন, ১ হাজার ৪৯৯ বোতল ফেনসিডিল, ৫৮৭ কেজি গাঁজা এবং ২ লাখ ২২ হাজার ৩৮৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
এছাড়া বিজিবিও অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিয়মিত কাজ সফলভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুট বা চুরির যে ঘটনা ঘটেছিল, সেসব অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার প্রত্যাশা রয়েছে।
এমএএস/ইএ
বিজ্ঞাপন