জাতীয়

২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান দেশে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ৭১ বিধিতে নোটিশটি দেন। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫, নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আরও পড়ুন তীব্র লোডশেডিংয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হুইলিং চার্জ, ক্রস সাবসিডি চার্জসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা মতামত দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নোটিশের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এই চাহিদা বিবেচনায় আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ ও ৯ কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বিবেচনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানি বিদ্যুৎ, ভাসমান সৌর ও এগ্রিভোলটাইকসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটাতে ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’: প্রতিমন্ত্রী সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও স্ট্রাকচারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যে কর সুবিধা দিয়ে মাত্র ১ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র আমদানিকারকদেরও এ খাতে যুক্ত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের আগামী ছয় মাসের জন্য কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত আমদানি করা যন্ত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং প্রগ্রেসিভ আয়কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন এবং নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, সরকার তাদের কাছ থেকে আকর্ষণীয় মূল্যে বিদ্যুৎ কিনবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। তিনি বলেন, সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা ২০২৬ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বিধিমালা ২০২৫ জারি করা হয়েছে। এমওএস/এমএমকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>