সাপার ক্লাব মূলত এমন একধরনের ডাইনিং, যেখানে খাবারকে কেন্দ্র করে গল্প, আড্ডা ও নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ হয়। এখানে সীমিত অতিথি থাকে এবং উদ্যোক্তাদের নির্বাচিত মেনুকে ঘিরে তৈরি হয় এক নতুন অভিজ্ঞতা।
বাইরে খেতে যাওয়া মানেই রেস্তোরাঁয় গিয়ে পছন্দের খাবার খাওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের সংস্কৃতি নিয়ে গড়ে উঠছে নিত্যনতুন উদ্যোগ। বর্তমান সময়ে তেমনই এক জনপ্রিয় ধারা সাপার ক্লাব।
সেখানে শুধু কী খাচ্ছেন, তা নয়; কোথায়, কার সঙ্গে এবং কী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাপার ক্লাব মূলত এমন একধরনের ডাইনিং, যেখানে খাবারকে কেন্দ্র করে গল্প, আড্ডা ও নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ মেলে।
এখানে গিয়ে হাজির হলেই খাবার পাওয়া যায় না; বরং আগে থেকে বুকিং দিতে হয়। আপনাকে জানানো নির্দিষ্ট সময়ে যেতে হবে। সেখানে সীমিত অতিথি এবং রেস্তোরাঁ দ্বারা পরিকল্পিত মেনুকে ঘিরে তৈরি হয় এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
আধুনিক সাপার ক্লাব ধারণাটি এসেছে মাত্র এক শ বছর। সাধারণ ভাষায় সাপার ক্লাব এমন একটি ধারণা, যেখানে খাবার খাওয়া ছাড়াও আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ মেলে।
এখানে সাধারণত কোনো রাঁধুনি বা খাদ্যপ্রেমী ব্যক্তি নিজের বাড়িতে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য নানা রকম খাবার ও বিনোদনের আয়োজন করেন। সাপার ক্লাবে খাবার টেবিলের জায়গাটা অনেক সময় নির্দিষ্ট থিমে পরিপাটি করে সাজানো হয়। পেছনে বাজতে থাকে হৃদয় জুড়ানো কোনো গান।
কিছু পরিচিত অথবা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, জানাশোনা আর এমন কিছু খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হয়; যা বিশেষভাবে তাঁদের জন্যই তৈরি করা।
পরিবেশ এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটিই পুরো আয়োজনে অতিথিদের বিশেষ ফিল করায়। বেশির ভাগ সময় সাজসজ্জায় একটি থিম থাকে। অতিথির সংখ্যাও সীমিত থাকে। কারণ, এসব আয়োজন কোনো রেস্তোরাঁয় নয়, কারও ডাইনিংরুম, উঠান কিংবা ছাদে হয়।
তাই মন চাইলেই সেখানে ঢুকে পড়া যায় না। আগে থেকে বুকিং দিয়ে তারপর যেতে হয়। হোস্ট খাবারগুলো তৈরি করেন এবং কেন সেটি বিশেষ, সেসব বর্ণনা করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসে লরেন্স ফ্রাঙ্ক নামের এক ব্যক্তি প্রথম আনুষ্ঠানিক সাপার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা যায়। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেখানে এমন একটি অভিজাত পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সব শ্রেণির মানুষ নির্দিষ্ট মূল্যে মাল্টি-কোর্স ডিনার ও ককটেল উপভোগ করতে পারবেন।
এভাবেই ধারণাটি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ফরম্যাটে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাপার ক্লাবের স্বর্ণযুগ ধরা হয় গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়টাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউরোপ–আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এক শ্রেণির ব্যক্তিরা এই সাপার ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন।
সন্ধ্যা হলেই পুরুষেরা স্যুট–বুট পরেন, নারীরা গাউনের মতো অভিজাত পোশাকে রওনা হতেন সাপার ক্লাবে। এরপর শুরুতে আড্ডা দিতে দিতে নানা রকম পানীয় খেতেন। দ্বিতীয় ধাপে মোমবাতি জ্বালানো, ফুলে সাজানো পরিপাটি টেবিলে বসে নানা রকম মুখোরোচক খাবার খেতেন। শেষ পর্বে থাকত গান ও তার সঙ্গে নাচের আয়োজন। অতিথিরা সেখানে অংশ নিয়ে বাড়ি ফিরতেন গভীর রাতে।
১৯৭০ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে বাসার খাবারে অভ্যস্ত হয়ে মানুষ সাপার ক্লাবে যাওয়া কমিয়ে দিতে থাকে। তবে নতুন শতাব্দীতে এক দশক পর আবার বিশ্বজুড়ে সাপার ক্লাবের জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। এখন মূলত সমাজের বিশেষ একটি শ্রেণি এ ধরনের অভিজ্ঞতা নিতে সাপার ক্লাবে যাচ্ছে।
কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশেও সাপার ক্লাব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তবে এখানকার সাপার ক্লাবের আয়োজন ভিন্ন। এখানে বাংলাদেশি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে খাবারের ভিন্নতা এবং অতিথিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন তৈরির ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে যেসব সাপার ক্লাব আছে তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে অনিয়মিতভাবে চট্টগ্রামের একজন রাঁধুনি এই বছরের শুরুর দিকে সাপার ক্লাবের (৩টি) আয়োজন করেছেন।
সূত্র: সুলিভান সাপার ক্লাব, থার্ড কোস্ট সাপার ক্লাব ও দ্য টেলিগ্রাফ (ইন্ডিয়া)
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>