জাতীয়

এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে শিক্ষাবোর্ড। একটি বিষয়ে খাতায় প্রাপ্ত নম্বর শূন্য থাকলেও প্রকাশিত ফলাফলে ওই বিষয়ে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু একটি বিষয় নয়, পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা তিনটি বিষয়ের খাতাতেই নম্বরের অমিল পাওয়া যায়। পরে ওই শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিষয়ের উত্তরপত্র যাচাই করা হলে সেখানেও খাতায় পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের পার্থক্য ধরা পড়ে। সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট পুনঃনিরীক্ষণ কার্যক্রমের সময় একজন পরীক্ষক পদার্থবিজ্ঞানের একটি উত্তরপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান যে, খাতায় প্রাপ্ত নম্বর শূন্য, অথচ প্রকাশিত ফলাফলে সেখানে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়। বিষয়টি উপ–পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল মন্নান জানতে পেরে কম্পিউটার সেন্টারের ডাটার সঙ্গে উত্তরপত্রের নম্বর মিলিয়ে দেখেন। সেখানেও অমিল ধরা পড়ে। এরপর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বিষয়টি লিখিতভাবে বোর্ড চেয়ারম্যানকে জানান। আরও পড়ুন এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার, জানা যাবে যেভাবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সেদিনই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। সূত্র জানিয়েছে, বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষার্থী প্রকৃতপক্ষে মাত্র একটি বিষয়ে পাস করেছিলেন। অথচ প্রকাশিত ফলাফলে তিনি জিপিএ–৪ দশমিক ৯৪ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হন। প্রকাশিত ফলাফলে বাংলায় (উভয় পত্র) ‘এ মাইনাস’ পেয়ে ১২০, রসায়নে ‘এ’ পেয়ে ৭৮ এবং আইসিটিতে ‘এ’ পেয়ে ৩৭ নম্বর দেখানো হয়। অন্য অধিকাংশ বিষয়ে ছিল ‘এ প্লাস’। পুনঃনিরীক্ষণের সময় তিন বিষয়ের নম্বরে অমিল ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর অন্যান্য উত্তরপত্রও তলব করা হয়। তদন্তে সেগুলোতেও নম্বরের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বাংলা প্রথমপত্র ছাড়া প্রায় সব বিষয়ের সৃজনশীল অংশের নম্বরে পার্থক্য রয়েছে। ওই শিক্ষার্থী পদার্থবিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিল বলে শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে তারা প্রকাশিত ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেননি। আরও পড়ুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি কমাতে ৩ দিনের আলটিমেটাম ঘটনার তদন্ত চলছে বলে উল্লেখ করে সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফলাফল শিক্ষাবোর্ডের সার্ভার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমে যেন ওই শিক্ষার্থী আবেদন করতে না পারেন সেজন্য ফলাফল সরিয়ে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইএন নম্বরের বিপরীতে প্রকাশিত ফলাফলেও ওই শিক্ষার্থীর রোল নম্বর এখন আর দেখা যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত রোল নম্বর দিয়েও ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ২৫ আগস্ট পুনঃনিরীক্ষণের সময়ই প্রথম অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলেও তিনি জানান। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমডিআইএইচ/কেএসআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>